প্রয়াস এবং প্রত্যাশা!
এই পৃথিবীর সমস্ত দেশ তথা ভাষাভাষির মানুষদের কাছে গিয়ে যদি একটি বিষিয়ে সমীক্ষা করা হয় যে, তারা তাদের সন্তান সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করেন? অথবা তাদের সন্তান থেকে প্রত্যাশা কি?
হয়তো, সমস্বরে সকলেই উত্তর দেবেন নিজের নিজের ভাষায় যে, তারা চান তাদের সন্তান মানুষের মতো মানুষ হোক!
অর্থাৎ প্রতিটি সন্তানের কাছে তাদের পিতা মাতার একটাই প্রত্যাশা যে, তারা জীবনে মানুষের মতো মানুষ হোক আর এই মানুষের মতো মানুষ করতে গিয়ে যে প্রয়াস তারা করেন সেটার ধরন একেক জনের একেক রকম!
আজকের লেখার এই বিষয়বস্তু কার কাছে কতখানি গুরুত্বপুর্ণ জানি না, তবে একটা কথায় আমি বিশ্বাসী সেটা হলো, সন্তান যদি শৈশব থেকে গুরুত্ব শব্দের অর্থ না শেখে, তাহলে সেই সন্তানের মানুষের মতো মানুষ তৈরি হওয়া বেজায় দুষ্কর!
যেমন ধরুন, অর্থের গুরুত্ব, কতখানি পরিশ্রম করলে কতটুকু উপার্জন করা যায়, যদি একজন সৎ পথে কাজটি করে থাকেন সেটা শৈশব থেকে শিশুকে শেখানো উচিত!
কিভাবে? অনেক ইচ্ছের পূর্তি সহজে না করে!
চাইলেই কিছু পেয়ে গেলে এই চাহিদা ক্রমবর্ধমান হতেই থাকে!
অপরদিকে, শৈশব থেকে যদি সব চাহিদায় কিছু রাশ টেনে রাখা হয়, তাহলে ঐ সীমাবদ্ধতায় বেড়ে উঠতে উঠতে অপচয় থেকে খানিক দূরত্ব তৈরি সম্ভব।
অপরিসীম চাহিদাকে প্রশ্রয় দিলে সেটি কোন ভয়ংকর মাত্রায় পৌঁছোয় তার সমাধান করতে কোথায় ছুটে বেড়াতে হয় মাতা পিতাকে আজকে খানিক সেরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দিন অতিবাহিত হয়েছে।
আজকে আমি শোরুমে যায়নি। আজকে গিয়েছিলাম একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে।
যেহেতু বিষয়টি পারিবারিক তাই বিস্তারিত উল্লেখ করতে পারছি না, সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে, তবে আজকে মনে হলো, যদি কোনো মাতা কিংবা পিতা একটি সন্তানের বড় হওয়া পর্যন্ত তার পাশে না থাকতে পারে, তাহলে অযথা একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসার কোনো মানেই হয় না!
এটা কোনো খেলনা নয়, কোনো সময় অতিবাহিত করবার সাধন নয়, তাই কোনো পিতা মাতার উচিত নয়, কেবলমাত্র নিজের সুবিধার কথা মাথায় রেখে একটি পরিবার ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার!
এটির ভীষণরকম মানসিক প্রভাব পড়ে সেই শিশুটির উপর! যার কোনোই দোষ নেই, এই বিচ্ছিন্নতার পিছনে!
একটি সুস্থ্য পরিবেশ একটি শিশুর সর্বাগ্রে প্রয়োজন!
যেখানে নিত্যদিনের অশান্তি থাকবে না, থাকবে না কোনো রকম অশালীন ভাষা কিংবা আচরণ দেখবার সুযোগ, সেরকম পরিবেশ দিতে পারলেই একটি শিশুকে এই পৃথিবীতে আনা উচিত বলে আমি মনে করি।
ভালোবাসো আর প্রশ্রয় দুটি ভিন্ন বিষয়, কিন্তু কোথাও গিয়ে একটি শিশুকে ভালোবাসার আড়ালে আমরা প্রশ্রয় দিতে শুরু করি নিজেদের অজান্তে!
কখনও নিজেদের অন্যায় ঢাকতে তাদের ব্যবহার করে থাকি, এরকম একাধিক ঘটনা আমার জানা!
ফলস্বরূপ, সেই শিশুটি বড় হতে হতে মিথ্যের আশ্রয় নিতে শুরু করে, এবং একটি সময় যে কাজগুলো পরিত্যাজ্য সেগুলোই নিজেদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে বেছে নেয়।
তাই, নিরুপায় হয়ে একজন অসহায় পিতা কিংবা মাতাকে শরণাপন্ন হতে হয়, এই ধরনের রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের মত জায়গায়!
পরিবারের অনেক সিনিয়র মানুষ থাকেন, যারা চাইলে সঠিক শিক্ষায় এই সকল শিশুদের মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে পারেন, কিন্তু তার পরিবর্তে যদি অযথা আবদার মেটাতে থাকেন, তাহলে তার পরিণতি কখনোই সুখকর হয় না!
প্রয়াস যদি শতাংশ ভাগ হয়, তাহলেই হয়তো তার দশ শতাংশ প্রত্যাশা করা সমীচীন, নইলে আগে নিজেদের স্থান সঠিক করে তবেই একটি শিশুকে ইহজগতে আনা উচিত।
উপরিউক্ত ভাবনাগুলো সম্পুর্ণ নিজের, সহমতের প্রত্যাশা এখানে বিন্দুমাত্র নেই।
Ese puente de arena camino a Dakshineswar y la frase de que si el niño no aprende el valor de las cosas desde chico, después es cuesta arriba. Lo de no ir al showroom hoy suena a que la lección de contención la estás aplicando en carne propia.
Ese detalle del puente de arena camino a Dakshineswar Kali Temple me quedó dando vueltas: el esfuerzo de los padres por "formar personas" rara vez se mide en resultados, sino en la paciencia diaria. El dato concreto que planteas, enseñar el valor del dinero desde chico limitando caprichos, es la parte que casi nadie aplica.