পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ৮ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো। অর্কের শরীর কাঁপতে শুরু করল, কারণ কণ্ঠটা সে চিনতে পেরেছে। এটা তার বাবার গলা, ঠিক বাবার মতো। ঠিক সেই স্বর, ঠিক সেই উচ্চারণ। কিন্তু তার বাবা তো এক সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। অর্ক পিছিয়ে আসতে গিয়েও পারল না। দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এসে তার পায়ে লাগল। তারপর ভেতর থেকে আবার তিনবার টোকা পড়ল- টক, টক, টক। এবার অর্কের চোখ পড়ল তালার দিকে। ত্রিশ বছরের পুরনো তালা। কিন্তু আশ্চর্য- তালাটা কাঁপছে। যেন ভেতর থেকে কেউ দরজাটা ধাক্কা দিচ্ছে। অর্ক দৌড়ে নিজের ঘরের দিকে ফিরে যেতে চাইল। ঠিক তখনই পিছন থেকে শব্দ হলো- ঝনঝন...সে ঘুরে দাঁড়াল।
দরজার তালাটা মাটিতে পড়ে গেছে, কীভাবে পড়ল সে জানে না। কিন্তু তার থেকেও ভয়ংকর ব্যাপার- দরজাটা ধীরে ধীরে নিজে থেকেই খুলছে- এক ইঞ্চি, দুই ইঞ্চি। তারপর আরও একটু, ভেতরটা সম্পূর্ণ অন্ধকার। অর্ক নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রইল। অন্ধকারের মধ্যে যেন একটা অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে। সে অবয়বটা নড়ছে না, শুধু তাকিয়ে আছে। আর তারপর সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে আবার বাবার কণ্ঠ ভেসে এল- তুই এত দেরি করলি কেন, অর্ক? অর্কের চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেল। কারণ তার বাবার মৃত্যুর আগের শেষ কথাটা হঠাৎ মনে পড়ল- উত্তরের ঘরটা খুলবি না। আর এখন- ত্রিশ বছর ধরে বন্ধ থাকা সেই ঘরটা নিজে থেকেই খুলে গেছে।....
