প্রাচীন বৌদ্ধ ভাস্কর্য

ইতিহাসের কিছু অধ্যায় বইয়ের পাতায় লেখা থাকে, আবার কিছু ইতিহাস সময়ের ক্ষয় সহ্য করে পাথরের গায়ে টিকে থাকে। প্রাচীন ভারতীয় উপমহাদেশের ভাস্কর্য সেই অর্থে একেকটি জীবন্ত ইতিহাস। পাথরের শরীরে খোদাই করা মানুষের মুখ, পোশাক, অলংকার, দেহভঙ্গি এবং ধর্মীয় প্রতীক আমাদের বহু শতাব্দী আগের সমাজ, শিল্পচর্চা ও আধ্যাত্মিক ভাবনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই দুটি বৌদ্ধ ভাস্কর্যের ছবি সেই অনুভূতিটিই আরও গভীর করে তুলেছে। একটি ভাস্কর্যে একই পাথরের প্যানেলের মধ্যে বুদ্ধের বিভিন্ন মূর্তি ও সহচর চরিত্রের সমৃদ্ধ বিন্যাস দেখা যায়। অন্যটি একটি পূর্ণাঙ্গ দাঁড়ানো বুদ্ধমূর্তি- যেখানে সরলতা, প্রশান্তি এবং গাম্ভীর্য একসঙ্গে ফুটে উঠেছে। ভাস্কর্যটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় তার জটিল বিন্যাসের কারণে।

একটি অপেক্ষাকৃত উল্লম্ব পাথরের প্যানেলের মধ্যে একাধিক বুদ্ধমূর্তি, দাঁড়ানো ও বসা মানবাকৃতি এবং নানা অলংকারধর্মী নকশা অত্যন্ত ঘনভাবে খোদাই করা হয়েছে। দ্বিতীয় ছবির ভাস্কর্যটি প্রথমটির তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের অনুভূতি সৃষ্টি করে। এখানে একক একটি দাঁড়ানো বুদ্ধমূর্তি দেখা যায়। বুদ্ধের দেহ সামনের দিকে সোজা, মুখে শান্ত অভিব্যক্তি এবং পরনে দীর্ঘ ভিক্ষুর পোশাক। পোশাকের অসংখ্য সূক্ষ্ম ভাঁজ পাথরের গায়ে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে কাপড়ের প্রকৃতির অনুভূতি পাওয়া যায়। মূর্তিটির দুই হাতের অংশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত। বহু শতাব্দী ধরে প্রাকৃতিক ক্ষয়, স্থানান্তর এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিস্থিতির কারণে প্রাচীন ভাস্কর্যের হাত, মুখ বা অলংকারের অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবুও মূর্তিটির মূল সৌন্দর্য এখনও স্পষ্ট।