অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ৯ )

in আমার বাংলা ব্লগ • yesterday
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000094786.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর নবম পর্ব শেয়ার করে নেবো| এরপর- ছেলেটি কোথায় গেল, অরিন্দম বুঝতে পারল না। কিন্তু তার ছায়া এখনও দরজার নিচ দিয়ে ভেতরে ঢুকছে। অস্বাভাবিক ভাবে লম্বা সেই ছায়া, একবার মনে হলো সেটা একটা শিশুর ছায়া।পরের মুহূর্তেই মনে হলো- না। এটা কোনো মানুষের ছায়া নয়। অরিন্দম ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল এবং তার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। দরজার বাইরে থেকে আবার সেই মহিলার কণ্ঠস্বর ভেসে এল- অরিন্দম... দরজাটা খোলো। এই কণ্ঠস্বর তার মায়ের, কিন্তু কিছুক্ষণ আগেই সেই ছোট ছেলেটি তাকে সতর্ক করেছে- ওটা তোমার মা নয়।অরিন্দমের মাথার ভেতর সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

সে চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইল। তারপর চোখ খুলে দেখল- ছায়াটি আর নেই। দরজার নিচে এখন কোনো আলোও নেই, ঘর আবার নিস্তব্ধ। শুধু টেবিলের ওপর রাখা পুরনো টেপ রেকর্ডারটি হালকা শব্দ করছে-ঘরর... ঘরর...। অরিন্দম ধীরে ধীরে টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। রেকর্ডারের ভেতরে ক্যাসেটটি এখনও ঘুরছে, কিন্তু হঠাৎ আবার শব্দ হলো। তার বাবার কণ্ঠ- যদি তুমি এটা শুনতে পাও, তাহলে তুমি ১৭ নম্বর ঘরে পৌঁছেছ। অরিন্দমের নিঃশ্বাস আটকে গেল। কিন্তু একটা কথা মনে রেখো... কণ্ঠটি কয়েক সেকেন্ড থেমে গেল। তুমি যে জিনিসটাকে তোমার স্মৃতি মনে করছ, তার সবটা সত্যি নয়। অরিন্দম টেবিলের ওপর হাত রাখল এবং রেকর্ডিং চলতে লাগল।

সেদিন রাতে তোমার মা তোমাকে নিয়ে পালাতে চেয়েছিল। আমি তাকে থামাতে পারিনি। কারণ ততক্ষণে তারা আমাদের খুঁজে পেয়েছিল। অরিন্দম ফিসফিস করে বলল- কারা? কিন্তু রেকর্ডিংয়ে কোনো উত্তর নেই। তারপর বাবার কণ্ঠ আবার শোনা গেল- স্টেশনে যখন ট্রেন থামবে, তখন তুমি একজন মানুষকে দেখতে পাবে, কালো কোট পরা। তার নাম রফিকুল, কিন্তু তাকে বিশ্বাস করবে না। অরিন্দম হঠাৎ চমকে উঠল। রফিকুল- ছবির পেছনে যে নামটি লেখা ছিল। স্টেশন মাস্টারের সহকারী। রেকর্ডিং চলতে লাগল- রফিকুল তোমাকে বলবে, সে তোমাকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাবে। কিন্তু সে মিথ্যা বলবে। কয়েক সেকেন্ড নীরবতা। তারপর বাবার কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে গেল।

তবে সবচেয়ে বড় বিপদ রফিকুল নয়, অরিন্দম নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনতে লাগল। সবচেয়ে বড় বিপদ...হঠাৎ রেকর্ডিংয়ে প্রচণ্ড শব্দ হলো- শোঁওওও...তারপর সবকিছু বন্ধ।অরিন্দম রেকর্ডারটি ঝাঁকিয়ে দেখল। কোনো লাভ হলো না, সে আবার প্লে চাপল। নীরবতা, শেষ।অরিন্দম হতাশ হয়ে চেয়ারে বসে পড়ল। সবচেয়ে বড় বিপদ কে? তার উত্তর কেউ দিল না। হঠাৎ তার চোখ পড়ল ঘরের দেয়ালের দিকে, কিছু একটা বদলে গেছে। দেয়ালের ডানদিকে যেখানে আগে শুধু পুরনো কাঠের প্যানেল ছিল, সেখানে এখন একটি কালো দাগ দেখা যাচ্ছে। অরিন্দম উঠে দাঁড়াল।দাগটির কাছে গিয়ে হাত রাখল, কাঠের প্যানেলটি নড়ে উঠল। সে চাপ দিতেই সেটি ভেতরের দিকে সরে গেল। পেছনে একটি ছোট গোপন তাক, তাকের মধ্যে একটি ফাইল।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png