দূর্গাপূজার প্যান্ডেল, পর্ব - ১।
আশা করি, সবাই অনেক বেশি ভালো আছেন। আমিও ভালো আছি।
সবাই মোটামুটি দুর্গাপূজায় ঘোরাঘুরি করার মুহুর্ত শেয়ার করেছেন। তবে আমি এখনও এবছর পূজার কোনো মুহুর্ত শেয়ার করিনি তাই আজ আপনাদের সাথে এবছরের পূজায় ঘোরাঘুরির কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো।
তবে সব থেকে অবাক লাগে,
আমরা সারাবছর পূজার জন্য অধির অপেক্ষায় থাকি তবে একবার মহালয়া শুরু হলে কখন ষষ্ঠী, সপ্তমী করে একে একে দশমী পার হয়ে যায় সেটা বুঝতে পারি না। তাছাড়া এবছর দূর্গা পূজা হয়েছে ৬ দিন তবুও কেন জানি মনে হচ্ছে আরও কয়েক দিন মা আমাদের মাঝে থাকলে ভালো হতো।
প্যান্ডেল : দোলখোলা সার্বজনীন পূজা কমিটি মন্ডপ।
স্থান : সাতরাস্তা, খুলনা।
এবছর আমি সর্বপ্রথম যেখানে মায়ের মুখ দর্শন করেছি সেটা হলো - দোলখোলা মন্দিরে।
খুলনা সব থেকে পুরানো মন্দিরগুলোর মধ্যে অন্যতম। খুলনাতে অনেক জায়গায় দূর্গা পূজা করা হয় তবে কিছু কিছু মন্দির বাড়তি দৃষ্টি আকর্ষণ করে সকলের তার মধ্যে দোলখোলা মন্দির তালিকায় উপরের দিকে থাকে।
যে যাই বলেন না কেন,
একা একা পূজা দেখায় কিন্তু আনন্দ অনেকটা মলীন হয়ে যায়। তাই সঙ্গে বন্ধুকে নিয়েছিলাম আর যাই হোক বা না হোক মতামত শেয়ার করার জন্য একজনকে তো দরকার। কোন প্যান্ডেল কেমন হলো,কোনটা বেশি সুন্দর হলো এসব আলোচনার জন্য আর কি!
দূর্গাপূজার সময় শহর থেকে গ্রাম যেভাবে আলোয় আলোকিত হয় অন্য কোনো সময় এমনটা হয় না বললেই।
হ্যা, অন্যান্য অনুষ্ঠানে সবাই মেতে উঠি ঠিকই তবে দুর্গাপূজার মতো এতটা উৎসাহ আগ্রহ নিয়ে নয়, অন্তত আমার কাছে তো তেমনটাই মনে হয়।
গ্রাম হোক বা শহর প্রতিটা কোনায়, আনাচেকানাচে আলো ঝলমল করে।
টুনি বাল্বের আলোগুলো যেন জানান দেয়, আমরাও জেগে আছি, বছরের এই দিনের অপেক্ষায় আমরাও ছিলাম, উৎসবের আনন্দ আমরাও উপভোগ করছি।
ভীড়ে এগিয়ে যাওয়া ভার। সবার ইচ্ছে কে আগে মায়ের সামনে দাঁড়াবে। আমিও ধীর গতিতে এগিয়ে চললাম।
প্যান্ডেলের ভেতরের জায়গাটা সরু তবে লোকসংখ্যা অনেক।
মা দূর্গা হলো শক্তির দেবী। আমাদের বিশ্বাস যখনই অপশক্তির মাত্রা বেড়ে যায় তখন মা নিজে হাতে সেগুলোকে দমন করেন। সেই অপশক্তি হোক বাহ্যিক অথবা মনের।
দূর্গা মায়ের মুখের দিকে তাকালে কেন জানি আমার মনের অন্য সকল চিন্তা দূর হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য এটাই হয়ত তার অলৌকিক শক্তি ।
প্যান্ডেলের ভেতরে চারপাশে সুন্দর সুন্দর নকশা করেছিলো। শিব - পার্বতী, হনুমান ও সেই সাথক মা দূর্গা ভিন্ন ভিন্ন রূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছিলো।
ঈশ্বর কি অদ্ভুত শক্তি দিয়েছে, হাতের রং তুলির আচোড় আর বাস্তবের মধ্যে তেমন পার্থক্য পাওয়া মুশকিল। প্যান্ডেলের ভেতরে মানুষ বাড়তে থাকে তাই ভেতরে বেশিক্ষণ দেরি না করে বাইরে চলে আসি।
প্যান্ডের সব কিছুই ছিলো চোখ জুড়ানো তবে জায়গার স্বল্পতার কারনে ভীড় বেশি হয়েছিলো। আমরা হয়ত খুব সহজে ঘুরে দেখতে পেরেছি তবে বয়স্ক মানুষের প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে খানিক সমস্যা হবে।
আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি, পরবর্তী পোস্ট অন্য একটা প্যান্ডেল ঘুরে দেখার মুহুর্ত শেয়ার করবো। সকলে ভালো থাকবেন।
Thank you ma'm for your support.