পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ১৪ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের ১৪ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। তারপর একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল- অর্ক...। অর্কের শরীর অবশ হয়ে গেল। এইবারও বাবার কণ্ঠ, কিন্তু এবার কণ্ঠস্বরটা অনেক দূর থেকে আসছে না।একেবারে দরজার ওপাশ থেকে- অর্ক... দরজাটা খোল। অর্ক চোখ বন্ধ করল। তার হাত দরজার খিলের দিকে চলে গেল।.এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো- খুলে দিই, যদি সত্যিই বাবা হন? যদি কোনোভাবে...না। অসম্ভব, বাবা মারা গেছেন। অর্ক নিজেই তাকে শ্মশানে নিয়ে গেছে। নিজেই আগুন দিয়েছে, সে খিলের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিল। বাইরের কণ্ঠস্বর আবার বলল- তুই আমাকে কথা দিয়েছিলি... অর্কের বুক কেঁপে উঠল। এই কথাটা সে কখনও কাউকে বলেনি।
বাবা মারা যাওয়ার আগের রাতে, অর্ক বাবার হাত ধরে বলেছিল- আপনি চিন্তা করবেন না। আমি বাড়িটা বিক্রি করব না। বাবা শুধু চোখ বন্ধ করে বলেছিলেন- কথা দে। অর্ক বলেছিল- কথা দিলাম।বাইরে থেকে আবার কণ্ঠস্বর এল- কথা রাখিস... তারপর সব নিস্তব্ধ। অর্ক কয়েক মিনিট নড়ল না।শেষ পর্যন্ত সাহস করে দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল- করিডোর খালি, কেউ নেই। কিন্তু মেঝেতে একটা জিনিস পড়ে আছে- একটা কাগজ। অর্ক দরজা খুলল না, শুধু নিচু হয়ে কাগজটা তুলে নিল। কাগজটা পুরনো, হলুদ। তার ওপর মাত্র একটা বাক্য লেখা- দরজা খুলেছে। এবার হিসাব শুরু হবে। অর্কের হাত কাঁপতে লাগল। পরদিন সকাল পর্যন্ত অর্ক আর ঘুমাতে পারেনি। সূর্য ওঠার পর বাড়িটা যেন আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। পাখির ডাক, উঠোনে আলো।পুকুরের জলে রোদের ঝিলিক।...
