পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ১৩ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের ১৩ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর- ঢাকনা তুলতেই পুরনো কাগজের গন্ধ নাকে এল।ভেতরে কয়েকটা হলুদ হয়ে যাওয়া ছবি। একটা মোটা খাতা আর একটা ছোট কাপড়ে মোড়া প্যাকেট। অর্ক প্রথমে ছবিগুলো দেখতে শুরু করল। একটা ছবিতে দেখা যাচ্ছে পুরনো জমিদার বাড়ির সামনের উঠোন, সম্ভবত চল্লিশ-পঞ্চাশ বছর আগের। সামনে দাঁড়িয়ে কয়েকজন মানুষ।অর্ক ছবিটা হাতে নিয়ে ভালো করে দেখল। তারপর হঠাৎ তার চোখ একটা মানুষের মুখে আটকে গেল। ছবির একেবারে বাঁদিকে দাঁড়িয়ে থাকা একজন যুবক। অর্ক সেই মুখটা চিনতে পারল- তার বাবা। কিন্তু বাবার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল আরেকজন। বয়সে বাবার চেয়ে অন্তত দশ-পনেরো বছর বড়। দীর্ঘ মুখ, পাতলা গোঁফ।
চোখ দুটো অস্বাভাবিক গম্ভীর। অর্ক সেই মানুষটাকে কখনও দেখেনি। ছবির পেছনে কালো কালিতে লেখা- রায়চৌধুরী বাড়ির শেষ পূর্ণিমা। তার নিচে একটা তারিখ, ত্রিশ বছর আগের। অর্ক ছবিটা উল্টে আবার সামনে আনল। তার বাবার মুখে তখনও হাসি, কিন্তু পাশে দাঁড়ানো মানুষটার মুখে কোনো হাসি নেই। বরং সে সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আছে। অর্কের শরীরের মধ্যে কাঁটা দিয়ে উঠল। কারণ ছবির চোখ দুটো যেন তাকে দেখছে। অর্ক ছবিটা নিয়ে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ দরজার বাইরে পায়ের শব্দ শুনল- ধীরে, খুব ধীরে। কেউ যেন করিডোর দিয়ে হাঁটছে- খট...খট...খট... তারপর শব্দটা থেমে গেল। অর্ক আলো নিভিয়ে দিল, ঘরের মধ্যে অন্ধকার। সে নিঃশব্দে দরজার কাছে গিয়ে কান পাতল। কেউ বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কি না বোঝা যাচ্ছে না।...
