"নিজের শারীরিক সুস্থতার জন্য, নিজের সচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ"
![]() |
|---|
Hello,
Everyone,
আগামীকাল খুব করে বেরোতে হবে বাড়ি থেকে কল্যানীর উদ্দেশ্যে। কারণ আগামীকাল শাশুড়ি মায়ের চোখের ছানি অপারেশন করার তারিখ রয়েছে। অপারেশনটা গত সপ্তাহেই হওয়ার কথা ছিলো। সেই অনুযায়ী ডাক্তার দেখিয়ে সবকিছু টেস্ট করাও হয়েছিলো। বাকি সমস্ত টেস্টের রিপোর্ট ঠিক থাকলেও, সুগারের লেভেল অনেকটা বেশি ছিলো। যে কারণে ডাক্তার অপারেশন করাতে রাজি হননি।
তাই আরও একবার সুগারের জন্য ডাক্তার দেখিয়ে, সুগারের ওষুধ পরিবর্তন করা হলো। পাশাপাশি ডাক্তারবাবুর নির্দেশ অনুযায়ী খাবারেরও বেশ কিছু পরিবর্তন করতে হয়েছিলো। তারপর গত শুক্রবার পুনরায় ব্লাড টেস্ট করানো হয়েছে, তাতে সুগারের লেভেল কিছুটা কমেছে।
শাশুড়ি মায়ের সুগার ধরা পড়েছে প্রায় চার বছরেরও বেশি সময়। ডাক্তার দেখানোর পর থেকে নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, তবে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন নিয়ম মেনে খেতেন না।
এ কথা বোধহয় সকলেই জানেন যে, একবার সুগার ধরা পড়লে খাবারদাবারের বেশ কিছু পরিবর্তন হয়, বা করা উচিত, যাতে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে আমি আমার শ্বশুর মশাইকেও সেটা কখনোই করতে দেখিনি।
আমার বিয়ের অনেক আগে থেকেই ওনার সুগার ধরা পরেছিলো। দুঐবেলা নিয়মিত ওষুধ খেতেন ঠিকই, কিন্তু খাবার দাবার কখনো নিয়ন্ত্রণে ছিলো না। তাই সুগারও ছিলো বেশি, যে কারণে শেষের দিকে উনি এতটা অসুস্থ হয়েছিলেন। আর সব থেকে অবাক ব্যাপার উনি সুগারের যে ওষুধ খেতেন, সেটাও নিজে থেকেই কোনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই।
সুগার আমাদের শরীরের এমন একটা সমস্যা, যেটা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নীরবে ক্ষতি করতে থাকে। শশুর মশাইয়ের ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছিলো। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত সুগার এর কারনে ওনার লিভার, কিডনি সব ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিলো।
বিয়ের পর থেকে আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে দেখেছি সামান্য সমস্যার কারণেও প্রত্যেকে ওষুধ খায়, অথচ কোনো ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই। আসলে শ্বশুর মশাইয়ের ওষুধের দোকান ছিলো এবং ওষুধ সম্পর্কে ওনার সামান্য জ্ঞানও ছিলো। সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই তিনি সকলের প্রয়োজনের জন্য, নিজের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে আসতেন।
আর সেগুলো খেয়ে সাময়িকভাবে সমস্যা নিরাময় হয়ে যেতো। আর ঠিক সেই কারণেই আর ডাক্তার দেখানোর খুব একটা প্রয়োজনীয়তা কেউ অনুভব করতো না। তবে বিষয়টা আমি কখনোই ভালোভাবে নিতে পারিনি। ছোটো থেকেই আমি বা আমরা এমন ভাবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো রকম ওষুধ খাওয়াতে অভ্যস্ত নই। সেই কারণে এই বিষয়টি আমার মধ্যে নেই।
আর এই কারণে বিয়ের পরপর এই বাড়ির সকলের সাথে আমার কম বেশি মতবিরোধও হয়েছে। সব থেকে বেশি হয়েছে শুভর সাথেই। কারণ যে কোনো রকম শারীরিক সমস্যায় ও ডাক্তারের কাছে না গিয়ে, আমার শ্বশুরমশাই এর কাছে সমস্যা জানাতো। আর তিনি নিজের দোকান থেকে, নিজের জ্ঞান অনুযায়ী ওষুধ এনে দিতেন। আর এটাতেই ও অভ্যস্ত।
![]() |
|---|
সত্যি কথা বলতে শেষের দিকে ওনার শারীরিক অবস্থা দেখে সুগার জিনিসটা আমার মনে রীতিমতো ভয়ের জন্ম দিয়েছে। তবে কেন জানিনা এতো কাছ থেকে শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক সমস্যাগুলো দেখার পরেও, আমার শাশুড়ি মায়ের বোধদয় হয়নি। আজও তিনি মনে করেন সুগার তেমন কোনো সমস্যার নয়।
খাবারের ব্যাপারে যদি ওনাকে কোনো কিছু বলা হয়, তাতে উনি রাগ করেন। কিন্তু এটা বুঝতে পারেন না যে, যে খাবার গুলো সুগার থাকাকালীন খাওয়া উচিত নয়, সেগুলো খেয়ে শারীরিক সমস্যা বাড়ানোর থেকে, না খেয়ে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।
হয়তো এখনও তিনি নিজে চলাফেরা করতে পারেন, কারোর উপরে নির্ভর করার প্রয়োজন হয় না। যে কারণে ওনার এমন চিন্তাভাবনা। কিন্তু কয়েক মাস আগে যখন শশুর মশাই শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন ওনার প্রতিদিনের লড়াই শাশুড়ি মা সামনে থেকেই দেখেছেন। এমনকি আমি নিজেও ওনাকে দেখেই বুঝতে পেরেছি, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে হ্যাঁ শুধু শশুর মশাই নন, আমার আরও কয়েকজন প্রিয় মানুষকে আমি এমনভাবে শারীরিক সমস্যায় লড়তে দেখেছি। তাই শারীরিক সুস্থতা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, এ বিষয়টি আমি খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি।
যাইহোক এতোগুলো কথা এই কারণেই বললাম, আজ হয়তো ওনার সুগারের লেভেল কিছুটা কমেছে, কারণ ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী গত কয়েকদিন ওষুধের সাথে সাথে, খাবারও নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে। তবে আগামী দিনে তিনি এটাই ধারাবাহিকভাবে করে যাবেন কিনা, সেই বিষয়ে আমি যথেষ্ট সন্ধিহান।
যাইহোক কল্যাণীতে শুভর ছোট মামাই ওনাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া, সমস্ত রকম টেস্ট করানো, সবটা করিয়েছেন। আজ রবিবার কল্যাণী যাওয়ার জন্য খুব একটা বাস পাওয়া যায় না বলে, গতকালই উনি চলে গিয়েছিলেন। আর আগামীকাল সকালে আমি আর শুভ যাবো। আজ বিকেলেই যাওয়ার কথা ছিলো, তবে রাতে বাড়িতে কে থাকবে, সেটা ভেবেই আমাদের যাওয়া হয়নি।
তার উপর আগামীকাল রয়েছে একাদশীর উপবাস। সকালে যাওয়া, তারপর শাশুড়ি মা কে মতো হসপিটালে ভর্তি করানো, সেখানে ওটি হওয়া এবং তারপর কখন ওনাকে ছাড়বে, সেখান থেকে কখন আমরা ফিরতে পারবো, কোনো কিছুই জানিনা।
![]() |
|---|
আপাতত অপারেশনটা সঠিকভাবে যাতে হয়, সেটাই এখন প্রার্থনা। কারণ ফোনে শুনলাম গতকালও শাশুড়ি মা একটা মিষ্টি খেয়েছেন। কারণ জানতে চাইলে উনি হাসতে হাসতে জানালেন, উনি নাকি ভুলেই গিয়েছিলেন ওনার সুগার আছে।
ভাবুন যে মানুষটার অপারেশন শুধুমাত্র সুগার বেশি থাকার কারণে এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেলো, সেই মানুষটাই ভুলে গেছে তার সুগার রয়েছে। আর মিষ্টি খাওয়া তার জন্য এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যকর নয়।
যাইহোক সুগার নিয়ে আপনাদেরকে জ্ঞান দেওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিলো না। তবে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি যা দেখেছি, শুধু সেটুকু সম্পর্কে আপনাদের জানাতে চাইলাম। যাতে আপনাদের মধ্যে যদি কারোর সুগার থেকে থাকে, দয়া করে সেটাকে একদম হালকাভাবে নেবেন না।
কারণ এটি নীরবে আমাদের কত ক্ষতি করতে পারে, সেটা বোধহয় আমরা অনেকেই আন্দাজ করতে পারি না। সুগারের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি, খাবারে নিয়ন্ত্রণ রাখাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি নিজের উপরে নিয়ন্ত্রণ রেখে, শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা যায় তাহলে সেটাই করা উচিত।
যাইহোক এটা সম্পূর্ণটাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত। আপনাদের মধ্যে কারা কারা আমার এই অভিমতের সাথে সহমত পোষণ করেন, মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আগামীকালের দিনটা কেমন কাটবে, তা অবশ্যই পরবর্তীতে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
ভালো থাকবেন সকলে। আপনাদের সকলের সুস্থতা প্রার্থনীয়।


