শূন্য বাড়ির জানালা ( পর্ব ৬ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 4 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000099787.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "শূন্য বাড়ির জানালা" এর ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- সে লোকটির নাম জিজ্ঞেস করল- বিমল দাস, উত্তর এল। অর্ণব তাঁর ঠিকানা নিয়ে নিল। পরে কথা বলবে বলে জানাল। দোকান থেকে বেরোনোর সময় নিতাই কাকা তাকে ডেকে বললেন- একটা কথা বলি, অর্ণব? বলুন। তোর বাবার কথা ওই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কি না, আমি জানি না। কিন্তু তোর বাবা একবার আমাকে বলেছিলেন, কোনোদিন যদি মুখার্জিদের বাড়ির উত্তর দিকের জানালা খোলা দেখতে পাই, যেন সেখানে দাঁড়িয়ে না থাকি। অর্ণব স্থির হয়ে গেল।আমার বাবা আপনাকে এ কথা বলেছিলেন? হ্যাঁ। তখন তোকে নিয়ে তোরা গ্রামে এসেছিলি। তোর

বয়স খুব বেশি হলে বারো-তেরো। অর্ণবের স্মৃতিতে অস্পষ্ট একটা ছবি ভেসে উঠল। গ্রামের একটি বিকেল। সে বাবার সঙ্গে হাঁটছে। দূরে পুরোনো বাড়িটা দেখা যাচ্ছে। বাবা হঠাৎ তার হাত ধরে রাস্তা বদলে নিয়েছিলেন। তখন সে কারণ জানতে চেয়েছিল। বাবা শুধু বলেছিলেন- ওই বাড়ির দিকে তাকাবি না। শৈশবের সেই কথাটা এতদিন তুচ্ছ মনে হয়েছিল। আজ তা যেন নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে এল। রাত আটটার মধ্যে অর্ণব হরিপদবাবুর বাড়িতে ফিরে এল। বৃদ্ধ তাকে রাতটা থেকে যেতে বলেছিলেন। গ্রামের একমাত্র অতিথিশালা বহুদিন বন্ধ, তাই অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করাও সহজ ছিল না। খাওয়ার সময় হরিপদবাবু বারবার অর্ণবের দিকে তাকাচ্ছিলেন। শেষে তিনি বললেন- তুই কি আজ রাতেই বাড়িটার কাছে যাবি? অর্ণব চুপ করে রইল।

আমার মনে হয়, আগে দিনের বেলা বাড়িটা দেখে নেওয়া উচিত- বৃদ্ধ আবার বললেন। রাতে ওখানে যাওয়া ঠিক হবে না। অর্ণব পকেট থেকে পিতলের চাবিটা বের করল। কাকু, আমি জানি আপনি আমাকে আটকাতে চাইছেন। কিন্তু এত বছর ধরে একটা ঘটনা গোপন রয়েছে। আর সেই ঘটনার সঙ্গে আমার বাবার নাম জড়িয়ে গেছে। আমি সত্যিটা না জেনে ফিরতে পারব না। হরিপদবাবু অসহায়ভাবে মাথা নাড়লেন। তাহলে অন্তত একটা কথা মনে রাখিস। জানালায় আলো দেখলে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করবি না। অর্ণব বলল, ঠিক আছে। কিন্তু নিজের মনে সে জানত, আলো দেখা গেলে সে শুধু দূর থেকে দাঁড়িয়ে থাকবে না। সে জানতে চাইবে, কে সেই ঘরে আছে। রাত সাড়ে দশটার দিকে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল।

আকাশে চাঁদ ছিল না। গ্রামের রাস্তায় দু-একটি বাড়ির আলো ছাড়া চারদিকে অন্ধকার। দূরে কোথাও কুকুর ডাকছিল। বাতাসে শুকনো পাতার শব্দ। অর্ণব সঙ্গে নিয়েছিল একটি টর্চ, মোবাইল ফোন, ছোট নোটবুক এবং হরিপদবাবুর দেওয়া পিতলের চাবিটি। বাড়িটির দিকে যাওয়ার রাস্তা সে এখনও মনে করতে পারছিল। বাঁশঝাড় পেরিয়ে, শুকিয়ে যাওয়া পুকুরের পাশ দিয়ে, তারপর একটি ভাঙা ইটের সেতু। সেখান থেকে আরও কিছুটা এগোলেই মুখার্জিদের বাড়ি। কাছাকাছি পৌঁছতেই তার মনে হলো, চারপাশের শব্দ যেন হঠাৎ কমে গেছে। ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক নেই, কুকুরের আওয়াজও নেই। বাতাসে পাতার নড়াচড়া পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে না। শুধু নিজের জুতোর নিচে শুকনো মাটির মচমচ শব্দ।...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png