অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২৫ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 2 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000094786.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২৫ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- রফিকুল ধীরে বলল- তোর বাবা আমাকে থাকতে বলেছিলেন। কেন? কারণ কাউকে তোকে অপেক্ষা করতে হতো। অরিন্দম হঠাৎ সেই কথাটা মনে করল। রফিকুল বলেছিল- এবার তৃতীয়জনও ফিরবে। তারপর সেই লম্বা মানুষ বলেছিল- সে তো ইতিমধ্যেই ফিরেছে। অরিন্দম রফিকুলের দিকে তাকাল, তৃতীয়জন কে?রফিকুল এবার উত্তর দিল না। বরং তার বাবা বললেন- তুই। অরিন্দম থমকে গেল। আমি? হ্যাঁ। কিন্তু আমি তো দুজনকে দেখেছি! বাবা বললেন- দুজন অরিন্দম ছিল। কিন্তু তৃতীয়জন কোনো মানুষ নয়। তৃতীয়জন হলো- স্টেশনের তৈরি অরিন্দম।

অরিন্দমের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। মানে? বাবা বললেন- স্টেশন তোকে বাইরে পাঠানোর পরও তোর স্মৃতি ব্যবহার করে একটা নকল পরিচয় তৈরি করেছিল। সেই পরিচয় তোমার জীবনকে অনুসরণ করেছে। তোর ভয়, তোর ভুলে যাওয়া স্মৃতি, তোর অপরাধবোধ-সবকিছু দিয়ে সে নিজেকে তৈরি করেছে। অরিন্দম ফিসফিস করে বলল- তাহলে আমি যে এত বছর বেঁচে ছিলাম...? বাবা বললেন- তুই সত্যি ছিলি, কিন্তু সম্পূর্ণ ছিলি না। ১১:৪৭-এর আসল অর্থ-অরিন্দম ঘড়িটার দিকে তাকাল, কাঁটা এখনও ১১:৪৭। সে বলল- তাহলে সময়টা আসলে কী?বাবা বললেন- এটা সেই মুহূর্ত যখন তোর স্মৃতি আলাদা হয়েছিল। ১১:৪৭-এ তুই দুটো জীবনে ভাগ হয়ে গিয়েছিলি।

১১:৪৮-এ তুই বাইরে চলে গিয়েছিলি। আর তোর শৈশবটা থেকে গিয়েছিল এখানে। অরিন্দম ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রইল- তাহলে ঘড়িটা যদি ১১:৪৮-এ যায়...? বাবা বললেন- তাহলে বিভাজন শেষ হবে। অরিন্দমের বুক ধড়ফড় করতে লাগল। কীভাবে? বাবা কাঁচের শিশিটা তার হাতে দিলেন। তোর স্মৃতি ফিরিয়ে নিতে হবে। তাহলে? তাহলে তুই আর সে আলাদা থাকবে না। অরিন্দম ছোট্ট অরিন্দমের দিকে তাকাল। ছেলেটি শান্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তাহলে আমি কি চলে যাব? অরিন্দম বলল- না। আমি কি আবার ছোট হয়ে যাব? না। ছেলেটি মৃদু হাসল- তাহলে? অরিন্দম তার হাত ধরল- তুই আমার ভেতরেই থাকবি। স্টেশনের শেষ চেষ্টা, ঠিক তখনই পুরো স্টেশন কেঁপে উঠল। দেয়ালের ঘড়ি হঠাৎ দ্রুত ঘুরতে শুরু করল- ১১:৪৭, ১১:৪৮, ১১:৪৯, ১১:৫০, ১১:৫১, ১১:৫২।

তারপর- সব আলো নিভে গেল। অন্ধকারের মধ্যে একটা কণ্ঠ ভেসে এল। তুমি কি সত্যিই চলে যেতে চাও? অরিন্দম বুঝতে পারল- এটা স্টেশনের কণ্ঠ এবং কণ্ঠটা এবার পরিচিত। তার মায়ের মতো।অরিন্দম... অরিন্দম চোখ বন্ধ করল। কণ্ঠটা আবার বলল- আমি তোকে এত বছর অপেক্ষা করেছি। অরিন্দমের চোখে জল চলে এল- মা? ছোট্ট অরিন্দম তার হাত শক্ত করে ধরল। ওটা মা নয়। কণ্ঠটা বদলে গেল, এবার বাবার কণ্ঠ- অরিন্দম, ফিরে আয়। তারপর- রফিকুলের কণ্ঠ।চাবিটা ঘোরাও। তারপর- অরিন্দমের নিজের কণ্ঠ।তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি? ঘরের দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল। বাইরে অসংখ্য অরিন্দম দাঁড়িয়ে- কেউ শিশু, কেউ কিশোর, কেউ যুবক, কেউ বৃদ্ধ। কেউ কাঁদছে, কেউ হাসছে, কেউ চিৎকার করছে।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png