অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ১৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ১৬ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- রফিকুল বলল- তুমি যে জীবনটা কাটিয়েছ, সেটা কার? রফিকুলের প্রশ্নের উত্তর অরিন্দমের কাছে নেই। হঠাৎ দরজার ভেতর থেকে বাবার কণ্ঠ এল- অরিন্দম...হ্যাঁ? তুই যদি সত্যিই আমার ছেলে হোস, তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দে। কী? তোর মায়ের শেষ কথা কী ছিল? অরিন্দম চোখ বন্ধ করল, সে কিছুই মনে করতে পারছে না। শুধু একটা অস্পষ্ট কান্না, একটি ট্রেনের হুইসেল আর অন্ধকার। আমি জানি না। ভেতর থেকে নীরবতা। তারপর বাবা বললেন- তাহলে তুই আমার ছেলে নস। অরিন্দমের বুক ভেঙে গেল। বাবা...ফিরে যা। না! ফিরে যা, অরিন্দম! আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না।
তুই আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলি। অরিন্দম স্থির হয়ে গেল। ভেতর থেকে বাবা বললেন- সেদিন রাতেও তুই আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলি। ছোট অরিন্দম ধীরে ধীরে অরিন্দমের কাছে এসে দাঁড়াল। সে ফিসফিস করে বলল- আমি বলেছিলাম না? অরিন্দম তার দিকে তাকাল। কী? তুমি আমাকে রেখে গিয়েছিলে। হঠাৎ করিডরের সমস্ত আলো নিভে গেল। রফিকুল বলল- সবাই নিচু হও! অরিন্দম কিছু বুঝে ওঠার আগেই দূর থেকে প্রচণ্ড শব্দে একটি ট্রেন ছুটে এল। কিন্তু ট্রেনটি করিডরের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে! অসম্ভব। লোহার দেয়ালের মধ্যে দিয়ে একটি বিশাল কালো ট্রেন যেন ছুটে গেল। তার জানালাগুলোতে অসংখ্য মুখ।পুরুষ, মহিলা, শিশু। তারা সবাই জানালার ওপাশ থেকে তাকিয়ে আছে।
কেউ চিৎকার করছে, কেউ হাত নাড়ছে, কেউ কাঁদছে। আর তাদের প্রত্যেকের মুখে একই আতঙ্ক। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর আবার আলো জ্বলে উঠল। অরিন্দম দেখল- ছোট অরিন্দম নেই। ও কোথায়? রফিকুলও চারদিকে তাকাল। ওকে খুঁজে বের করতে হবে। কেন? কারণ ওকে নিয়ে গেছে। কে? রফিকুল এবার প্রথমবারের মতো সত্যিকারের আতঙ্কিত হয়ে বলল- যে মানুষটার কথা তোমার বাবা রেকর্ডিংয়ে বলতে পারেনি। কে সে? রফিকুল অরিন্দমের দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে বলল- এই স্টেশনের মালিক। অরিন্দম আবার ঘর ১৯-এর দরজায় ছুটে গেল। বাবা! ভেতর থেকে কোনো উত্তর নেই। বাবা! নীরবতা। তারপর দরজার ওপাশ থেকে খুব ক্ষীণ একটা শব্দ- অরিন্দম...হ্যাঁ! শোন...কী? যাকে তুমি খুঁজছ...বাবার গলা কাঁপছিল।
সে মানুষ নয়। অরিন্দম স্তব্ধ, তাহলে কী? সে...কথাটি শেষ হওয়ার আগেই দরজার ভেতর থেকে প্রচণ্ড শব্দ হলো। ধাম! তারপর সব নীরব। অরিন্দম দরজা ধাক্কাতে লাগল- বাবা! কোনো উত্তর নেই। ঠিক তখন তার পকেটে থাকা পকেট ঘড়িটি নিজে থেকেই খুলে গেল। কাঁটা আবার- ১১টা ৫২ মিনিট। কিন্তু এবার ঘড়ির পেছনে একটি নতুন লেখা দেখা গেল। আগে সেখানে কিছু ছিল না। কালো অক্ষরে ধীরে ধীরে ফুটে উঠল- একজন ফিরবে, একজন থাকবে।অরিন্দম পেছনে তাকাল, করিডরের শেষ প্রান্তে ছোট অরিন্দম দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু সে একা নয়।তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে একজন লম্বা মানুষ। কালো পোশাক, কিন্তু মুখ দেখা যাচ্ছে না। এক হাত ছোট অরিন্দমের কাঁধে। অন্য হাতে- সেই কালো ব্যাগ। অরিন্দমের চোখ আটকে গেল ব্যাগটির দিকে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





