উৎসব
নমস্কার বন্ধুরা,
সময়ের পালাবদলে একটা প্রশ্ন থেকে যায়,আমরা আসলেই কি ঠিক ছিএলাম?আজকে এই ব্যস্ততম জীবনে দাঁড়িয়ে ফেরার তো আসলেই কোনো পথ নেই তবুও ভাবনারা আসে।
বৈশাখের প্রথম সন্ধ্যায়
দোকানের দরজায় আমপাতা দুলছে।
সারাদিনের গরমের পর
হাওয়া উঠেছে সামান্য—
মিষ্টির বাক্স হাতে মানুষ
ফিরে যাচ্ছে যে যার পুরোনো ঠিকানায়।
ক্যালেন্ডার বদলেছে।
দেয়ালে আগেরটির পিছনে
ধুলোর একটা চৌকো দাগ।
নতুন ছবি দিয়ে ঢেকে দিলাম;
পেরেকটা একই জায়গায় রইল।
বাবার সঙ্গে হালখাতায় যেতাম।
দোকানদার শরবত দিতেন,
আমি মিষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকতাম।
বাবা নিচু গলায় কী যেন বলতেন—
তখন বুঝিনি,
উৎসবের মধ্যেও
কিছু কথা আস্তে বলতে হয়।
আজ সেই দোকানে দাঁড়িয়ে
নিজের গলাও নিচু হয়ে আসে।
কাউন্টারের ওপারে অন্য মুখ,
একই ভঙ্গিতে খাতা টেনে নেয়।
বাইরে মাইকে নতুন দিনের গান,
ভিতরে একটি পুরোনো অঙ্ক
পরের পাতায় উঠে যায়।
তোমার শুভেচ্ছা এসেছে বিকেলে।
অনেক দিন পর
আমার নাম লিখে ডেকেছ।
উত্তর দিতে গিয়ে দেখি,
এই নামেই একসময়
তোমার কাছে কত সহজে পৌঁছে যেতাম।
এখন মাঝখানে
কোনও ঝগড়া নেই,
আছে দুজনের আলাদা সময়,
কিছু বদলে যাওয়া অভ্যাস,
আর কথা শুরুর আগে
কুশল জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন।
লিখলাম, ভালো থেকো।
তারপর মুছে জানতে চাইলাম—
তোমাদের ওখানে ঝড় উঠেছে?
এখানে উঠছে।
ফুলের দোকান থেকে উড়ে আসছে
ছেঁড়া সুতো, কয়েকটি পাপড়ি।
যে ছেলেটি সারাদিন মালা বিক্রি করেছে,
সে দুহাতে বাক্সের ঢাকনা চেপে
আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।
ফেরার সময় বৃষ্টি নামল।
নতুন পাঞ্জাবির কাঁধে
প্রথম জলের দাগ।
দৌড়ে বাড়ি ঢুকে দেখি,
খোলা জানালা দিয়ে
টেবিলের এক কোণ ভিজে গেছে।
খাতাটা সরাতে গিয়ে
তোমার উত্তর এলো—
এখানেও।
অনেক দিন পর
ওইটুকু কথার পাশে
আর কিছু লিখতে হলো না।
VOTE @bangla.witness as witness
OR
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |