অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ৭ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 5 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000094786.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর সপ্তম পর্ব শেয়ার করে নেবো| নিচে লেখা- ১৭ অক্টোবর ২০০৪-এর রাতে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন নির্ধারিত রুট থেকে কয়েক মিনিটের জন্য অজ্ঞাত কারণে বিচ্যুত হয়। ট্রেনটি একটি পরিত্যক্ত স্টেশনের কাছে থামলেও রেল কর্তৃপক্ষ পরে দাবি করে, ওই স্টেশনটি বহু বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে এবং সেখানে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন থামার কথা নয়। সেই রাতে তিনজন যাত্রী নিখোঁজ হন- একজন পুরুষ, একজন মহিলা এবং আট বছর বয়সি একটি শিশু। অরিন্দমের হাত কাঁপতে শুরু করল। তার চোখ বারবার শেষ লাইনটিতে আটকে গেল। আট বছর বয়সি একটি শিশু। তারপর কাগজের নিচে একটি নাম- অরিন্দম সেন।

অরিন্দম কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে চেয়ারে বসে পড়ল। না... সে মাথা নাড়ল, এটা হতে পারে না। তার মনে পড়ছে- তার বাবা-মা মারা যান একটি সড়ক দুর্ঘটনায়। অন্তত তাকে এতদিন সেটাই বলা হয়েছে। তার মা-বাবার মৃত্যুর পর তাকে তার মামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই স্মৃতিটাই তার কাছে সত্যি ছিল, কিন্তু সংবাদপত্র বলছে- সে ২০০৪ সালে একটি ট্রেন থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। তাহলে এত বছর সে কোথায় ছিল? আর কীভাবে সে আবার নিজের জীবনে ফিরে এল? হঠাৎ ঘরের বাইরে পায়ের শব্দ হলো- ঠক...অরিন্দম মাথা তুলল। আবার- ঠক... ঠক...কেউ দরজার সামনে হাঁটছে। অরিন্দম দ্রুত খবরের কাগজটি পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল।

পায়ের শব্দ দরজার ঠিক সামনে এসে থেমে গেল। তারপর একটি কণ্ঠস্বর- অরিন্দম। সে কোনো উত্তর দিল না- দরজা খোলো। কণ্ঠস্বরটি সেই অচেনা লোকটির। অরিন্দম দরজার দিকে তাকিয়ে বলল- আপনি কে? বাইরে কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর উত্তর এল- তুমি আমাকে ভুলে গেছ। আমি আপনাকে চিনি না, চিনতে না পারাটাই তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যা। অরিন্দম দরজার কাছে গেল- আমার বাবা-মায়ের কী হয়েছিল? কিছুক্ষণ কোনো উত্তর নেই। তারপর লোকটি বলল- তোমার বাবা সত্যিটা জানতেন। কোন সত্যি? এই স্টেশন সম্পর্কে। অরিন্দমের বুক কেঁপে উঠল- আমার মা? তোমার মা সত্যিটা জানতে পারেননি। আর আমি? লোকটি খুব ধীরে বলল- তোমাকে সত্যিটা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। অরিন্দমের চোখ বড় হয়ে গেল- কে?

বাইরে দাঁড়ানো লোকটি উত্তর দিল না। তারপর বলল- দরজা খোলো, সময় শেষ হয়ে আসছে। অরিন্দম হাতল ধরল, কিন্তু দরজা খোলার আগে তার চোখ পড়ল দেয়ালের ঘড়িটির দিকে।
ঘড়িটি এতক্ষণ বন্ধ ছিল। এখন সেটি চলছে, কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছে- ১১:৪৯...১১:৫০...অরিন্দমের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। ঘড়ির কাঁটা যখন ১১:৫১-এ পৌঁছাল, তখন বাইরে থেকে প্রচণ্ড শব্দ হলো। কেউ যেন দরজায় আঘাত করল- ধাম! অরিন্দম পিছিয়ে গেল। আবার- ধাম! দরজার কাঠ কেঁপে উঠল। তারপর অচেনা লোকটির কণ্ঠস্বর আর শোনা গেল না। তার বদলে একজন মহিলার কণ্ঠ- খুব পরিচিত, খুব কাছের।অরিন্দম...অরিন্দমের বুকের ভেতর যেন সবকিছু থেমে গেল। এই কণ্ঠ সে চেনে, তার মায়ের কণ্ঠ- মা? অরিন্দম দরজার দিকে এগিয়ে গেল- মা, তুমি?....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png