মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২৭ )

in আমার বাংলা ব্লগ9 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২৭ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- মধ্যরাতের অতিথি। অন্ধকার থেকে তার নিজের মুখ বেরিয়ে এল। সে বলল- আমাকে তোমার শরীর দাও। অর্ণব বলল- না। তাহলে আমি তোমাকে মেরে ফেলব। তুমি পারবে না... কেন?অর্ণব চোখ বন্ধ করল এবং তার বাবার একটা স্মৃতি মনে করল। সে দেখল- বৃষ্টি হচ্ছে। ছোট্ট অর্ণব বাবার হাত ধরে হাঁটছে। বাবা তার মাথায় হাত রেখে বলছেন- ভয় পাস না, আমি আছি। অর্ণব সেই স্মৃতিটা অতিথির দিকে ছুড়ে দিল।অন্ধকার কেঁপে উঠল, অতিথি চিৎকার করল- না!অর্ণব আবার বলল- এটা আমার বাবার স্মৃতি। তুমি এটা পাবে না। অতিথি কাঁপতে লাগল।আমার...তোমার কিছু নেই। আমি চাই! তুমি শুধু চুরি করেছ।

আমি বাঁচতে চাই! অর্ণবের চোখে জল। তাহলে বাঁচো। অতিথি থেমে গেল। কীভাবে? অর্ণব বলল- আমার জীবন চুরি করে নয়। তোমার নিজের একটা স্মৃতি তৈরি করো। অতিথি কাঁপতে কাঁপতে বলল- আমার... কোনো জীবন নেই। অর্ণব বলল- আজ থেকে থাকবে। কীভাবে? আমি তোমাকে একটা নাম দেব। অন্ধকার নিস্তব্ধ। অর্ণব বলল- অতিথি নয়। তোমার নাম হবে অয়নের বন্ধু।অতিথির মুখে প্রথমবার কোনো হাসি নেই, শুধু বিস্ময়। অর্ণব বলল- তুমি আমার জীবন নেবে না। তুমি আমার ভাইয়ের স্মৃতি নেবে না। কিন্তু তুমি চাইলে- এই বাড়ির স্মৃতি হয়ে থাকতে পারো।অতিথি ধীরে ধীরে অর্ণবের দিকে এগিয়ে এল।তুমি আমাকে ভয় পাও না? অর্ণব বলল- পাই। তবুও? তবুও। অতিথি অর্ণবের মুখের সামনে এসে দাঁড়াল।

তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়াল এবং অর্ণব চোখ বন্ধ করল। ঘড়ির কাঁটা- ১২:১৭।দেয়ালে তিনবার শব্দ হলো- ঠক, ঠক, ঠক। অর্ণব চোখ খুলল, কিন্তু অতিথি নেই, অয়নও নেই।নির্মলবাবু মেঝে থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন। ঘরটা স্বাভাবিক, জানালা দিয়ে ভোরের প্রথম আলো ঢুকছে। অর্ণব ঘড়ির দিকে তাকাল, কাঁটা চলছে- ১২:১৮। তারপর- ১২:১৯। এই প্রথম ঘড়ি ১২:১৭ পেরিয়ে গেছে। নির্মলবাবুর চোখে জল। তিনি ফিসফিস করে বললেন- শেষ। অর্ণব জানালার দিকে তাকাল। দোতলার বাইরে একটা ছোট্ট ছায়া দাঁড়িয়ে, অয়ন। সে হাসছে। অর্ণব হাত তুলল, অয়নও হাত তুলল। তারপর ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। কয়েক মাস পরে, শান্তিনিকেতন ভিলা আর আগের মতো নেই। অর্ণব বাড়িটা বিক্রি করেনি।বরং বাড়িটা সংস্কার করেছে।

উত্তর দিকের ঘরটা সে বন্ধ করে রেখেছে। কেউ সেখানে যায় না, নির্মলবাবু মাঝে মাঝে আসে। কিন্তু তিনি আর কখনও রাত কাটান না। অর্ণব এখন নিজের জীবনের দিকে নতুন করে তাকাতে শিখেছে। সে জানে- তার জন্মের সঙ্গে একটা অসম্ভব রহস্য জড়িয়ে ছিল। তার শরীর একসময় মৃত্যুর সীমা ছুঁয়েছিল। তার ভাই অয়নের স্মৃতি তার মধ্যে বেঁচে ছিল। আর এক অদ্ভুত সত্তা- যাকে সবাই মধ্যরাতের অতিথি বলে চিনত- সে বহু বছর ধরে নিজের অস্তিত্বের জন্য লড়াই করেছিল। কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত অর্ণবের জীবন নিতে পারেনি। কারণ অর্ণব তাকে ধ্বংস করেনি। সে তাকে একটা পরিচয় দিয়েছিল- একটা নাম, একটা স্মৃতি, একটা অস্তিত্ব। এক বছর পর অর্ণব আবার সেই বাড়িতে একা বসে ছিল। রাত, বাইরে বৃষ্টি।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png