দুর্গাপূজার প্যান্ডেল পর্ব- ২।
আশা করি, সকলে অনেক ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি। বিগত দিন আপনাদের মাঝে দোলখোলা দূর্গা পূজা মণ্ডপে প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্ত শেয়ার করেছিলাম। আজ আপনাদের মাঝে আবার অন্য প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্তগুলো তুলে ধরবো।
দোলখোলা প্যান্ডেল দেখার পর আমরা কিছুটা দুরে পঞ্চবীথি সার্বজনীন পূজা প্যান্ডেলে গিয়েছিলাম।
দোলখোলা হলো একটা স্থায়ী মন্দির তবে পঞ্চবীথি কোনো স্থানীয় মন্দির নয়। তবে পূজার সময় এটি প্রতি বছর নতুন সাজে সেজে ওঠে।
প্যান্ডেল : পঞ্চবীথি পূজা কমিটি।
স্থান: ডাকবাংলা মোড়, খুলনা।
সাতরাস্তা থেকে ডাকবাংলা মোড় খুব বেশি দুরে না। আমরা এমন ভাবে প্যান্ডেল দেখছিলাম যেন ধাপে ধাপে একেকটা প্যান্ডেল দেখে সবগুলো পর্যায়ক্রমে শেষ করতে পারি।
খুলনার অনেক প্যান্ডেলগুলো রাস্তার উপর তৈরি করা হয় তাই জায়গার সংকট দেখা যায়।ছোটো জায়গার মধ্যে এমন ভাবে সাজানো হয় দেখলে মন জুড়িয়ে যায় তবে মন খারাপ হয়ে যায় এটা ভেবে যে, পূজা শেষ হতেই সবগুলো উলোটপালোট হয়ে যাবে।
পূজার কটা দিনের জন্য এত আয়োজন এত পরিশ্রম, এটাই তো সংস্কৃতি।
প্যান্ডেলের ভেতরে প্রবেশ করলে সর্বপ্রথম চোখে পড়ে দূ্র্গা মায়ের মুখ। প্যান্ডেলের ভেতরে অন্য কোনো নকশা নেই দোলখোলা প্যান্ডেলের মতো করে। খুব সিম্পল ভাবে সাজানো হয়েছে।
তবে, একটা বিষয় খুব খারাপ লেগেছিলো আমার নিকট সেটা হলো, প্যান্ডেলের ভেতর লাইটিং দিয়ে এমন ভাবে সাজানো হয়েছিলো যে মায়ের মুখের দিকে তাকাতেও সমস্যা হচ্ছিলো। এক দৃষ্টিতে তাকানো যাচ্ছিলো না। বাকি সব ঠিক ছিলো।
প্যান্ডেলের ভেতরে কয়েকটা ছবি তুলে বাইরে চলো এলাম। ভীড়ের মাঝে ছবি উঠাতেও বেগ পোহাতে হয়। তবুও চেষ্টা করে কিছু স্মৃতি ধারন করে রাখার।
প্যান্ডেল থেকে বাইরের পথটা যেন আলোয় ঝলমল করছে। পাশের দালানগুলোও আলোয় ভরে উঠেছে।
রাস্তার পাশে ছোটো বড় অনেক ধরনের পুতুল বিক্রি করা হচ্ছে। এসব পুতুল শুধু যে বাচ্চাদের প্রিয় এমন নয় বরং ঘর সাজাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমার কাছেও এগুলো ভীষণ সুন্দর লাগছিলো।
সবাই প্যান্ডেলর সামনে বা ভিতরে ছবি উঠছে, কেউ হয়ত অন্যকে ছবি তুলে দিচ্ছে আবার সাথে সঙ্গী না থাকলে নিজে নিজেই সেলফি উঠছে। আমার সাথে যেহেতু বন্ধুরা ছিলো তাই ওদেরকে দিয়ে কয়েকটা ছবি উঠলাম। তবে এত মানুষের মাঝে ছবি উঠাও ভীষণ ঝামেলার কারন ছবি উঠতে গেলেই হুট করে কেউ না কেউ ক্যামেরার সামনে চলে আসছে। তবুও ধৈর্য্য ধরে কয়েকটা ছবি উঠলাম, অন্তত জীবনের অতীতকে স্মরণ করতে স্মৃতিগুলো বন্দী করে রাখছি। অতীতের স্মৃতিগুলো স্মরণ করে হোক বা ক্যামেরায় বন্দী স্মৃতিগুলো চোখে দেখে হোক, নিজের বর্তমান আর অতীতের তফাত বুঝতে সাহায্য করে।
আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি। পরবর্তী পোস্টে আবারও নতুন অন্য কোনো প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্ত শেয়ার করবো। সকলে অনেক ভালো থাকবেন।
Thank you Very much for your support. 🙏