মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২৬ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো।এরপর- তুমি যে ঘরটাকে এতদিন খুঁজে বেড়াচ্ছিলে, তার দরজা আসলে উত্তর দিকের ঘরে নেই। অর্ণব বলল- তাহলে কোথায়? অয়ন বলল- তোমার মনে। অর্ণবের চোখের সামনে হঠাৎ অন্ধকার নেমে এল। সে অনুভব করল- সে দাঁড়িয়ে নেই। সে যেন কোনো গভীর জায়গায় পড়ে যাচ্ছে।চারপাশে অসংখ্য দরজা, একটা দরজা খুলল। সে দেখল- তার শৈশব। আরেকটা দরজা- তার বাবার সঙ্গে কাটানো দিন। আরেকটা- হাসপাতাল।আরেকটা- ১৯৮৬ সালের উত্তর ঘর। আরেকটা' অয়ন। শেষ দরজাটা কালো। তার ওপর লেখা- ১২:১৭। অর্ণব হাত বাড়াল, দরজাটা খুলে গেল।
ভেতরে দাঁড়িয়ে- তার বাবা, কিন্তু এবার তিনি বৃদ্ধ নন। যেমন ছিলেন অর্ণবের ছোটবেলায় তেমনই।তিনি হাসলেন- অর্ণব। অর্ণবের চোখ ভিজে গেল।বাবা... তুই বড় হয়ে গেছিস। অর্ণব এগিয়ে গেল- তুমি আমাকে কেন সত্যিটা বলোনি? কারণ আমি ভয় পেয়েছিলাম। কিসের? তুই যদি জানতে পারিস যে তুই একবার মারা গিয়েছিলি... তিনি থামলেন। তাহলে তুই নিজের জীবনকে জীবন মনে করবি না। অর্ণব কাঁদতে কাঁদতে বলল- আমি কি সত্যিই তোমার ছেলে? তার বাবা বললেন- হ্যাঁ। তাহলে আমি কে? তুই অর্ণব। আর অয়ন? বাবা হাসলেন- সে তোর ভাই। সে কি আমার মধ্যে আছে? তার স্মৃতি আছে। আর অতিথি? বাবার মুখ বদলে গেল। ওকে থামাতে হবে। কীভাবে? তুই ওকে নিজের থেকে আলাদা করতে পারবি।
কীভাবে? বাবা বললেন- তোর সবচেয়ে পুরোনো স্মৃতিটা মনে কর। অর্ণব চোখ বন্ধ করল এবং সে দেখল- একটা শিশু অন্ধকার ঘরে বসে। সে কাঁদছে এবং তার সামনে একটা দরজা। দরজার ওপাশ থেকে অয়নের কণ্ঠ- দাদা... শিশুটি দরজার দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু তার পেছনে আরেকজন দাঁড়িয়ে। একই মুখ, সে ফিসফিস করে বললো-দরজা খুলিস না। অর্ণব বুঝতে পারল অতিথি প্রথম থেকেই তার সঙ্গে ছিল। কিন্তু তার শরীর দখল করতে পারেনি। কারণ অয়নের স্মৃতি তাকে আটকে রেখেছিল। অয়ন তাকে রক্ষা করেছিল। অর্ণব চোখ খুলল, সে আবার উত্তর দিকের ঘরে। অয়ন সামনে, নির্মলবাবু মেঝেতে।ঘড়ি- ১২:১৬। আর মাত্র এক মিনিট। অয়ন বলল- এখন সিদ্ধান্ত তোমার। কী সিদ্ধান্ত? তুমি আমাকে রাখবে, নাকি অতিথিকে?
অর্ণব স্তব্ধ, তোমাকে রাখলে? তুমি অয়নের স্মৃতি নিয়ে বাঁচবে। আর অতিথি? ও ধ্বংস হবে। কীভাবে? অয়ন বলল- তোমাকে ওকে ক্ষমা করতে হবে। অর্ণব অবাক।ক্ষমা? হ্যাঁ, যে আমাকে মারতে চায় তাকে? ও আসলে বাঁচতে চায়। অর্ণব কিছু বলল না। অয়ন বলল- ওর নিজের কোনো স্মৃতি নেই। তাই সে অন্যের জীবন চুরি করে। হ্যাঁ, তাহলে আমি কী করব? অয়ন বলল- ওকে নিজের একটা স্মৃতি দাও। অর্ণব বুঝতে পারল না- কী স্মৃতি? তোমার বাবার। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল- আমার বাবার স্মৃতি? হ্যাঁ, কেন? কারণ অতিথি কখনও ভালোবাসা অনুভব করেনি। অয়ন বলল- ও শুধু স্মৃতি নকল করেছে। কিন্তু ভালোবাসা নকল করা যায় না। ঘড়ির কাঁটা- ১২:১৬:৩০, হঠাৎ ঘরের সব আলো নিভে গেল। অন্ধকারের মধ্যে একটা কণ্ঠ- অর্ণব... অর্ণব বুঝল- সে এসেছে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





