অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ৮ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো| এরপর বাইরে থেকে কান্নার শব্দ এল- আমাকে এখান থেকে নিয়ে যা...অরিন্দম দরজা খুলতে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই টেবিলের ওপর থাকা পকেট ঘড়িটি নিজে থেকেই খুলে গেল। তার ভেতরে একটি ক্ষুদ্র ছবি, অরিন্দম আগে খেয়াল করেনি।সে ছবিটি হাতে নিল, ছবিতে তার মা। কিন্তু তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে- অরিন্দম নিজেই।একই বয়স, একই মুখ। কিন্তু ছবির পেছনে লেখা- ছবিটি তোলা হয়েছিল ১৭ অক্টোবর ২০০৪-এর ১১টা ৫১ মিনিটে। অরিন্দম ছবিটির দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেল। কারণ ছবির নিচের কোণে আরও একজন দাঁড়িয়ে আছে। কালো কোট পরা সেই লোকটি।
আর তার হাতে- একটি কালো ব্যাগ।অরিন্দমের হাত থেকে ছবিটি পড়ে গেল। বাইরে আবার মায়ের কণ্ঠ শোনা গেল- দরজা খোলো, অরিন্দম...সে এবার দরজার দিকে এগোল। কিন্তু ঠিক তখনই ঘরের অন্ধকার কোণ থেকে আরেকটি কণ্ঠস্বর ভেসে এল- ওটা তোমার মা নয়।অরিন্দম ঘুরে দাঁড়াল, ঘরের কোণে একজন দাঁড়িয়ে আছে। আট-নয় বছরের একটি ছেলে।ভেজা জামা, কাঁদামাখা পা এবং হাতে লাল রঙের খেলনা ট্রেন। অরিন্দম ছেলেটির দিকে তাকিয়ে রইল। ছেলেটিও তার দিকে তাকিয়ে আছে।তারপর ছেলেটি ধীরে ধীরে বলল- দরজা খুললে তুমি আবার হারিয়ে যাবে। অরিন্দমের গলা শুকিয়ে গেল- তুমি কে? ছেলেটি মৃদু হাসল। তুমি কি সত্যিই আমাকে চিনতে পারছ না?
অরিন্দম এক পা পিছিয়ে গেল। ছেলেটি খেলনা ট্রেনটি মাটিতে রেখে বলল- আমি সেই অরিন্দম... যে ওই রাতে ট্রেন থেকে নামেনি। ঘরের লণ্ঠনের নীল আলো হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠল। দেয়ালের ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল- ১১:৫১। আর দরজার ওপাশ থেকে এবার একসঙ্গে বহু মানুষের কণ্ঠ শোনা গেল- দরজা খোলো...। অরিন্দম বুঝতে পারল- ১৭ নম্বর ঘর শুধু কোনো পুরনো ঘর নয়। এটি এমন একটি জায়গা, যেখানে তার অতীত এখনও বেঁচে আছে। আর সেই অতীতের মধ্যে- আরেকজন অরিন্দমও আছে। ঠিক তখনই ঘরের টেবিলের ওপর থাকা পুরনো টেপ রেকর্ডারটি নিজে থেকেই চালু হয়ে গেল। কড়কড় শব্দের পর একটি পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এল। অরিন্দম সেই কণ্ঠ চিনতে পারল। তার বাবা, কণ্ঠটি বলছে- যদি তুমি এই রেকর্ডিং শুনতে পাও, তাহলে বুঝবে তুমি আবার স্টেশনে ফিরে এসেছ।
আর মনে রেখো-তোমাকে যে মানুষটি ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, তাকে কখনও বিশ্বাস করো না। এরপর রেকর্ডিং থেমে গেল। অরিন্দমের চোখ ধীরে ধীরে দরজার দিকে উঠল। দরজার বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে, সে এখন আর নিশ্চিত নয়। কিন্তু দরজার নিচ দিয়ে যে ছায়াটা দেখা যাচ্ছে, সেটি একজন মানুষের নয়।দুটি মানুষের, একটি বড় আর একটি ছোট। দুটো ছায়াই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আর ছোট ছায়াটি ধীরে ধীরে দরজার নিচ থেকে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসতে শুরু করল। দরজার নিচ দিয়ে ছোট ছায়াটা ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকে আসছিল। অরিন্দম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। তার সামনে কয়েক মুহূর্ত আগেও যে আট-নয় বছরের ছেলেটি দাঁড়িয়ে ছিল, সে এখন ঘরের এক কোণে নেই।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





