অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২৪ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২৪ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- লোকটি মৃদু হেসে বললেন- আমি তোকে বলেছিলাম, এখানে শরীর নিয়ে কেউ থাকে না। অরিন্দমের চোখে জল এসে গেল। আপনি তাহলে...? আমি আমার স্মৃতিটুকু নিয়ে এখানে আছি। কেন? বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, তোর জন্য।সেই রাতের সত্য, বাবা তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে গেলেন। ঘরের মধ্যে একটা পুরোনো টেবিল, একটা টেপ রেকর্ডার, দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ি।ঘড়িটা থেমে আছে- ১১:৪৭। অরিন্দম বলল- এই সময়টাই কেন? বাবা টেবিলের ওপর রাখা একটা ছোট্ট কাঁচের শিশি তুলে নিলেন। ভেতরে হালকা নীলচে আলো। কারণ এই সময়েই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
কী সিদ্ধান্ত? তোর মধ্যে থেকে কোন অংশটাকে আমরা বাইরে পাঠাব। অরিন্দম স্তব্ধ হয়ে গেল। আমি... আর ওই ছোট্ট অরিন্দম? বাবা মাথা নাড়লেন- হ্যাঁ। কিন্তু কেন? বাবা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন। সেদিন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, এই স্টেশনটা সাধারণ কোনো জায়গা নয়। এটা মানুষের স্মৃতি ধরে রাখে। যে এখানে বেশিক্ষণ থাকে, তার শরীরের চেয়ে আগে তার স্মৃতি আটকে যায়। তোর মা সেটা বুঝে গিয়েছিল। আমরা যখন পালাতে যাচ্ছিলাম, তখন স্টেশন আমাদের একটা শর্ত দিয়েছিল। অরিন্দম ফিসফিস করে বলল- কী শর্ত? বাবা বললেন-একজনকে রেখে যেতে হবে। ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। আমাকে? না। বাবার চোখ ভিজে উঠল।
আমরা কাউকেই রাখতে চাইনি। কিন্তু স্টেশন আমাদের বেরোতে দিচ্ছিল না। তখন তোর মা একটা উপায় খুঁজে পায়। অরিন্দম কাঁচের শিশিটির দিকে তাকাল। এইটা? এটা তোর স্মৃতি। আমার স্মৃতি? তোর জীবনের সেই অংশ যেটা স্টেশন ধরে ফেলেছিল। বাবা বললেন-আমরা তোর স্মৃতিকে দুটো ভাগ করেছিলাম। একটা অংশে ছিল তোর শৈশব, তোর মায়ের মুখ, আমার হাত ধরে হাঁটার স্মৃতি, সেই রাতের সত্য। আর অন্য অংশে ছিল সাধারণ জীবন- স্কুল, বড় হওয়া, মানুষের মতো বেঁচে থাকা। অরিন্দম ধীরে বলল- তাহলে আমি...তুই বাইরে গিয়েছিলি। বাবা থামলেন, কিন্তু তোর একটা অংশ এখানে থেকে গিয়েছিল। ছোট্ট অরিন্দম হঠাৎ ঘরের দরজায় শব্দ হলো- টক..টক। অরিন্দম ঘুরে তাকাল।
দরজায় দাঁড়িয়ে আছে সেই ছোট্ট ছেলেটি। আট বছরের অরিন্দম। ছেলেটি এবার হাসছে, তার চোখে আর কোনো ভয় নেই। এবার বুঝতে পেরেছ? অরিন্দম ধীরে ধীরে তার কাছে গেল। তুই তাহলে আমার স্মৃতি? ছেলেটি মাথা নাড়ল। শুধু স্মৃতি নই। তাহলে? তুই যে মানুষটা হতে পারতিস, আমি সেই মানুষটা। অরিন্দম চুপ করে রইল।ছেলেটি বলল- তুই বাইরে গিয়ে বড় হয়েছিস। আমি এখানে থেকে গেছি। তুই অনেক কিছু ভুলে গেছিস। আমি কিছুই ভুলিনি। অরিন্দমের চোখে জল চলে এল। তাহলে এত বছর ধরে তুই একা ছিলি? ছেলেটি মাথা নিচু করল, সবসময় না। কে ছিল তোর সঙ্গে? ছেলেটি পেছনে তাকাল। সেখানে দাঁড়িয়ে রফিকুল। কিন্তু এবার তার হাতে কালো ব্যাগ নেই। ধূসর টুপিটাও নেই। অরিন্দম তাকিয়ে রইল।...
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





