পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ৯ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের নবম পর্ব শেয়ার করে নেবো। দরজাটা খুলে যাওয়ার পর কয়েক সেকেন্ড অর্ক যেন নিজের শরীরের অস্তিত্বই ভুলে গিয়েছিল। সে দাঁড়িয়ে ছিল দরজার ঠিক সামনে।এক পা বারান্দায় আর অন্য পা অন্ধকার ঘরের দোরগোড়ার বাইরে। তার সামনে যে ঘরটা ত্রিশ বছর ধরে বন্ধ ছিল, সেই ঘর এখন হাট করে খোলা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দরজাটা খুলে যাওয়ার পর ভেতর থেকে কোনো বাতাস বেরিয়ে এল না। বরং মনে হলো ঘরটা যেন বাইরের বাতাস নিজের ভেতরে টেনে নিচ্ছে। করিডোরের কেরোসিন বাতিটা তখনও জ্বলছিল। কিন্তু দরজার ভেতরে আলো ঢুকছিল না। মনে হচ্ছিল আলোটা দরজার চৌকাঠে এসে থেমে যাচ্ছে। অর্ক গিলে ফেলল শুকনো লালা।
তার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ এত জোরে হচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল, অন্ধকার ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা কেউ হয়তো সেই শব্দও শুনতে পাচ্ছে। কিছুক্ষণ আগেই সে স্পষ্ট শুনেছে- অর্ক...। তারপর- অর্ক... দরজাটা খোল। সেই কণ্ঠস্বর তার বাবার, তার মৃত বাবার।এক সপ্তাহ আগে যার শেষকৃত্য সে নিজে করেছে। অর্ক চোখ বন্ধ করল। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করল- এটা সম্ভব নয়, হয়তো দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, হয়তো বাবার মৃত্যুর শোক, হয়তো পুরনো বাড়ির অদ্ভুত শব্দকে মস্তিষ্ক বাবার কণ্ঠস্বর বলে মনে করেছে। কিন্তু একটা প্রশ্ন বারবার মাথায় ফিরে আসছিল- যদি সবটাই ভুল শোনা হয়, তাহলে দরজাটা খুলল কীভাবে? ত্রিশ বছর ধরে মরচে ধরা তালাটা নিজে থেকে মেঝেতে পড়ে গেল কীভাবে? অর্ক ধীরে ধীরে দরজার ভেতরে তাকাল।....
