অচেনা স্টেশনের যাত্রী ( পর্ব ২৭ )

in আমার বাংলা ব্লগ • 3 days ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000094786.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "অচেনা স্টেশনের যাত্রী" এর ২৭ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- আপনি যাবেন না? আমার সময় ২০০৪ সালেই শেষ হয়ে গেছে। অরিন্দমের চোখ ভিজে উঠল। আপনি এত বছর এখানে ছিলেন? কেউ তো থাকতে হয়। রফিকুল পকেট থেকে একটা ছোট্ট চাবি বের করল। সেই চাবি, যেটা অরিন্দম প্রথম দিন কালো ব্যাগে পেয়েছিল। এটা নাও, কী খুলবে এটা? রফিকুল বলল- যে দরজা দিয়ে তুমি ঢুকেছিলে, সেটা নয়। যে দরজা দিয়ে তুমি ফিরবে, সেটা। অরিন্দম চাবিটা নিল, তার পাশে ছোট্ট অরিন্দম দাঁড়িয়ে। অরিন্দম বলল- তুই আমার সঙ্গে যাবি তো? ছেলেটি হাসল, আমি তো সবসময়ই তোর সঙ্গে ছিলাম। দুজন ট্রেনে উঠল, ট্রেনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

রফিকুল প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রইল, তার পাশে সেই লম্বা কালো পোশাকের মানুষ। অরিন্দম জানালার কাছে দাঁড়িয়ে দেখল- লোকটি ধীরে ধীরে টুপিটা খুলল।তারপর অরিন্দম বুঝতে পারল- তার মুখটাও আর রহস্যময় নয়। সেটা তার বাবার মুখ, বাবা শুধু একবার হাত তুললেন। বিদায় জানালেন, তারপর সবকিছু অন্ধকার। বাড়ি ফেরার সকাল- অরিন্দম চোখ খুলল। সে একটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে। জানালার বাইরে সকালের আলো। একজন নার্স পাশে দাঁড়িয়ে, আপনি শুনতে পাচ্ছেন? অরিন্দম ধীরে মাথা নাড়ল। আমি কোথায়? আপনাকে রেললাইনের পাশে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। অরিন্দম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল- কতদিন? নার্স বলল- একদিন। অরিন্দম জানালার বাইরে তাকাল।

আকাশ পরিষ্কার, মানুষজন চলাফেরা করছে। দূরে ট্রেন যাচ্ছে। সবকিছু স্বাভাবিক, সে নিজের হাতের দিকে তাকাল। তার মুঠোর মধ্যে কিছু একটা ধরা। ধীরে হাত খুলল, একটা পুরোনো পকেট ঘড়ি।কাঁটা চলছে- ৮:১৭। অরিন্দম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।তারপর খুব ধীরে হাসল, হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সে বাড়ি ফিরল। বাড়ির দরজা খুলতেই একটা পুরোনো গন্ধ পেল, শৈশবের মতো। সে ঘরের ভেতর ঢুকল। দেয়ালে তার ছোটবেলার একটা ছবি, কিন্তু ছবিটা দেখে সে থেমে গেল। ছবিতে সে একা নয়, তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরেকজন ছোট্ট ছেলে। দুজনের মুখ একই, অরিন্দম ছবিটা হাতে তুলে নিল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে এবার বুঝতে পারল- তার পরিবার ছবিটা এতদিন ধরে রেখে দিয়েছিল।

কিন্তু সবাই ভেবেছিল ছবির দ্বিতীয় ছেলেটা তার কল্পনা। কারণ ছবির পেছনে লেখা ছিল- দুই অরিন্দম। এক জীবন। মায়ের শেষ চিঠি- ঘরের পুরোনো আলমারি খুলতে গিয়ে অরিন্দম একটা খাম পেল।খামের ওপর তার নাম। অরিন্দমের জন্য, যখন সব মনে পড়বে। হাত কাঁপতে কাঁপতে সে চিঠিটা খুলল। চিঠির ভেতরে মাত্র কয়েকটা লাইন- মায়ের হাতের লেখা। অরিন্দম, যদি কখনো সেই স্টেশনকে আবার দেখতে পাও, ভয় পাস না।ওখানে যা হারিয়েছিস, সবকিছু তোর বিরুদ্ধে নয়।
কিছু জিনিস আমরা নিজেরাই রেখে আসি, যাতে একদিন ফিরে এসে নিজেদের সম্পূর্ণ করতে পারি। তুই যদি এই চিঠি পড়িস, তার মানে তুই ফিরে এসেছিস। আর যদি তোর মনে হয় তুই একা- তাহলে মনে রাখিস, তোর ভেতরে এখনও সেই ছোট্ট ছেলেটা আছে, যে আমার হাত ধরে বলেছিল- মা, আমরা কি বাড়ি ফিরব?...


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png