অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২০ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 15 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000094786.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২০ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- অরিন্দম জিজ্ঞেস করল, এটা কী?লোকটি বলল- স্মৃতি, স্মৃতি? তোমার। কীভাবে? যেদিন তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তোমার কাছ থেকে তোমার আসল স্মৃতি সরিয়ে রাখা হয়েছিল। কোথায়? লোকটি শিশিটির দিকে তাকাল। এখানে। অরিন্দম শিশিটি হাতে নিল, সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় প্রচণ্ড শব্দ হলো। সে আবার সেই রাত দেখতে পেল। কিন্তু এবার দৃশ্যটি আগের চেয়ে পরিষ্কার, ১৭ নম্বর ঘর। ছোট অরিন্দম চেয়ারে বসে, তার বাবা সামনে দাঁড়িয়ে। মা দরজায়। বাবা বলছেন- ওকে নিয়ে যেতে হবে। মা বলছেন- কিন্তু ওকে নিয়ে গেলে ও আর আগের মতো থাকবে না।

বাবা বলছেন- ওকে এখানে রেখে গেলে ও মানুষ থাকবে না। মা কাঁদছেন।তাহলে কী করব? বাবা বলছেন- দুজনের একজনকে বেছে নিতে হবে। মা অবাক, কী বলছ?বাবা উত্তর দিচ্ছেন- যে এখানে থাকবে, সে আমাদের ছেলে থাকবে। যে ফিরে যাবে, সে আমাদের ছেলের জীবন নিয়ে যাবে। মা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন- না... এটা করা যাবে না। ঠিক তখন দরজায় রফিকুল, তার পাশে লম্বা মানুষটি।বাবা বলছেন- তুমি কথা দিয়েছিলে। লম্বা মানুষটি বলছে- আমি কথা রেখেছি। বাবা ছোট অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে বলছেন- ভয় পাস না। ছোট অরিন্দম কাঁদছে। বাবা, তুমি কোথায় যাবে? বাবা তার মাথায় হাত রাখছেন' আমি ফিরে আসব।মা চিৎকার করে বলছেন- মাধব, না! হঠাৎ লম্বা মানুষটি হাত তুলছে। ঘরের আলো নিভে যাচ্ছে।

তারপর- দুটি অরিন্দম। একজন দরজার এপাশে, একজন ওপাশে। একজন কাঁদছে, অন্যজন চিৎকার করছে- বাবা! তারপর একটি ট্রেনের হুইসেল, ১১টা ৪৭ মিনিট। অরিন্দম হঠাৎ বর্তমান সময়ে ফিরে এল, সে হাঁপাচ্ছে। শিশিটি তার হাত থেকে পড়ে গেল। আমি...তার গলা শুকিয়ে গেছে।আমি দেখেছি। রফিকুল বলল- কী? সেদিন...সে ছোট অরিন্দমের দিকে তাকাল। আমাদের আলাদা করা হয়েছিল। ছোট অরিন্দম মাথা নাড়ল- হ্যাঁ, কিন্তু কেন? রফিকুল উত্তর দিল- কারণ তোমার বাবা জানতেন, তোমাদের দুজনকে একসঙ্গে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। অরিন্দম বলল- তাহলে কে ফিরে গেল? রফিকুল চুপ করে রইল। অরিন্দম আবার জিজ্ঞেস করল- আমি? রফিকুল বলল- হ্যাঁ। ছোট অরিন্দম মাথা নাড়ল-তুমি।

অরিন্দমের চোখে জল এসে গেল, তাহলে আমি আসল? ছোট অরিন্দম উত্তর দিল না। লম্বা মানুষটি বলল- আসল বলে কিছু নেই। অরিন্দম তাকাল- কী? তোমাদের দুজনের স্মৃতি আলাদা। কিন্তু জীবন? জীবন একটাই। তাহলে? লোকটি বলল- তোমরা দুজন একই মানুষের দুটি অসম্পূর্ণ জীবন। হঠাৎ দূরে ট্রেনের হুইসেল। রফিকুল চমকে উঠল- না... এখন নয়। অরিন্দম বলল- কী হয়েছে? শেষ ট্রেন আসছে। কোথায় যাবে? রফিকুল বলল- এই স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। তাহলে আমরা উঠব। তুমি একা। অরিন্দম ছোট অরিন্দমের দিকে তাকাল-ও?
রফিকুল বলল- ও যেতে পারবে না। ছোট অরিন্দম মাথা নিচু করল। অরিন্দম বলল- আমি ওকে রেখে যাব না। রফিকুল বলল- তাহলে তুমি-ও এখানে থাকবে।...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png