জীবনের গল্প || সুস্থতায় অতীতের যত প্রচেষ্টা
হ্যালো বন্ধুরা,
কেমন আছেন সবাই? আশা করছি সবাই ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমিও ভালো আছি এবং সুস্থ আছি। হৃদয়ের চঞ্চলতা নিয়ে আরো বেশী সুন্দর মানসিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। যদিও নানা বিষয় নিয়ে মাঝে মাঝে প্রকৃতির উপর নানা দোষ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আসলে এটা আমাদের দারুণ একটা দোষ না দোষ বললে সবাই আবার মনে কষ্ট পাবে তারচেয়ে বৈশিষ্ট্য বলাটাই উত্তম হবে। কারণ আমরা নিজেদের দোষ ধরাটা খুব একটা পছন্দ করি না, বরং অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে বেশী স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
অথচ আমাদের অতীত ইতিহাসটা এমনটা ছিলো না, সেখানে আমরা আরো বেশী সচেতন ও যত্নশীল ছিলাম, তার সাথে ছিলো জীবনের সুস্থতা। অতীতটা না হয় বাদই দিলাম, আপনি আপনার জীবনের পেছনের দিকে একটু তাকিয়ে দেখুন তো? আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন যে কোন প্রয়োজনে পরিবারের সবাই কি ডাক্তার এর কাছে দৌড় দিয়েছিলেন। নাকি আপনার শারীরিক যে কোন সমস্যায় তারা প্রকৃতির উপর নির্ভর করেছেন। সকল সমস্যায় তারা প্রথমে ভেষজ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা নেয়ার চেষ্টা করেছেন।
কেন? তারা কি খুব বেশী বোকা ছিলো? নাকি তারা খুব বেশী অজ্ঞতায় ডুবে ছিলো? না, তেমন কিছুই না বরং তাদের বিশ্বাসটা ডাক্তারের উপর নয়, ডাক্তারের দেয়া সেই ঔষধের উপর নয় বরং সৃষ্টিকর্তার দারুণ অবদান প্রকৃতির উপর ছিলো। তাদের বিশ্বাস তাদের সুস্থ রেখেছে, মানসিকভাবে শক্তিশালী করেছে এবং সেই কারণেই তারা তাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে প্রকৃতির উপর বেশী নির্ভর করতেন। প্রতিদানে তারা কখনো নিরাশ হোন নাই, বরং সর্বক্ষেত্রে তারা আধুনিক সভ্যতার তুলনায় একটু বেশীই নিরাপদ ছিলেন।
আমার একদম স্পষ্ট মনে আছে, মা’র কাছে পেটের ব্যথা নিয়ে গেলেই আগে জানার চেষ্টা করতেন উল্টা পাল্টা কিছু খেয়েছি কিনা? খাবারের সময়টা কেমন ছিলো, যদি কোন কিছুই না পেতেন তাহলে খুব সুন্দর একটা সমাধান দিয়ে দিতেন। একটা পান পাতা নিয়ে সেটাতে সরিষার তেল মাখিয়ে নিতেন তারপর খুব সুন্দর করে সেটা পেটের উপর মালিশ করতেন। তারপর সেই পানটা নিয়ে আগুনে পুড়ে ফেলতেন। আর সেটার শব্দ শুনে অনুমান করতে পারতেন সমস্যাটা কোথায় হয়েছে।
কিন্তু এখন, আমরা খুব বেশী অধৈর্য হয়ে পড়ি, বাড়ির শিশুরা সামান্য কিছুতে আক্রান্ত হলেই সাথে সাথে ডাক্তার এর কাছে দৌড়, একটু সময় দেয়ার চেষ্টা করে না, খুব দ্রুত সুস্থতা কামনা করে। এর ফলে হয়তো সাময়িক সময়ের জন্য শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন কিন্তু ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় দীর্ঘ মেয়াদে তারা ঠিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। সময়ের সাথে সব ক্ষেত্রে পরিরর্তন এসেছে, আমাদের বোধ ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু সেটা আমাদের দীর্ঘ মেয়াদে সুস্থতা দিতে পারে নাই যেমনটা ভেষজ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা আমাদের দিয়েছিলো, আফসোস!
Image Taken From Pixabay
ধন্যবাদ সবাইকে।
@hafizullah
আমি মোঃ হাফিজ উল্লাহ, চাকুরীজীবী। বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করি। ব্যক্তি স্বাধীনতাকে সমর্থন করি, তবে সর্বদা নিজেকে ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করি। পড়তে, শুনতে এবং লিখতে ভালোবাসি। নিজের মত প্রকাশের এবং অন্যের মতামতকে মূল্যায়নের চেষ্টা করি। ব্যক্তি হিসেবে অলস এবং ভ্রমন প্রিয়।
|| আমার বাংলা ব্লগ-শুরু করো বাংলা দিয়ে ||


>>>>>|| এখানে ক্লিক করো ডিসকর্ড চ্যানেলে জয়েন করার জন্য ||<<<<<

Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
Support @Bangla.Witness by Casting your witness vote
VOTE @bangla.witness as witness
OR