মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২৫ )

in আমার বাংলা ব্লগ4 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২৫ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো।এরপর- নিজের শরীর চাইতে শুরু করে। নিজের জীবন চাইতে শুরু করে। আর সেই জন্যই- সে প্রতি কয়েক বছর পরপর ফিরে আসে, নতুন শরীর খোঁজে। অর্ণবের বাবা তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু একই সঙ্গে সে অয়নের স্মৃতি ব্যবহার করে নিজের মৃত সন্তানকে ফিরিয়ে আনতেও চেয়েছিল। এই দুই উদ্দেশ্যের সংঘর্ষেই জন্ম নিয়েছিল- মধ্যরাতের অতিথি। অর্ণব অয়নের দিকে তাকাল। তুমি আমাকে কেন অনুসরণ করছ? অয়ন বলল- আমি তোমাকে অনুসরণ করছি না। তাহলে? আমি তোমাকে রক্ষা করছি। কার কাছ থেকে? অয়ন ধীরে নিচের দিকে তাকাল।

নির্মলবাবুর দিকে, ওর কাছ থেকে। অর্ণব অবাক। নির্মলবাবু? বৃদ্ধ চোখ বন্ধ করলেন। অয়ন বলল- তুমি কি জানো, ১৯৮৬ সালে অমলকে কে গুলি করেছিল? অর্ণব তাকিয়ে রইল, নির্মলবাবুর হাতে এখনও রিভলভার। অর্ণবের মনে পড়ল- বৃদ্ধ বলেছিলেন- যেটা করা উচিত ছিল না। অর্ণবের গলা শুকিয়ে গেল। আপনি... অমলকে গুলি করেছিলেন? নির্মলবাবু কাঁদতে কাঁদতে মাথা নাড়লেন। হ্যাঁ, কেন? আমি ভেবেছিলাম ওকে হত্যা করলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ হয়নি, না। তারপর? নির্মলবাবু বললেন- অমল মারা যাওয়ার আগে আমাকে একটা কথা বলেছিল। কী? বৃদ্ধের গলা কেঁপে উঠল। সে বলেছিল- তুমি যাকে গুলি করলে, সে অমল ছিল না। অর্ণবের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। মানে?

অমল তখন আগেই অতিথির দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। ঘরের বাতাস আরও ঠান্ডা হয়ে গেল। অর্ণব বুঝতে পারল- ১৯৮৬ সালের সেই রাতে যে মানুষগুলো ছিল, তাদের মধ্যে কে আসল আর কে প্রতিলিপি- সেটা কেউ জানত না। অমল? অয়ন? তার বাবা? নির্মল? সবাই হয়তো কোনো না কোনোভাবে সেই অতিথির প্রভাবে বদলে গিয়েছিল। শুধু একটা মানুষ সত্যিটা বুঝেছিল। অর্ণবের বাবা, কিন্তু তিনিও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন। অর্ণব বলল- আমার বাবা কোথায়? অয়ন চুপ করে রইল। বল! তোমার বাবা মারা গেছে। অর্ণব থেমে গেল, কখন? যেদিন তুমি জন্মেছিলে, কিন্তু আমি তো তাকে দেখেছি। তুমি তার স্মৃতি দেখেছ। অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল। তাহলে এতদিন যে মানুষটাকে আমি বাবা ভেবেছি...সে মানুষ নয়। অর্ণব চোখ বন্ধ করল।

তার বাবার সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতিগুলো মাথায় ভেসে উঠল- বাবার হাত ধরে হাঁটা, বাবার সঙ্গে প্রথম সাইকেল চালানো, বাবার মুখে গল্প শোনা, তার জন্মদিনে কেক কাটা। সবই কি মিথ্যে? অয়ন বলল- না। অর্ণব তাকাল- সব মিথ্যে ছিল না। তোমার বাবা সত্যিই তোমাকে ভালোবাসত। কিন্তু? তার মৃত্যুর পরও তার স্মৃতি তোমার সঙ্গে ছিল। অর্ণবের চোখে জল। তাহলে সে কি এখনও আমার সঙ্গে আছে? অয়ন বলল- হ্যাঁ। কোথায়? অয়ন অর্ণবের বুকের দিকে তাকাল, তোমার স্মৃতির মধ্যে। হঠাৎ বাড়ির বাইরে প্রচণ্ড বাতাস শুরু হলো। জানালাগুলো কাঁপতে লাগল, ঘড়ির কাঁটা আবার নড়ল- ১২:১৫। অয়ন বলল- সময় হয়ে গেছে। অর্ণব তাকাল- কিসের? শেষ দরজা খোলার। কোন দরজা? অয়ন উত্তর দিল না, সে উত্তর দিকের সিঁড়ির দিকে তাকাল।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png