জীবনের একমাত্র কঠিন সত্যি - মৃত্যু!
আজকের লেখার শীর্ষক পড়ে অনেকেই মর্মাহত হতে পারেন, কারণ সত্যি সবচাইতে কঠোর হয়!
আর, দিনশেষে আজকে আমার উপলব্ধি সেটাই হয়েছে।
শুরু থেকে শুরু করা যাক, তাহলে হয়তো শেষটা উল্লেখ খানিক সহজ হবে।
আজকে, বেশ তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে পড়েছিলাম।
কারণ, আজকে আমার ডাক্তারের কাছে অ্যাপয়েনমেন্ট ছিল।
তাই, সকালে বিছানা ত্যাগ করবার পরে, ঘরের সমস্ত কাজ মিটিয়ে, পুজো সেরে যখন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছেছিলাম তখন দেখলাম সকাল ৯বেজে ০৩ মিনিট।
সামনে থেকে একটা ট্রেন বেরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ট্রেনের সামনে জায়গার নাম লেখা ছিল না, তাই বুঝতে পারিনি ট্রেনের গন্তব্যস্থল কোথায়!
এরপর, প্লাটফর্ম ধরে এগিয়ে গিয়ে, টিকিট কাউন্টারে টিকিট কেটে, প্লাটফর্ম পরিবর্তন করে দুই নম্বরে পৌঁছে গিয়ে, একটি ফাঁকা জায়গা দেখে বসে পড়েছিলাম।
এরপর, লক্ষ্য করলাম প্ল্যাটফর্মে কর্মরত কিছু কর্মচারীদের।
প্রথমে মাথায় এলো, জীবন কাউকেই রেয়াত করে না, একেক মানুষের সংঘর্ষের ধারণ একেক রকম, এটাই বাস্তব।
পাশপাশি মনে হলো, ইংরেজ যখন ভারতে এসেছিল, তখন অনেক খারাপের আড়ালে ভালো কিছু তৈরি করে গিয়েছিল, রেল তাদের মধ্যে অন্যতম!
প্ল্যাটফর্মে বসে কিছু ছবি তুলেছিলাম, কারণ এই মানুষগুলো কোনোদিন প্রশংসিত হয় না! অথচ অনেক নির্মাণের আড়ালে রয়েছে, এই রকমের সাধারণ মানুষ।
এদের যোগ্যতা নিয়ে খুব কম মানুষ কথা বলে! তাই আজকের লেখার মাঝে ধরে রাখা থাক কিছু মানুষের পরিশ্রম।
সকাল ৯ টা বেজে ৩৬ মিনিট যখন আমার গন্তব্যের ট্রেন এসে পৌঁছেছিল।
মোটামুটি ফাঁকা ট্রেনে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলাম। এরপর রাস্তা অতিক্রম করে, পৌঁছেছিলাম সোজা ডাক্তারের চেম্বারে।
আমার কাজিন এসেছিল, এরপর ডাক্তার কিছু ওষুধ দিয়েছে, যদি ব্যথা না কমে তাহলে এক্সরে করতে হবে।
সাথে, পায়ে নিপ্যাড পড়ে থাকা, সাথে পা ভাঁজ করে বসা মানা, ইত্যাদি একাধিক বারণ নিয়ে শোরুমে পৌঁছেছিলাম।
পুজো শেষ, তাই তেমনভাবে কাস্টমারের ভিড় ছিল না!
সারাদিন নানা অভিজ্ঞতা একে অপরের সাথে ভাগ করে নিয়ে, কেটে গিয়েছিল আজকের দিন।
এরপর, ফেরার পথে ওষুধ নিয়ে বাড়ি পৌঁছনোর পর, স্নান করতে যাবো, এমন সময় কান্নার স্বর ভেসে আসলো কানে!
জানালার পর্দা সরিয়ে বুঝলাম, পাশের বাড়ির যে ছেলেটি আমাকে আগে খাওয়ার জল দিতো, তার বাবা আজকে মারা গিয়েছে!
স্বামীকে হারিয়ে, একজন স্ত্রীর আর্তনাদ আমাকে ভিতর থেকে আজকের লেখার শীর্ষক নির্বাচন করতে সহায়তা করেছে!
জীবনের একমাত্র কঠিন সত্যি - মৃত্যু! হ্যাঁ! হাজারো সত্যি রয়েছে কিন্তু মানুষের চাওয়া পাওয়ার মাঝে, নালিশ কিংবা ভালোবাসার মাঝে এই একটাই সত্যি, যাকে মেনে নেওয়া ছাড়া মানুষের দ্বিতীয় বিকল্প নেই।
একটা মানুষ চলে গেলো, একটা পরিবার হারালো, পিতা, স্বামী আরো অনেক সম্পর্ক, আমার চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল মানুষটির মুখ, কারণ তার টোটোতে করে ইতিপূর্বে শপিং মলে গিয়েছি, এছাড়াও পাড়ায় থাকার সুবাদে পরিচিত মুখ!
তাতে কি? মৃত্যু আসলে, তাকে রুখতে পারে কার সাধ্য?
যারা হারালো, তারাই কিছুদিনের মধ্যে বিষয়টি মেনে এবং মানিয়ে নেবে ওই মানুষটিকে ছাড়া!
যাকে তারা বাস্তবের নাম দেবে, আর কোথাও না কোথাও গিয়ে সেটাই সঠিক!
তাহলে আমি কি ব্যতিক্রমী? আজও প্রতিদিন কোনো ছোট বাচ্চা চোখে পড়লে, গলায় তিল আছে কিনা কেনো খুঁজি?
কেনো বাস্তবের হাত ধরে পারিনি নতুন কাউকে খুঁজে নিয়ে জীবনকে নতুন করে শুরু করতে?
ধুর! সবাই সব পারবে তার কি মানে!
কিছু না পারার পিছনে একটা প্রশান্তি কাজ করে!
সেই প্রশান্তি উপভোগ করতে হলে অনেক চোখের জল অন্তরালে মুছে ফেলতে হয়, তার হাত ধরেই আসে আত্মসম্মানের জয়!
কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।
El detalle de los trabajadores del andén que nunca son reconocidos, eso es lo que más queda: mientras esperabas el tren de las 9:36 miraste a los que sostienen el sistema sin aplausos. Traducido a guaraníes, pasa lo mismo con el que carga el bolsón en el mercado y nadie le pregunta el nombre. Ojo con eso de que el título asusta pero después el post te habla de la vida cotidiana, ahí está la lección.
0.00 SBD,
5.57 STEEM,
5.57 SP
Curated by: @mvchacin
El detalle de las 9:03 en el andén y el tren sin destino escrito en el frente le da un tono distinto a la rutina. On-chain no se ve eso, pero el mercado muestra que lo cotidiano también tiene su acumulación de sentido. ¿Al final la radiografía confirmó algo o solo fue precaución del doctor?
Curated by: @mvchacin