অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ১৮ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ১৮ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- অরিন্দম উত্তর দিতে পারল না।লোকটি বলল- কারণ সেই স্মৃতিগুলোর বেশিরভাগই তোমার নয়। ছোট অরিন্দম এতক্ষণ চুপ করে ছিল। হঠাৎ সে বলল- ওকে সব বলো না।লম্বা মানুষটি তার দিকে তাকাল- কেন? কারণ ও এখনও প্রস্তুত নয়। অরিন্দম অবাক হয়ে ছোট ছেলেটির দিকে তাকাল। তুমি কী জানো? ছেলেটি মাথা নিচু করল- সব। তাহলে আমাকে বলো। পারব না। কেন? কারণ তুমি জানলে আমাকে মেরে ফেলবে, অরিন্দম স্তম্ভিত। আমি? ছেলেটি মাথা তুলল। তার চোখে অদ্ভুত এক ভয়। হ্যাঁ। আমি কেন তোমাকে মারব?
ছেলেটি উত্তর দিল- কারণ তোমার জীবনটা আমার কাছ থেকে নেওয়া। অরিন্দমের বুক কেঁপে উঠল- আমি তোমার জীবন নিয়েছি? ছেলেটি মাথা নাড়ল। তুমি ফিরে গিয়েছিলে। কীভাবে? ওরা তোমাকে নিয়ে গিয়েছিল। কারা? ছেলেটি লম্বা মানুষটির দিকে তাকাল- ও। অরিন্দম লোকটির দিকে তাকাল।আপনি? লোকটি বলল- আমি শুধু দরজা খুলে দিই। তাহলে আমাকে কে নিয়ে গিয়েছিল? লোকটি কোনো উত্তর দিল না। হঠাৎ করিডরের একদিক থেকে দৌড়ে আসার শব্দ হলো- ঠক... ঠক... ঠক...অরিন্দম ঘুরে দাঁড়াল। রফিকুল দৌড়ে আসছে, তার মুখে আতঙ্ক। অরিন্দম! এখান থেকে বেরিয়ে যাও! লম্বা মানুষটি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রফিকুল কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল- ওর সঙ্গে কথা বলো না।
অরিন্দম বলল- কে ও? রফিকুল উত্তর দিল না, আপনি এতদিন আমাকে কী লুকিয়েছেন? রফিকুল চুপ। আমার বাবা-মায়ের কী হয়েছিল? চুপ। আমি ২০০৪ সালে কীভাবে ফিরে গিয়েছিলাম? রফিকুলের চোখ নিচু হয়ে গেল। অরিন্দম এবার চিৎকার করে উঠল- বলুন! রফিকুল ধীরে ধীরে বলল- তোমার বাবা তোমাকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। কিসের থেকে? এই স্টেশন থেকে। কিন্তু কেন? রফিকুল বলল- কারণ এই স্টেশন শুধু ট্রেন থামায় না। তাহলে? এখানে মানুষের স্মৃতি থামে। অরিন্দম স্তব্ধ। রফিকুল বলল- যে মানুষ এই স্টেশনে আসে, তার জীবনের কিছু অংশ এখানে থেকে যায়। মানে? কেউ তার শৈশব রেখে যায়। কেউ তার স্মৃতি। কেউ তার ভয়।আর কেউ...রফিকুল ছোট অরিন্দমের দিকে তাকাল।
নিজেকেই রেখে যায়। অরিন্দমের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তাহলে ও? রফিকুল বলল- ও তোমার রেখে যাওয়া অংশ। ছোট অরিন্দম চোখ তুলে তাকাল। তার চোখে জল, আমি অংশ নই। রফিকুল বলল- তুমি পুরো মানুষ। ছেলেটি মাথা নাড়ল। আমি পুরো অরিন্দম। অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে সে বলল- ও-ও পুরো অরিন্দম। রফিকুল বলল- এই কারণেই সমস্যা। হঠাৎ লম্বা মানুষটি কথা বলল- তোমরা দুজনেই অরিন্দম। রফিকুল তার দিকে তাকাল- তুমি চুপ থাকো। লোকটি মৃদু হাসল- সত্যিটা তুমি যতদিন লুকিয়ে রেখেছিলে, ততদিন ও নিরাপদ ছিল। রফিকুল বলল- ওকে আমি নিরাপদে রেখেছি। তুমি? লোকটি হেসে উঠল। তুমি তো শুধু দরজা পাহারা দিয়েছ। রফিকুলের মুখ শক্ত হয়ে গেল। অরিন্দম বুঝতে পারল- এই দুজনের মধ্যে বহু বছরের কোনো সম্পর্ক আছে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





