মধ্যরাতের অতিথি ( পর্ব ২৩ )

in আমার বাংলা ব্লগ6 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000090513.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "মধ্যরাতের অতিথি" এর ২৩ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো।লোকটি তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল- আমি সেই স্মৃতি, যাকে তোমার বাবা মেরে ফেলতে পারেনি। তোমার নাম? লোকটি খুব ধীরে উত্তর দিল- অয়ন। অর্ণবের চোখে জল চলে এল। তুমি যদি অয়ন হও... তাহলে দোতলায় যে শিশুটি? লোকটি হাসল। ও? ও তো শুধু একটা স্মৃতি। আমার স্মৃতি। অর্ণব স্তব্ধ আর তুমি? লোকটি বলল- আমি অতিথি নই। তাহলে? সে এক পা এগিয়ে এল। তার মুখ অর্ণবের মুখের সঙ্গে একেবারে মিশে গেল। তারপর ফিসফিস করে বলল- আমি সেই অয়ন, যে ১৯৮৬ সালে মারা গিয়েছিল। আর তুই...একটু থেমে- তুই সেই অর্ণব, যে ১৯৯৬ সালে মারা গিয়েছিল।

ঘর নিস্তব্ধ।তারপর- আমাদের মধ্যে পার্থক্য শুধু একটা। অর্ণব তাকিয়ে রইল। আমি আমার মৃত্যুর কথা মনে রেখেছি। লোকটি হাসল- তুমি ভুলে গেছ। ঠিক তখনই বাইরে ঘড়ির শব্দ হলো- টং। অর্ণব ঘড়ির দিকে তাকাল। সময়- ১১:৫৯ PM। আর মাত্র এক মিনিট পর মধ্যরাত। লোকটি বলল- আগামী এক মিনিটের মধ্যে তুমি সব মনে করবে। অর্ণব পিছিয়ে গেল। তারপর? লোকটি তার দিকে তাকিয়ে বলল- তারপর আমরা ঠিক করব এই শরীরে কে থাকবে। ঘড়ির কাঁটা এগোল- ১১:৫৯:৩০। অর্ণবের মাথা আবার প্রচণ্ড ব্যথা করতে শুরু করল। তার চোখের সামনে একের পর এক ছবি- অমল, তার বাবা, মাধবী, অয়ন, হাসপাতাল, শিশু, লণ্ঠন, দরজা, রক্ত, চিৎকার।আর শেষে- একটা বিশাল কালো দরজা।

দরজার ওপাশ থেকে কেউ বলছে- অর্ণব... দরজা খোলো। ঘড়ির কাঁটা- ১২:০০। এক মুহূর্তে সমস্ত স্মৃতি ফিরে এল। অর্ণব চিৎকার করে উঠল।তারপর সে চোখ খুলল, কিন্তু তার সামনে কেউ নেই। ঘর খালি, কিন্তু দেয়ালে নতুন করে একটা বাক্য লেখা হয়েছে লাল কালিতে- শেষ দরজা খুললেই তুমি জানবে অতিথি কে। তার নিচে- আগামী রাত নয়। আরও নিচে- আজ রাতেই। অর্ণব ঘড়ির দিকে তাকাল- ১২:০১। তারপর বাড়ির সমস্ত দরজা একসঙ্গে- ধাম! করে বন্ধ হয়ে গেল। আর অন্ধকারের মধ্যে একটা কণ্ঠ ফিসফিস করে বলল- শেষ পর্ব শুরু হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিট। শান্তিনিকেতন ভিলার সমস্ত দরজা একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাড়িটা যেন আর কোনো বাড়ি রইল না। দেয়ালের ঘড়ি থেমে গেছে, বাতাস থেমে গেছে।

এমনকি বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দও নেই। অর্ণব বসে আছে উত্তর দিকের ঘরের মেঝেতে। তার সামনে পড়ে আছে সেই পুরোনো হাসপাতালের ফাইল। চারপাশে অন্ধকার, শুধু জানালার ফাঁক দিয়ে আসা চাঁদের ক্ষীণ আলো।তার মাথার ভেতর একের পর এক স্মৃতি ঘুরছে।কিন্তু এবার সেগুলো স্বপ্ন নয়, সবকিছু পরিষ্কার।সে দেখছে- একটা হাসপাতাল, একজন ডাক্তার।একজন কান্নারত মহিলা। তার বাবা দরজার পাশে দাঁড়িয়ে। তার হাতে একটা ছোট্ট শিশুর কম্বল।ডাক্তার মাথা নাড়ছেন। আমরা দুঃখিত, শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। তার বাবা কোনো কথা বলছেন না। শুধু কম্বলটা শক্ত করে ধরে আছেন।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png