আঙিনায়
নমস্কার বন্ধুরা,
সময়ের পালাবদলে একটা প্রশ্ন থেকে যায়,আমরা আসলেই কি ঠিক ছিএলাম?আজকে এই ব্যস্ততম জীবনে দাঁড়িয়ে ফেরার তো আসলেই কোনো পথ নেই তবুও ভাবনারা আসে।
এই আঙিনায় একসময়
সন্ধ্যা নামত মানুষের কণ্ঠে—
কেউ তুলসীতলায় প্রদীপ রাখত,
কেউ ভেজা কাপড় তুলতে তুলতে
দিনের শেষ সংবাদটি জানিয়ে দিত।
এখন সন্ধ্যা আসে নিঃশব্দে;
পুরোনো দেওয়ালের ফাটল ধরে
অন্ধকার নেমে যায়,
যেন বাড়িটিও ধীরে ধীরে
নিজের স্মৃতি ভুলতে শিখছে।
এইখানে বাবা বসতেন—
তার কাঠের চেয়ারটি নেই,
তবু বর্ষার দিনে মাটির গন্ধে
একটি অনুচ্চারিত শাসন ফিরে আসে;
আমরা অকারণেই সোজা হয়ে বসি।
মায়ের শুকোতে দেওয়া শাড়ির রং
কত আগেই আকাশ থেকে মুছে গেছে,
শুধু পুরোনো তারটুকু
দুই দেয়ালের মাঝখানে টানানো—
শূন্যতারও যেন নিজস্ব সংসার আছে।
আমরা যারা এই আঙিনা ছেড়ে
বড় শহরের ছোট ঘরে উঠেছি,
তারা প্রত্যেকে গোপনে বহন করি
এক মুঠো ভেজা মাটি,
কয়েকটি ঝরা পাতা
আর ফিরে আসতে না পারার অপরাধ।
বছরের পর বছর পরে এসে দেখি,
আমগাছটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে;
শুধু তার ছায়ায় বসার মানুষগুলো
ছবির ভেতর চলে গেছে।
এই আঙিনায় সময় থেমে নেই—
সে শ্যাওলা হয়েছে, ধুলো হয়েছে,
নতুন শিশুর পায়ের শব্দ হয়ে
আবার দৌড়ে গেছে বারান্দার দিকে।
তখন বুঝি, বাড়ি কখনো ফাঁকা হয় না;
যারা চলে যায়, তারাই
দরজার শব্দে, বৃষ্টির গন্ধে,
দুপুরের দীর্ঘ ছায়ায়
বারবার ফিরে আসে।
এই আঙিনায় তাই
আমাদের কেউ সম্পূর্ণ অনুপস্থিত নয়—
কেবল একেকজন
একেক রকম নীরবতায়
বেঁচে আছে।
VOTE @bangla.witness as witness

OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |



