গুপ্তযুগের ভাস্কর্যশিল্প
ভারতীয় শিল্প-ঐতিহ্যের ইতিহাসে গুপ্তযুগ এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আনুমানিক চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতকের মধ্যে ভারতীয় ভাস্কর্য, স্থাপত্য ও চিত্রকলায় যে পরিশীলন দেখা যায়, তাকে অনেক সময় ভারতীয় শিল্পের এক “স্বর্ণযুগ” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে মথুরা ও সারনাথের ভাস্কর্যশৈলী ভারতীয় শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এই তিনটি প্রস্তর ভাস্কর্যের ছবিতে সেই প্রাচীন শিল্পভাবনার বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। মূর্তিগুলির শরীরের গঠন, অলংকার, পোশাক, মুখের অভিব্যক্তি এবং পাথরের উপর সূক্ষ্ম কাজ- সব মিলিয়ে এগুলি শুধু পুরনো পাথরের মূর্তি নয়। এগুলি একটি সময়ের সামাজিক জীবন, নন্দনতত্ত্ব ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক চেতনার সাক্ষ্য। গুপ্তযুগের শিল্পীরা প্রাচীন ভারতীয় ভাস্কর্যের পূর্ববর্তী ধারাগুলিকে আরও পরিশীলিত করে তুলেছিল। মথুরা ছিল এই শিল্পচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অন্যদিকে সারনাথের শিল্পে বিশেষভাবে লক্ষ করা যায় শান্ত, কোমল ও আধ্যাত্মিক অভিব্যক্তি।
প্রথম ছবির ভাস্কর্যটি বিশেষভাবে দৃষ্টিনন্দন। এখানে একজন নারীমূর্তিকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যায়। মাথায় অলংকৃত কেশবিন্যাস, গলায় একাধিক হার, বাহুতে অলংকার এবং কোমরের পোশাক-সবকিছুতেই সূক্ষ্ম শিল্পবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। এই মূর্তিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো অলংকারের ব্যবহার। দ্বিতীয় ছবির ভাস্কর্যটিও একজন সুসজ্জিত মানব মূর্তির। প্রথম মূর্তিটির তুলনায় এর গড়ন কিছুটা ভিন্ন এবং ভাস্কর্যের উপস্থাপনায় আরও সংযত ও স্থির ভাব লক্ষ্য করা যায়। তৃতীয় ছবির ভাস্কর্যটি আগের দুটির তুলনায় বেশ আলাদা। এখানে একজন সুসজ্জিত ব্যক্তিত্বকে সামনের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মাথায় উঁচু কেশসজ্জা বা মুকুট, গলায় মালা এবং বাহুতে অলংকার রয়েছে।



High-Yield Curation by @steem-seven
Your content has been supported!
Maximize your passive income!
Delegate your SP to us and earn high rewards
Click here to see our Tiered Reward System
We are the hope!