রামায়ণ - একটি গ্রন্থ নাকি শিক্ষা!
গতকাল লেখার প্রয়াস ছিল সম্পূর্ণ কিন্তু শারীরিক অবস্থা অনুকূলে না থাকায়, লিখতে পারিনি!
অন্যরা কি ভাবেন আমার জানা নেই, তবে আমার জন্য লেখা মানে এখন এমন একটি অভ্যেস যেটি আমি বিগত ছয় বছরের অধিক সময় ধরে আপনাদের মাঝে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছি, পরিস্থিতি যেমনটাই হোক না কেনো!
লেখা বর্তমানে আমার কাছে শুধুই লিখতে হবে বলে লেখা নয়, বরং তার চাইতে অনেক বেশি এই পরিবারের মাঝে নিজের মনের কথা তুলে ধরবার একটা সুরক্ষিত স্থান হয়ে গিয়েছে।
গতকাল, খানিক আগেই বেড়িয়েছিলাম শোরুম থেকে, প্ল্যাটফর্মে নিভু নিভু আলোয় দুটো ছবিও তুলেছিলাম ট্রেন আসার প্রতীক্ষায় বসে থাকার সময়।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি সমানে পড়ে যাচ্ছিল বলে খোলা জায়গায় দাঁড়াতে পারিনি, তাই শেডের নিচে বসার যে জায়গাটি করা সেখানে বসে মানুষের দৈনন্দিন বেছে থাকার লড়াইয়ের দৃশ্য নিরীক্ষণ করছিলাম।
এরপর, বাড়িতে পৌঁছনোর পথেই আমি বেশ অস্বস্তি বোধ করছিলাম, আমার শরীর অসুস্থ বোধ শুরু হয় ট্রেনের মধ্যেই!
যেমন তেমন করে রাস্তা এতিখন করে বাড়িতে পৌঁছেছিলাম, এরপর দৈনন্দিন রুটিন সম্পন্ন করে, টেলিভিশন চালিয়ে দিয়েছিলাম মনোযোগ বিভ্রান্ত করবার জন্য।
ঠিক সেই মুহূর্তে নজর কেড়েছিল, কেবিসি তে অনুষ্ঠিত পর্বটি!
৫ই নভেম্বর রিলিজ হচ্ছে রামায়ণ ছায়াছবিটি, যেখানে রামের চরিত্রে অভিনয় করছেন রণবীর কাপুর, মা সীতার চরিত্রটি পর্দায় তুলে ধরছেন দক্ষিণ ভারতের অভিনেত্রী সাই পল্লাভি আর লক্ষণের ভূমিকার রয়েছেন, রবি দুবে!
এবার, এই মহাকাব্যের কাহিনী সম্পর্কে অনেকেই হয়তো অবহিত, তবে যে বিষয়টি অনেকেই জানেন না বলে আমার বিশ্বাস সেটি আজকের লেখার মূল আকর্ষণ!
লখনউ শহর, যেটি ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত, সেখানে প্রভু রামের ভাই লক্ষণের জন্য তৈরি একটি মন্দির রয়েছে।
রবি দুবেকে তার ছায়াছবির চরিত্র পাওয়ার গল্প শোনাতে বলা হয়েছিল, ঠিক সেই সময় সে জানায়, কোনো একটি ছায়াছবির শুটিং করতে গিয়ে তার নজরে পড়েছিল, লক্ষ্মণ কে উৎসর্গিত এই মন্দির, এবং ভাগ্যচক্রে তার কাছে ঠিক এক্ বছর বাদে সেই চরিত্রটি অভিনয়ের সুযোগ আসে।
কাকতালীয় মনে করলে তাই, আবার বিশ্বাস ভাবলে তাই!
আমাদের জীবনের অনেক কিছুই ঘরে পরমেশ্বরের ইচ্ছায়, এবং অজান্তে বিশেষ করে সেটা যদি কোনো ভালো সুযোগ হয়, কিংবা কোনো আত্মতৃপ্তি করা মুহুর্ত!
এরপর, সাই পাল্লাভি জানান, তিনি কিভাবে ছয় বছর মেডিকেল পড়ে ছায়াছবির জাগিতে আসেন, এটাও ওই কর্তার ইচ্ছায় কর্ম সম্পাদনের মতোই!
দেখুন, এই যে ধর্মগ্রন্থ রামায়ণের কথা বলছি, এখানে একাধিক শিক্ষা অন্তর্নিহিত রয়েছে, একজন সন্তানের, তার পিতার সম্মান রক্ষার্থে বানবাস মেনে নেওয়া, একজন স্ত্রী যাকে মহলে সেই সময় থাকতে বলায়, তার উত্তর ছিল তার স্বামী ছাড়া, তার কাছে স্বর্গ নরক সমান!
একজন ভাই, যে নিজের মায়ের পেটের নয়, তবুও দাদার রক্ষা কবচ হয়ে ১৪ বছর ছায়াসঙ্গী গিয়ে কাটানো!
সবটাই কিছু সম্পর্কের পরিভাষা শিখতে সাহায্য করে বলে আমার মনে হয়!
অপরপক্ষে, বনবাসে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনা আমাদের শেখায় অধর্মের উপর ধর্মের জয়।
অনেক সময় অসত্যের পথ অবলম্বন করে জিরে যাওয়া মানুষ, নিজেদের সবচাইতে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন তথা আধুনিক ভাষায় স্মার্ট ওয়ার্ক এ পারদর্শী বলে ভেবে থাকেন!
একবার, একনিষ্ঠ শিবভক্ত রাবণের কথাই ভেবে দেখুন! ধর্ম নিয়ে যার এত রুচি, পণ্ডিত এবং একজন একনিষ্ঠ ভক্ত, সে তার বোনের অপমানের প্রতিহিংসায় জ্বলে আরেক নারীকে কলুষিত করেছিলেন, তাকে ছলনার বশে অপহরণ করে!
সাধারণ ভাষায়, একটু ভালো অর্জন করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়, তেমনি অসৎ কর্যের জন্য একটা মুহূর্তই যথেষ্ট!
জীবনের অনেক কিছুই আমরা তুড়ি বাজিতে উড়িয়ে দিতে থাকি, কিন্তু যখন আমাদের সাথে খারাপ হওয়া শুরু হয়, একবার পিছনে চেয়ে দেখলে, কারণ খুব সুস্পস্ট ভাবে বোঝা যায়!
মহাদেব তো পারতেন, তার একনিষ্ঠ ভক্তের সঙ্গ দিতে? কিন্তু সেটা হতো অধর্ম!
ঠিক আছে ভুলের পার্থক্য জানলে, যেটি সঠিক পথ, সেটাই বেছে নেওয়া উচিত!
এই সামান্য দিয়ে একটি ধর্মগ্রন্থকে বিশ্লেষণ অসম্ভব, তাই নিজের লেখার পরিসর আর বৃদ্ধি না করে আজকের মত এখানেই লেখায় ইতি টেনে বিদায় নিলাম।
El detalle del templo dedicado a Lakshman en Lucknow y la coincidencia de Ravi Dubey consiguiendo el papel un año después es lo que sostiene el post. On-chain no hay nada que verificar acá, pero la acumulación de casualidades que mencionás invita a preguntarse cuánto pesa la fe y cuánto el azar en esas historias.
El dato concreto que me llevo es el templo dedicado a Lakshman en Lucknow: que Ravi Dubey lo haya visto durante un rodaje y un año después obtuviera el papel suena a esas casualidades que cuesta explicar. Traducido a guaraníes, la lección que deja es que el Ramayana funciona más como brújula de vida que como simple texto épico. ¿Vos creés que esa "voluntad divina" es destino real o solo nuestra forma de ordenar el azar?