অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২১ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- অরিন্দম চুপ। লম্বা মানুষটি বলল- তোমার কাছে মাত্র কয়েক মিনিট আছে। কেন? ১১টা ৫৭ মিনিটের পর স্টেশনটি আবার বন্ধ হয়ে যাবে। অরিন্দম নিজের পকেটঘড়ির দিকে তাকাল।
কাঁটা- ১১টা ৫৫। আর মাত্র দুই মিনিট। সে ছোট অরিন্দমের হাত ধরল- চলো। ছেলেটি মাথা নাড়ল- তুমি গেলে আমি থাকব। না, এটাই নিয়ম। আমি নিয়ম মানি না। ছোট অরিন্দম মৃদু হাসল।তুমি সবসময় এমন ছিলে। কেমন? জেদি। অরিন্দমও হাসল, কিন্তু সেই হাসি বেশিক্ষণ থাকল না। কারণ দূরে ট্রেন এসে থেমেছে। কালো ট্রেন।
দরজা খোলা। ভেতরে অন্ধকার। আর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছে- একজন মহিলা।
অরিন্দমের বুকের ভেতরটা থেমে গেল। সে তাকে চিনতে পারল। তার মা, বয়স ঠিক ২০০৪ সালের মতো।মুখে সেই একই শাড়ি। চোখে জল, তিনি হাত বাড়িয়ে বললেন- অরিন্দম...ছোট অরিন্দম ছুটে যেতে চাইলে অরিন্দম তাকে শক্ত করে ধরে ফেলল। না! মহিলা বললেন- বাবা, আমি তোমার মা। অরিন্দম কাঁদতে কাঁদতে বলল- আপনি সত্যিই মা? মহিলা বললেন- হ্যাঁ। রফিকুল চিৎকার করে উঠল- ওর দিকে তাকিয়ো না! মহিলার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে কালো হয়ে গেল। অরিন্দম পিছিয়ে গেল। রফিকুল বলল- ওটা তোমার মা নয়! মহিলার মুখ বদলাতে শুরু করল। প্রথমে তার মুখ, তারপর চোখ, তারপর চুল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল- অরিন্দম নিজেই।
কিন্তু অনেক বয়স্ক, রক্তাক্ত মুখ। চোখের নিচে কালো দাগ। সে বলল- তুমি যদি ট্রেনে ওঠো, তুমি আমার জায়গা নেবে। অরিন্দম স্তব্ধ। আপনি কে? লোকটি বলল- আমি সেই অরিন্দম, যে একবার ট্রেনে উঠেছিল। অরিন্দমের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। ছোট অরিন্দম চিৎকার করে উঠল- ওর কথা বিশ্বাস করো না! বয়স্ক অরিন্দম হাসল। তুমি জানো না। কী? তোমার বাবা আসলে কাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। অরিন্দমের চোখ বড় হয়ে গেল। বয়স্ক অরিন্দম ধীরে ধীরে বলল- তুমি যে অরিন্দম হয়ে এত বছর বেঁচে আছ...সে একটু থামল। সে তোমার বাবা বেছে নেয়নি। তাহলে? স্টেশন বেছে নিয়েছিল। ঠিক তখনই পকেটঘড়ির কাঁটা এগিয়ে গেল- ১১টা ৫৬ মিনিট। দূরে হুইসেল।রফিকুল বলল- অরিন্দম, সিদ্ধান্ত নাও! অরিন্দম একবার ট্রেনের দিকে তাকাল।
একবার ছোট অরিন্দমের দিকে। তারপর লম্বা মানুষটির দিকে।লম্বা মানুষটি স্থির, তার মুখে কোনো আবেগ নেই। অরিন্দম বলল- আমি কাউকে রেখে যাব না। রফিকুল বলল- তাহলে তোমরা দুজনেই এখানে আটকে যাবে। তবুও। ছোট অরিন্দম অরিন্দমের হাত শক্ত করে ধরল। তাহলে আমরা একসঙ্গে থাকব। ঠিক সেই মুহূর্তে লম্বা মানুষটি প্রথমবারের মতো চিৎকার করে উঠল- না! স্টেশনের সমস্ত আলো একসঙ্গে জ্বলে উঠল। দরজাগুলো বন্ধ হতে শুরু করল। ট্রেনের হুইসেল, ঘড়ির কাঁটা- ১১টা ৫৭। অরিন্দম ছোট ছেলেটিকে নিয়ে ট্রেনের দিকে দৌড়াল। রফিকুল পিছন থেকে চিৎকার করল- ট্রেনে উঠবে না! কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। অরিন্দম দরজায় পা রাখল। ছোট অরিন্দম তার হাত ধরে উঠে এল।দরজা বন্ধ হয়ে গেল, ট্রেন চলতে শুরু করল।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





