পুরোনো চিঠি
নমস্কার বন্ধুরা,
এই নিয়মে বাঁধা জীবনে একটু চেনা গণ্ডির বাইরে তো মন যেতেই চায়।অচেনা হাওয়ার হিমেল পরশ,কবিতার ছন্দে আকস্মিক ছন্দপতন এই তো জীবনের আরেক সুবাস।সময় এগিয়ে যাবে তার নিয়মে আমরাও কোথাও না কোথাও বদলাবো জেনে কিংবা নিজের অজান্তে।তবুও প্রেমে পড়লে এই কবিতার মরশুমে।
পুরোনো পাড়ায় গিয়ে দেখি,
রাস্তা ঠিকই আছে।
মোড়ের দোকানটা এখন ওষুধের,
পুকুর বুজিয়ে ওঠা বাড়ির গায়ে
বিকেলের রোদ পড়েছে।
রিকশাওয়ালা ঠিক চিনে নামিয়ে দিল—
কেবল কেন এসেছি,
সেটুকু তাকে বলতে পারলাম না।
যে বাড়িটায় ফিরব ভেবেছিলাম,
তার দরজায় অন্য রঙ।
কলিংবেল টিপলে একজন এসে
ভদ্রভাবে জানতে চাইল,
কাকে চাই।
একটি নাম বলতে গিয়ে বুঝলাম,
সেই নামের মানুষটি বেঁচে থাকলেও
আজ আর এই দরজা খুলত না।
ফেরার কোনো রাস্তা নেই—
কথাটা সেদিন প্রথম
রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে বুঝেছিলাম।
আমরা চলে আসার সময় ভাবি,
কিছু জিনিস অপেক্ষা করবে।
আলমারির মাথায় ধুলো পড়বে,
বালিশে রোদের গন্ধ থাকবে,
অভিমান একটু পুরোনো হলে
আবার ডেকে বসানো যাবে পাশে।
অথচ আমাদের অনুপস্থিতিতেও
ভাত ফোটে, দুধ উথলে পড়ে,
কেউ হাত পুড়িয়ে ফেলে তাড়াহুড়োয়।
নতুন কারও কাছে সেই গল্প বলা হয়।
যে হাসিটা একদিন আমার জন্য ছিল,
তারও অন্য উপলক্ষ জোটে।
এতে কারও দোষ নেই।
এই নির্দোষ বদলে যাওয়াটুকুই
মেনে নিতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে।
তোমার সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার দিন
আমি ভেবেছিলাম, কথাগুলো পরে বলব।
সেদিন খুব যানজট ছিল,
তোমার ফেরার তাড়া,
আমার নিজের ঠিক হওয়ার জেদ।
এখন সমস্ত কথাই মনে আছে,
শুধু যে মানুষটি সেগুলো শুনতে পারত
সে আর সেই দিনের মানুষ নেই।
আমিও কি আছি?
অনেক দিন তোমাকে ক্ষমা করিনি,
কারণ তাহলে নিজের দিকে তাকাতে হতো।
স্বীকার করতে হতো—
দরজাটা বন্ধ হওয়ার আগে
আমার হাতও একবার
ছিটকিনির কাছে গিয়েছিল।
বয়স আমাকে নির্দোষ করেনি।
শুধু অভিযোগের মাঝখানে
নিজের গলার স্বর চিনতে শিখিয়েছে।
এখন পুরোনো ছবি খুললে
ছবির ভিতরে ঢুকতে ইচ্ছে করে না।
বরং অবাক হয়ে দেখি,
কত অল্প জানতাম আমরা,
তবু কী নিশ্চিন্তে
একে অন্যের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম।
সেই নিশ্চিন্ত মুখগুলির জন্য
একটু মায়া হয়।
তাদের সাবধান করতে পারি না,
তাদের হয়ে বেঁচেও নিতে পারি না
বাকি বছরগুলি।
ফেরার কোনো রাস্তা নেই।
তবু পেছনে তাকানো বন্ধ হয় না।
বাড়ি বদলের সময়
অচল ঘড়িটাও বাক্সে উঠে আসে;
নতুন দেওয়ালে তাকে ঝোলাই না,
ফেলেও দিই না।
সেদিন পুরোনো পাড়া থেকে বেরিয়ে
কিছুদূর হেঁটেছিলাম।
বড় রাস্তায় এসে চালক জিজ্ঞেস করল,
কোথায় যাবেন?
মুখে প্রায় এসে গিয়েছিল
বহুদিন আগের ঠিকানাটা।
তারপর বর্তমান ঠিকানা বললাম।
বলতে একটু সময় লাগল।
গাড়ি চলতে শুরু করলে
বাড়ি থেকে ফোন এল—
ফেরার পথে রুটি নিয়ে এসো।
কতগুলো লাগবে জেনে নিলাম।
কাচের বাইরে তখন
একটা একটা করে দোকানের আলো জ্বলছে।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |