দুর্গাপূজার প্যান্ডেল, পর্ব-৩।
বিগত দিন শেয়ার করেছিলাম,
পঞ্চবীথি পূজা কমিটির প্যান্ডেল দেখার মুহুর্ত। কথা দিয়েছিলাম পরবর্তী দিন অন্য একটা প্যান্ডেল শেয়ার করবো। তাই আবারও চলে এলাম,
আমার দেখা পরবর্তী প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্ত শেয়ার করতে।
পঞ্চবীথি প্যান্ডেল থেকে বেরোতেই চোখে পড়ে অন্য একটা প্যান্ডেল। পঞ্চবীথি প্যান্ডেল থেকে ঐ প্যান্ডেল পর্যন্ত রাস্তা দিয়ে আলোয় ভরিয়ে তোলা হয়েছে।
বিভিন্ন রঙের আলো টুনি বাল্ব দিয়ে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যেন দেখে মনে হচ্ছে অন্য কোনো একটা জগতে চলে এসেছি। যেদিকে তাকাচ্ছি সেদিকেই আলো ঝলমল করছে। দুর থেকে প্যান্ডেল দেখা যাচ্ছে।
প্যান্ডেল : সাহেবের কবরখানা পূজা কমিটি।
স্থান: ডাকবাংলা মোড়, খুলনা।
প্রতিটা প্যান্ডেলই সুন্দর। তবে এই প্যান্ডেলটা আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে। প্যান্ডেলে প্রবেশ গেটটাও আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। হলুদ রঙের উপর সুন্দর নকশা করে তৈরি করেছে।
প্যান্ডেলে প্রবেশ করার জন্য পুরুষ ও মহিলাদের জন্য দুটো প্রবেশ পথ ছিলো সেটা আমার কাছে যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়েছে। ভেরতের পরিবেশটাও সুন্দর ছিলো।
সেই সাথে এই প্যান্ডেলের প্রতিমাগুলো একটু ইউনিক করে তৈরি করা হয়েছে। অন্য যতগুলো প্যান্ডেল দেখেছি সবগুলোর থেকে মায়ের এই প্রতিমা গুলো অনেকটা আলাদা।
দুই স্তরে মায়ের প্রতিমাকে সাজানো হয়েছে। একই প্যান্ডেলে দুইভাবে তৈরি করা হয়েছে। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ ভালো লেগেছে।
মাকে প্রণাম করে বাইরে চলে এলাম। প্যান্ডেলের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা ছিলো তাই ভীড়ও কম ছিলো। একেকটা প্যান্ডেল একেক ভাবে সাজানো হয়েছে তাই একটা প্যান্ডেল ঘোরা শেষ হলে অন্য আরেকটা দেখার জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে থাকে মন।
প্যান্ডেলের পাশের গাছটা কত সুন্দর করে সাজানো, আলোয় গাছের সবুজ পাতাগুলো আরও সতেজ মনে হচ্ছে।
প্যান্ডেল : ধর্মসভা মন্দির।
স্থান : ডাকবাংলা, খুলনা।
খুলনায় যতগুলো স্থায়ী মন্দির আছে সেগুলোর মধ্যে ধর্মসভা মন্দির অন্যতম। এখানে প্রতি বছর অনেক বড় আয়োজনে দূর্গা পূজা করা হয়। শুধু মাত্র দুর্গাপূজা নয়, এখানে কালী পূজা ও নাম যজ্ঞ হয়ে থাকে।
প্যান্ডেলের উপর দিয়ে আলোর ছাউনি তৈরি হয়েছে, কি সুন্দরই না লাগছে।
আমি বিগত একটা পোস্টে বলেছিলাম কিছু মন্দিরে এমন ভাবে আলো দিয়ে সাজানো হয় যেখানে সঠিক ভাবে মায়ের দিকে তাকাতেও সমস্যা হয়।
আপনারা ছবিগুলো দেখে হয়ত বুঝতে পারছেন, মায়ের প্রতিমার উপর এমন ভাবে আলো পড়েছে যে ক্যামেরায় ছবি ভালো ভাবে আসছে না। সত্যি বলতে, এমন আলোতে আমার মাথা ঘুরে আসছিলো।
এখানেও অনেক লোকের ভীড় ছিলো। বছরের এই সময়টার অপেক্ষা করে কোটি মানুষ। শত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের ও প্রিয়জনদের জন্য সময় বের করে দুর্গা পূজা উপভোগ করে।
এবছর সপ্তমী পূজা হয়েছিলো দু'দিন। আমি দু'দিনই ঘুুরতে বেরিয়েছিলাম। তবে আপনাদের মাঝে শেয়ার করছি সপ্তমীর ১ম দিনের ঘোরার মুহুর্ত। আজকের লেখায় দুটো প্যান্ডেলের মুহুর্ত শেয়ার করে এখানেই বিদায় নিচ্ছি, পরবর্তীতে নতুন কিছু শেয়ার করবো। সকলে ভালো থাকবেন।
curated by wirngo
Thank you very much for your support.