শব্দে তুমি
নমস্কার বন্ধুরা,
এই নিয়মে বাঁধা জীবনে একটু চেনা গণ্ডির বাইরে তো মন যেতেই চায়।অচেনা হাওয়ার হিমেল পরশ,কবিতার ছন্দে আকস্মিক ছন্দপতন এই তো জীবনের আরেক সুবাস।সময় এগিয়ে যাবে তার নিয়মে আমরাও কোথাও না কোথাও বদলাবো জেনে কিংবা নিজের অজান্তে।তবুও প্রেমে পড়লে এই কবিতার মরশুমে।
বৃষ্টি নামলে এখনও জানালাটা খুলে দিই,
যদিও বাইরের বাড়িটা উঠে যাওয়ার পর
আকাশ বলতে অল্প কিছু ফাঁক,
আর কার্নিশ বেয়ে জল নামার শব্দ।
এই শব্দের ভিতর তুমি আছ—
এমন দাবি করি না।
তোমারও নিশ্চয় অন্য কোনো সন্ধ্যা আছে,
ভেজা জামা তুলে নেওয়ার তাড়া,
ফোনে কারও ফেরার খবর।
অথচ আজও প্রথম ঝাপটায়
টেবিল থেকে বই সরাতে গিয়ে
মনে পড়ে, তুমি পৃষ্ঠা মুছতে না;
খোলা রেখে দিতে—
বলতে, শুকোক,
সবকিছুকে অত তাড়াতাড়ি ঠিক করতে নেই।
আমরা তখন সামান্য জল নিয়েও
কত কথা বলতে পারতাম।
অথচ শেষের দিকে
একই ঘরে বসে দুজন
আলাদা আলাদা আবহাওয়ার খবর দেখেছি।
এখন বুঝি, চলে যাওয়ার আগে মানুষ
সব সময় দরজার দিকে এগোয় না।
কখনও চায়ে চিনি কমিয়ে দেয়,
নিজের জন্য আলাদা তোয়ালে কেনে,
রবিবারের পরিকল্পনায়
একটা নাম উচ্চারণ করতে ভুলে যায়।
বৃষ্টি এসবের কিছুই জানে না।
সে বন্ধ দোকানের শাটারে পড়ে,
হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করা
লোকটির কাঁধেও।
শেষ বাস ধরতে ছুটে যাওয়া মেয়েটি
তার গান শোনার সময় পায় না।
আমি শুধু আজ একটু সময় পেয়েছি।
চুলায় জল বসিয়ে দাঁড়িয়ে আছি,
পুরোনো কথাগুলোকে
পুরোনো কথার মতোই থাকতে দিয়ে।
তোমাকে ফিরে পেতে ইচ্ছে করছে কি না—
নিজেকে সে প্রশ্নও করছি না।
কিছু সন্ধ্যা উত্তর চাইতে বসলে
আর সন্ধ্যা থাকে না।
পাশের বাড়িতে কেউ কাপড় তুলছে,
একটি শিশু বজ্রের শব্দে
হেসে উঠল হঠাৎ।
এতদিন পর খেয়াল করলাম,
ভয়েরও একাধিক উচ্চারণ আছে।
চা নিয়ে জানালার কাছে ফিরি।
দু-এক ফোঁটা এসে হাতে পড়ে।
হাত সরাই না।
বৃষ্টির গানে আজ
কাউকে ডাকার কথা নেই—
আছে ভিজে যাওয়া বইটির পৃষ্ঠা
আলতো করে খুলে দেওয়ার শব্দ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |