শূন্য বাড়ির জানালা ( পর্ব ১ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 11 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000099787.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "শূন্য বাড়ির জানালা" এর প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো।শালবনপুর নামের ছোট্ট গ্রামটিকে দিনের আলোয় দেখলে মনে হতো, পৃথিবীতে এর চেয়ে শান্ত জায়গা আর নেই। গ্রামের একদিকে বিস্তীর্ণ ধানখেত, অন্যদিকে পুরোনো বটগাছের সারি। মাঝখান দিয়ে চলে গিয়েছে সরু পিচের রাস্তা, যে রাস্তা বর্ষাকালে কাদায় ডুবে যায় আর শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে হারিয়ে যায়। গ্রামের মানুষজন একে অপরকে চিনত বহু বছর ধরে। কার বাড়িতে কে অসুস্থ, কার ছেলে শহরে চাকরি পেয়েছে, কার মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে—সব খবরই প্রায় সবার জানা ছিল। সন্ধ্যা নামলে চায়ের দোকানে আড্ডা বসত, দূরের মন্দির থেকে ভেসে আসত ঘণ্টার শব্দ, আর রাত একটু গভীর হলে গ্রামের রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যেত।

কিন্তু এই শান্ত গ্রামের একেবারে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল একটি বাড়ি, যেটিকে ঘিরে মানুষের মনে বাসা বেঁধেছিল অদ্ভুত এক ভয়। বাড়িটির নাম কেউ জানত না। গ্রামের প্রবীণরা একে বলতেন মুখার্জিদের পুরোনো বাড়ি। কেউ কেউ বলতেন, একসময় এখানে গ্রামের সবচেয়ে ধনী পরিবারের বাস ছিল। বাড়ির মালিক ছিলেন অমিয়নাথ মুখার্জি- একজন শিক্ষিত, গম্ভীর এবং অত্যন্ত রহস্যময় মানুষ। প্রায় পনেরো বছর আগে এক বর্ষার রাতে অমিয়নাথ, তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী এবং তাঁদের একমাত্র মেয়ে অনন্যা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান। কেউ বলেছিল, তাঁরা শহরে চলে গিয়েছিলেন। কেউ বলেছিল, পারিবারিক বিবাদের কারণে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ ফিসফিস করে বলত, সেই রাতে বাড়ির ভিতরে এমন কিছু ঘটেছিল, যার কথা গ্রামের মানুষ আজও মুখে আনতে ভয় পায়।

কিন্তু সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার ছিল অন্য কিছু। পরিবারটি নিখোঁজ হওয়ার পর বাড়িটি আর কখনও খোলা হয়নি। মূল দরজায় মোটা লোহার তালা ঝুলত। উঠোনের আগাছা কোমরসমান হয়ে উঠেছিল। দেওয়ালের গায়ে বট-অশ্বত্থের শিকড় নেমে এসেছিল। ছাদের একাংশ ভেঙে পড়েছিল বহু বছর আগে। জানালার কাঠ পচে কালচে হয়ে গিয়েছিল। বাড়িটি যেন ধীরে ধীরে গ্রামের মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছিল। তবু গ্রামের মানুষ বাড়িটিকে পুরোপুরি ভুলতে পারেনি। কারণ, প্রতি অমাবস্যার রাতে বাড়িটির দোতলার উত্তর দিকের একটি জানালায় আলো জ্বলতে দেখা যেত। জানালাটি ছিল বাড়ির সবচেয়ে বড় জানালা। তার কাঠের পাল্লা দুটি অর্ধেক ভাঙা, আর মাঝখানে মরচে ধরা লোহার শিক।

দিনের বেলায় জানালাটিকে দেখে মনে হতো, সেখানে বহু বছর ধরে কেউ হাতও দেয়নি। কিন্তু রাত বারোটার পর কখনও কখনও সেই জানালার ভিতরে হলদে আলো দেখা যেত। আলোটি কখনও স্থির থাকত, কখনও ধীরে ধীরে একপাশ থেকে অন্যপাশে সরে যেত। যেন কেউ ঘরের ভিতরে হাতে লণ্ঠন নিয়ে হাঁটছে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় ছিল, আলোটি দেখা যাওয়ার পর প্রায়ই শোনা যেত জানালার পাল্লা খোলার শব্দ। ক্যাঁচ...তারপর দীর্ঘ নীরবতা। তারপর আবার-ক্যাঁচ...যেন ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ বাইরে তাকানোর জন্য জানালাটি খুলছে। গ্রামের লোকেরা বলত, ওই জানালার দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে নেই। কারণ, যে একবার সেই জানালার ভিতরে কাউকে দেখতে পেয়েছে, তার জীবনে নাকি অদ্ভুত কিছু ঘটেছে।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png



Sort:  

Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟