পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর ( পর্ব ১৮ )
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে "পুরনো জমিদার বাড়ির বন্ধ ঘর" গল্পের ১৮ তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। অর্ক আবার জিজ্ঞেস করল- জ্যাঠামশাই কি মারা গিয়েছিলেন? নিতাই এবার সরাসরি তার চোখের দিকে তাকাল। আমি জানি না, ত্রিশ বছর ধরে? হ্যাঁ। কেউ ঘরে ঢোকেনি? না। তাহলে উনি...নিতাই কথা শেষ করতে দিল না। গত রাতে আপনি যখন দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন, ভেতরে কাউকে দেখেছিলেন? অর্ক চুপ করে গেল।নিতাই বুঝে গেল- দেখেছিলেন। অর্ক ধীরে মাথা নাড়ল। নিতাই পেছনে সরে গেল, তাহলে দেরি হয়ে গেছে। কিসের জন্য? বৃদ্ধ বলল- ঘর খুলেছে মানে শুধু দরজা খোলেনি। তাহলে? যে জিনিসটাকে এতদিন আটকে রাখা হয়েছিল... সেটাও এখন আর আটকে নেই। সেদিন দুপুরে অর্ক একা উত্তরের ঘরের সামনে দাঁড়াল।
দিনের আলোয় জায়গাটা আর তেমন ভয়ঙ্কর লাগছিল না। তবুও তার ভেতরে অস্বস্তি, দরজা এখনও খোলা। অর্ক দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে টর্চ জ্বালাল। এবার ঘরের ভেতর কিছুটা দেখা গেল। ঘরটা খুব বড় নয়, এক পাশে কাঠের আলমারি। অন্য পাশে একটা পুরনো টেবিল। টেবিলের ওপর ধুলোর স্তর। দেয়ালে কয়েকটা বিবর্ণ ছবি। মেঝেতে একটা লোহার বাক্স। আর ঘরের একেবারে শেষ প্রান্তে- একটা চেয়ার। চেয়ারটা জানালার দিকে মুখ করা। কেউ যেন অনেকক্ষণ আগে সেখানে বসে ছিল। অর্ক ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকল। দরজার চৌকাঠ পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নাকে একটা গন্ধ এল।পুরনো কাঠের গন্ধ, সেঁতসেঁতে মাটির গন্ধ। আর তার সঙ্গে খুব হালকা একটা সুগন্ধি। অর্ক থেমে গেল। এই গন্ধটা সে চেনে।...
