অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ১২ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ১২ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- ঠিক তখনই দূরে ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল। অরিন্দম ঘুরে তাকাল, কুয়াশার ভেতর থেকে একটি ট্রেন বেরিয়ে আসছে। কিন্তু এটি সেই ট্রেন নয় যাতে সে এসেছিল। এই ট্রেনটি অনেক পুরনো, কালো রঙের কামরা। জানালায় হলুদ আলো, ট্রেনটি ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মে এসে থামল। একটি দরজা খুলল, ভেতরে কেউ নেই।ছেলেটি বলল- এটাই শেষ সুযোগ। কোথায় যাবে এই ট্রেন? যেখানে তোমার বাবা-মা গিয়েছিল। অরিন্দমের বুক ধক করে উঠল। তারা কি এখনও বেঁচে আছে? ছেলেটি সরাসরি উত্তর দিল না- তুমি যদি সত্যিটা জানতে চাও, ট্রেনে ওঠো। অরিন্দম এক পা এগিয়ে গেল, তারপর থেমে গেল।
আর তুমি? ছেলেটি হাসল। আমি তো এখানেই থাকি।না। তোমাকে নিয়ে যাব। ছেলেটি মাথা নাড়ল-আমাকে নিয়ে গেলে তুমি বেরোতে পারবে না। কেন? কারণ আমাদের মধ্যে একজনকেই এই স্টেশন ছাড়তে দেয়। অরিন্দমের শরীর শীতল হয়ে গেল। একজন? হ্যাঁ। তাহলে আগেরবার? ছেলেটি বলল- আগেরবার তুমি আমাকে রেখে গিয়েছিলে।অরিন্দম চোখ বন্ধ করল। তার মাথায় আবার সেই রাতের ছবি- বাবা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।একটি দরজা, একটি চিৎকার। আর সে নিজের ছোট সংস্করণটিকে পিছনে ফেলে চলে যাচ্ছে।কিন্তু কেন? কী হয়েছিল তখন? হঠাৎ ট্রেনের ভেতর থেকে একটি কণ্ঠস্বর এল- অরিন্দম। সে জমে গেল, এটা তার বাবার কণ্ঠ। বাবা? আবার ডাক এল- অরিন্দম, ট্রেনে ওঠো।
অরিন্দম ট্রেনের দিকে এগিয়ে গেল। ঠিক তখনই পিছন থেকে ছেলেটি চিৎকার করে উঠল- থামো! অরিন্দম ঘুরে তাকাল, ছেলেটি কাঁপছে। ওটা তোমার বাবা নয়। তাহলে কে? ছেলেটি উত্তর দেওয়ার আগেই ট্রেনের দরজায় একজন মানুষ এসে দাঁড়াল, কালো কোট, ধূসর টুপি। হাতে কালো ব্যাগ। রফিকুল। সে অরিন্দমের দিকে তাকিয়ে হাসল। অনেকদিন পর দেখা হলো। অরিন্দম পিছিয়ে গেল, আপনি আমার বাবা-মাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছিলেন? রফিকুল বলল- আমি কাউকে কোথাও নিয়ে যাইনি। মিথ্যে! তোমার বাবা নিজেই এসেছিলেন। কেন? রফিকুল কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল- তোমাকে বাঁচাতে।অরিন্দমের চোখ বড় হয়ে গেল- আমাকে? হ্যাঁ। কিসের হাত থেকে? রফিকুল এবার তার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল- তোমার নিজের হাত থেকে।
অরিন্দম কিছু বুঝতে পারল না। রফিকুল কালো ব্যাগটি খুলল। ভেতর থেকে একটি পুরনো ফাইল বের করল- এটা তোমার জন্য। অরিন্দম ফাইলটি নিল না। আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না।রফিকুল হাসল- তোমার বাবা তো তোমাকে সেটাই বলেছিল। হ্যাঁ। কিন্তু তোমার বাবা তোমাকে একটা কথা বলেনি। কী? রফিকুলের চোখ এবার অস্বাভাবিকভাবে স্থির হয়ে গেল। তোমার বাবা-মা যে রাতে নিখোঁজ হয়েছিল, সেই রাতে ট্রেনে তিনজন নয়- চারজন যাত্রী ছিল। অরিন্দমের বুক কেঁপে উঠল। চতুর্থ ব্যক্তি কে? রফিকুল কোনো উত্তর দিল না। সে শুধু ফাইলটি খুলে একটি ছবি বের করল। অরিন্দম ছবিটির দিকে তাকিয়ে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলল। ছবিতে- তার বাবা, তার মা, ছোট অরিন্দম।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





