বাঙালির দশমী!
একজন বাঙালির জীবনে যেকোনো অনুষ্ঠান কিংবা উৎসব পালন সম্পন্ন হয় খাওয়ার হাত ধরে!
শুরু থেকে শেষ, সবটা মিলিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের তালিকা।
পার্থক্য একটাই, আমার শৈশবে ছিল অন্দরমহলে রান্নার তোড়জোড়, আর এখন সেই ভিড় দেখা যায় ভিন্ন ভিন্ন রেস্তোরাঁয়!
আমার বেশ মনে আছে, আমার শৈশবে বাড়িতে বাড়িতে তৈরি করা হতো অতিথি আপ্যায়ন করবার জন্য এবং পাড়ায় প্রতিবেশীদের বাড়িতে বিজয়া করতে গেলে, ঘরে তৈরি নিমকি, লক্ষ্মীপুজো তৈরি করা মুড়কি, সাথে ভিন্ন স্বাদের নারকেলের নাড়ু এবং ভিন্ন ভিন্ন মোয়া!
আমাদের মিষ্টিমুখ হতো এই সমস্ত জিনিষ দিয়েই! যদিও আমার মিষ্টি বিশেষ পছন্দের নয় কোনো কালেই, তবে ওই বিজয়া মিষ্টি ছাড়া অসম্পূর্ণ!
কাজেই, খানিক খেতেই হতো, তখন ওইসব ঘরে তৈরি জিনিসের মূল্যায়ন করতে পারতাম না, কিন্তু আজকের দিনে দাড়িয়ে বড্ডো অভাববোধ করি সেই সময়ের বিজয়ার ধরনকে!
পায়ে হাত দিয়ে বড়দের প্রণাম করে আশীর্বাদ পাওয়া যে কি সৌভাগ্যের সেটা এখন উপলব্ধি করি।
গতকাল বাড়ি ফেরার সময় দুপুরের খাবার খেতে ঢুকেছিলাম ভজহরি রান্না হোটেলে!
আমি খেয়েছিলাম ফিশ থালি! যেখানে ছিল, শুক্ত, ডাল, ক্রিসপি আলু ভাজা, দই কাতলা, ফ্রুট চাটনি আর রসগোল্লা!
আমি চাটনি আর রসগোল্লা খাইনি, আমার কাজিন ওগুলো খেয়েছিল! দুপুর ৩টে বেজে গিয়েছিল, খাবার দেবার আগে কিছু ছবি তুলেছিলাম রেস্টুরেন্টের ভিতরের কিন্তু খাবারের ছবি তুলতে বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম!
মনে প্রানে বাঙালির লক্ষণ, যেখানে বাঙালি খাবার সামনে এসে গেলে লৌকিকতা ভুলে যাওয়া কিংবা ছবি তোলার মত আধুনিকতা মাথায় কাজ করে না!
তখন ঐ দই কাতলায় মনোনিবেশ না করলে, বাঙালির সেন্টিমেন্ট আহত হয়।
এবার শোরুমে বেশ মজাদার তথা অভিনব ভাবে বিজয়া পালিত হয়েছে।
এক একজন স্টাফ আলাদা আলাদা করে সকলকে তাদের পছন্দমত ট্রিট দিয়েছে!
দু'জন আইসক্রিম খাইয়েছে সকলকে, আবার তিনজন খাইয়েছে, মিষ্টি দই সাথে কোল্ড ড্রিঙ্কস, আবার কেউ মিষ্টি খাইয়েছে, অন্যদিকে তিনজন মিলে পেস্ট্রি খাইয়েছে সকলকে!
আমাদের পক্ষ থেকে আজকে সকলের জন্য মিষ্টির প্যাকেট করে এনে বিতরণ করা হয়েছে।
আজকে বিকেলেও একজন চায়ের ট্রিট দিয়েছে।
এখানে ক্ষমতার চাইতে ঐক্যতা বৃদ্ধির প্রয়াস করেছিলাম, যেহেতু এটা আমার প্রথম বছর তাই চেয়েছিলাম একে অপরের সাথে কাজের পাশাপশি একটা আন্তরিকতার জায়গা তৈরি হোক!
আমাদের কারোরই জানা নেই আগামী বছর কার জন্য কি বয়ে নিয়ে আসবে, তাই বর্তমানকে সেলিব্রেট করাই শ্রেয় বলে আমার মনে হয়েছে।
এমনিতে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে আমার কাজিন পিকনিক করতে নিয়ে যায় তার স্টাফদের কিন্তু এবছর আমার মনে হয়েছে, যেহেতু পুজোয় সেভাবে কারোর ছুটি ছিলনা, তাই কাজের জায়গায় খানিক আনন্দ কুড়িয়ে নিক সবাই।
আগামী বছর এরা সকলে থাকবে কিনা জানা নেই, সাথে সেই শৈশবের মত করে দশমী পালন সম্ভব নয়, তাই একটা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেবার চেষ্টা করেছি মাত্র।
এতে, সকলেই আনন্দ পেয়েছে, কারণ এই খাওয়ানোয় কোনো অর্থের অংকের বাধ্য বাধকতা ছিল না, তাই যে যেটাই ভালোবেসে খাইয়েছে, সেটাই সকলে সাদরে গ্রহণ করেছি!
কাজের, জায়গায় কাজের বাইরে যখন একটা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়, তখন অনেকেই নিজের যোগ্যতার ঊর্ধ্বে গিয়ে সংস্থার জন্য নিজের সবটা দেবার প্রয়াস করে, শেখার চেষ্টা করে, টিকে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ করে।
অন্ততঃপক্ষে আমার সেটাই মনে হয়, শাসন করে, চাপে ফেলা এটা বেশিরভাগ সকলেই করে, আমিও করেছি একটা সময় তবে, সেটাও অনেক পরে, কাজ শেখানোর পরে।
কাজের জায়গা পরিবর্তিত হয়েছে, পরিবেশ আলাদা, তবে বাঙালির বাঙালিয়ানা বজায় রাখার ইচ্ছে ষোলো কলা পূর্ণ করে নিতে পারলে বাঙালির দশমী স্বার্থক।
আপনাদের দশমী নিয়ে কোনো বাড়তি অভিজ্ঞতা রয়েছে? জানাতে ভুলবেন না মন্তব্যের মাধ্যমে।
Ese detalle de la fish thali en Bhajahari — shutki, dal, doi katla — y olvidarte de la foto por concentrarte en comer dice más que cualquier análisis. Curioso que en el showroom nadie repartió nada, on-chain se nota cuando la generosidad no es solo postureo.
Ese detalle de que en el showroom cada uno de los staff fuera regalando algo distinto —helado, mishti doi, pasteles— cuenta más que cualquier discurso sobre cómo cambió la celebración. Acá en Paraguay la Navidad también se fue del patio de la casa a la mesa del local, y uno extraña lo mismo que vos: la comida hecha en casa. El fish thali con shukto y doi katla me dejó con hambre, lástima que te olvidaste la foto del plato.
Curated by: @mvchacin