শালুক ফুলের গল্প
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। আশা করি সবাই ভালো এবং সুস্থ আছেন। আমিও বেশ ভালো আছি। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। আশা করছি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। আজ শালুক ফুলের গল্প শেয়ার করব ।
প্রতিদিনের মতো সেদিন সকালে উঠে আমি টিউশন পড়াতে বসি। তবে সেদিন ভাইয়ের একটা জিনিস দেওয়ার কথা ছিল তাই ভাই আগের রাতে কল করে বলেছিল টিউশন ছুটির সময় দেখা করতে। ভাইয়ের টিউশন ছুটি হয় প্রায় নয়টায়। আমি টিউশন পড়াচ্ছিলাম তাই আমি নিজে না গিয়ে বুনুকে পাঠালাম নয়টা বাজার একটু আগে।
কিছুক্ষণ বাদেই বুনু ফিরে আসে। বুনু সাইকেল নিয়ে গিয়েছিল। আর বাড়িতে সাইকেল নিয়ে ঢুকতেই দেখলাম সাইকেলের ঝুড়িতে দুই আঁটি বাঁধা শালুক ফুল। আমি দেখেই একদম অবাক, আমার সাথে সাথে বাড়ির সবাইও অবাক। আমরা সবাই বুনুকে জিজ্ঞেস করছিলাম যে এতগুলো ফুল কোথায় পেলো বা কে দিলো! তখন বুনু বলল এগুলো ভাই দিয়েছে।
আমি তো ফুলগুলো দেখে খুশিই হয়েছিলাম। তবে মা আর ঠাম্মা বকা দিচ্ছিল বলছিলো যে এত ফুল দিয়ে কী হবে! শুধু শুধু ফুল তুলে নষ্ট।
যাইহোক আমি একটু ফুলের সাথে সেলফি তুলে নিলাম। তারপর আবার পড়াতে বসি। আর বুনুকে বললাম ফুলগুলোকে জলের মধ্যে রাখতে। বুনু আমার কথা মতো এক বালতি জলের মধ্যে ফুলগুলো রাখলো। কিছুক্ষণ পরেই আমার ছাত্রী সৃষ্টি বলল আমিও শালুক ফুল নেবো। তারপর ছুটির সময় সৃষ্টিকে দুটো- তিনটে ফুল দিলাম। ফুল নিয়ে সৃষ্টি বেশ খুশি হয়ে বাড়ি গেলো। এর মধ্যেই দেখি ফুলগুলো বুজে যেতে শুরু করেছে। তারপর ভাইকে কল করলাম জিজ্ঞেস করলাম ফুলগুলো আর ফুটবে কি না! তখন ভাই বলল রাতে ফুটতে পারে। তাই ফুলগুলো জলের মধ্যেই রাখলাম তবে ছায়াতে।
এবার বলি ভাই কেনো এরকম হঠাৎ করে ফুল তুলে আনলো। এর আগে আমি যখন মামার বাড়ি গিয়েছিলাম, মামার বাড়ি থেকে ফিরে আসার সময় রাস্তার দুপাশে জমিগুলোতে অনেক শালুক ফুল ফুটে ছিল এবং সেগুলো খুব সুন্দর লাগছিল দেখতে। দেখেই মন জুড়িয়ে যাচ্ছিল।
তখন আমি ভাইকে বলেছিলাম ফুলগুলো নিতে পারলে ভালো হতো। ভাই সেটা মনে রেখে দিয়েছে তাই আমার জন্য টিউশন আসার পথে জমি থেকে শালুক ফুল তুলে নিয়ে এসেছে।
যাইহোক, সন্ধ্যাবেলা থেকেই শালুক ফুলগুলো আবার ফুটতে শুরু করেছিল। কি অপূর্ব না লাগছিল দেখতে। সামনে থেকে না দেখলে হয়তো বলে বোঝানো যাবে না।
আজ এখানেই শেষ করছি বন্ধুরা। সবাই ভালো থাকবেন। গল্পটা কেমন লাগলো টা অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ।