প্রাচীন ভাস্কর্যে ইতিহাস

প্রাচীন ভারতীয় শিল্প ও ভাস্কর্যের দিকে তাকালে মনে হয়, পাথরের মধ্যেও যেন ইতিহাস কথা বলে। সেই সময়ের শিল্পীরা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসকে তুলে ধরেননি, বরং তাঁদের নিখুঁত কারুকাজের মাধ্যমে সমাজ, সংস্কৃতি, নন্দনতত্ত্ব এবং আধ্যাত্মিক চিন্তারও পরিচয় রেখে গেছেন। প্রথম ছবিতে রয়েছে একটি প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি। বুদ্ধ এখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় উপবিষ্ট। তাঁর মুখের অভিব্যক্তিতে রয়েছে গভীর প্রশান্তি, সংযম এবং অন্তর্মুখী ভাব। চোখ দুটি অর্ধনিমীলিত, যেন বাইরের জগতের পরিবর্তে তিনি নিজের অন্তর্জগতের দিকে মনোনিবেশ করেছেন। মূর্তিটির চুলের বিন্যাস, মাথার পেছনের অলংকৃত প্রভামণ্ডল, দেহের গঠন এবং বসার ভঙ্গিতে প্রাচীন ভাস্কর্য শিল্পের সূক্ষ্মতা স্পষ্ট। দ্বিতীয় ছবিতে রয়েছে একটি প্রাচীন দেবীমূর্তি। দেবীকে বহু-বাহু অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়েছে এবং তাঁর বিভিন্ন হাতে বিভিন্ন প্রতীক ও উপাদান রয়েছে।

মাথার মুকুট, গলার হার, বাহুর অলংকার, কোমরের পোশাক এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে খোদাই করা অলংকরণ শিল্পীর অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দেয়। দেবীর পিছনে রয়েছে একটি সুন্দরভাবে অলংকৃত প্রভামণ্ডল বা পেছনের ফলক। এর চারপাশে ছোট ছোট মানবাকৃতি ও অলংকারধর্মী নকশা দেখা যায়। প্রাচীন ভাস্কর্যের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো-এগুলো শুধু শিল্পকর্ম নয়, এগুলো ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। শত শত বছর আগে যে শিল্পী পাথরের উপর তাঁর কল্পনা ও বিশ্বাসকে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, আজও সেই কাজ আমাদের সামনে উপস্থিত। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে। রাজ্য, সমাজ, পোশাক, জীবনযাপন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেছে। কিন্তু পাথরের গায়ে খোদাই করা সেই শিল্প আজও আমাদের অতীতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে।