অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২৬ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২৬ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- সবাই একসঙ্গে বলছে, “আমাদের মধ্যে একজনকে বেছে নাও।” অরিন্দম চোখ বন্ধ করল। তারপর বলল- আমি কাউকে বেছে নেব না।সব কণ্ঠ একসঙ্গে থেমে গেল। অরিন্দম বলল-কারণ তোমরা সবাই আমার। ফিরে পাওয়া স্মৃতি অরিন্দম কাঁচের শিশিটির ঢাকনা খুলল। ভেতরের নীলচে আলো বেরিয়ে এসে তার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল। তারপর- একটা দৃশ্য, সে ছোট। মা তাকে কোলে নিয়ে আছে, বাবা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে।বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি, ট্রেনের হুইসেল। তারপর মা বলছে- অরিন্দম, ভয় পাস না। আরেকটা দৃশ্য।বাবা তার হাত ধরে দৌড়াচ্ছেন। স্টেশন অন্ধকার, দূরে রফিকুল দাঁড়িয়ে।
আরেকটা দৃশ্য, ঘড়িতে তখন ১১:৪৭। মা কাঁদছে, বাবা বলছে- আমাদের একজনকে রেখে যেতে হবে। মা মাথা নাড়ছেন- না। অন্য কোনো উপায় নেই। তাহলে আমাকে রেখে যাও। বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলছেন- আমি তোকে ছাড়া কোথাও যাব না। তারপর ছোট্ট অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে মা বলছেন- ওকে নিয়ে যাও। বাবা বলছেন- কিন্তু ওর একটা অংশ? মা চোখ বন্ধ করে বলেছিলেন- যদি ওকে সম্পূর্ণ নিয়ে যাও, স্টেশন আমাদের সবাইকে ধরে রাখবে।ওর একটা অংশ এখানে থাকুক। একদিন ও নিজেই ফিরে আসবে। সেদিন ও নিজের অংশটাকে ফিরিয়ে নেবে। দৃশ্যটা মিলিয়ে গেল।অরিন্দম চোখ খুলল, তার সামনে ছোট্ট অরিন্দম দাঁড়িয়ে। ছেলেটি বলল- এবার আমাকে নিয়ে চলো।
অরিন্দম তাকে জড়িয়ে ধরল, ঠিক তখনই পেছন থেকে হাসির শব্দ। ধীরে ধীরে সেই হাসি জোরালো হতে লাগল। অরিন্দম ঘুরে দাঁড়াল, সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন। তারই মুখ, তারই শরীর, তারই পোশাক। কিন্তু চোখ দুটো সম্পূর্ণ ফাঁকা। সে বলল- তুমি যদি স্মৃতি ফিরিয়ে নাও, আমি থাকব কোথায়? অরিন্দম কিছু বলল না। লোকটি এগিয়ে এল- তুমি আমাকে তৈরি করেছ। না। তোমার ভয় দিয়ে। না। তোমার ভুলে যাওয়া স্মৃতি দিয়ে। অরিন্দম মাথা নাড়ল- তুই আমাকে তৈরি করিসনি। লোকটি থেমে গেল।অরিন্দম বলল- স্টেশন তোকে তৈরি করেছে। লোকটির মুখ বিকৃত হয়ে গেল। তাহলে আমাকে মেরে ফেলবি? অরিন্দম বলল- না। তাহলে? তোকে আর আলাদা করে রাখব না। অরিন্দম কাঁচের শিশির শেষ আলোটুকু তার দিকে ছুড়ে দিল।
আলোটা লোকটির শরীরে ঢুকে গেল। এক মুহূর্তের জন্য সে চিৎকার করল। তারপর- তার শরীর ধীরে ধীরে স্বচ্ছ হয়ে গেল। তার মুখ বদলে গেল। কখনো অরিন্দম, কখনো ছোট্ট অরিন্দম।কখনো তার বাবা, কখনো তার মা। শেষে সব মিলিয়ে একটা মাত্র আলো হয়ে গেল। আর সেই আলো এসে অরিন্দমের বুকের ভেতর ঢুকে গেল। অরিন্দম হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার মাথার ভেতর যেন হাজারটা স্মৃতি একসঙ্গে ফিরে এল। তার শৈশব, তার মায়ের গন্ধ। বাবার হাত, সেই বৃষ্টির রাত, স্টেশন, ট্রেন, ১১:৪৭। সবকিছু একসঙ্গে।স্টেশন তখন ভেঙে পড়ছে, দেয়ালের ইট খুলে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের ওপর ফাটল ধরছে। দূরে কালো ট্রেনটা আবার এসে দাঁড়াল। রফিকুল বলল- এবার যাও। অরিন্দম তাকাল- আপনি? রফিকুল মৃদু হাসল- আমার কাজ তোকে অপেক্ষা করা ছিল।...
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





