"সুন্দরবন যাত্রার গল্প : প্রথম গন্তব্য ছিলো বিখ্যাত বেকন বাংলো"
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি ভালো কেটেছে। যদিও এই মুহূর্তে রাত হয়েছে, তবে যেহেতু আজ অষ্টমী ছিলো, তাই সকলকে শুভ অষ্টমীর অনেক শুভেচ্ছা জানাই।
এই মুহূর্তে আমি আমাদের হোমস্টের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি। কারণ এখানে তবুও একটু নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে। লেখাটা দিনের মধ্যে লঞ্চে বসেই শেষ করেছিলাম, কিন্তু পোস্ট করতে পারছিলাম না কিছুতেই।
সবথেকে সমস্যা হচ্ছিলো ছবি আপলোড করতে। কারন সারাদিন নৌকায় করে নদীতে ঘোরাঘুরি হয়েছে, যেখানে ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক ছিলো না। তাই হোমস্টেতে ফিরে, সেখান থেকে ওয়াইফাই নিয়ে রাস্তার সামনে এসেছি, পোস্ট করবো বলে।
চলুন এবার মূল লেখা শেয়ার করি,-
|
|---|
যদিও জানিনা পোস্ট কখন শেয়ার করতে পারবো আপনাদের সাথে। তবে ভাবলাম লেখা শুরু করি। আগের পোস্টটা যতদূর পর্যন্ত এসে শেষ করছিলাম, আজকে তারপর থেকে সুন্দরবন যাত্রার গল্প শুরু করছি। যেমনটা আগের পোস্টে জানিয়েছিলাম, এক ঘন্টা পনের মিনিটের যাত্রা শেষ করে আমরা যখন ক্যানিং এ এসে পৌঁছেছিলাম, তখন ঘড়িতে প্রায় সকাল ৯ টা বাজে।
|
|---|
এই প্রথম আমি ক্যানিং স্টেশনে নামলাম। বেশ ভালোই ভিড় ছিলো ট্রেনে। তবে শেষ পর্যন্ত বুঝলাম বেশিরভাগ মানুষই আমাদের মতো সুন্দরবন ঘুরতে এসেছেন। কম সংখ্যক মানুষ আছেন, যারা এখানকার বাসিন্দা।
যেমনটা কথা ছিলো, প্ল্যাটফর্মের নিচের দিকেই ট্রাভেল এজেন্সির অটো দাঁড়িয়ে থাকবে, যে অটোতে করে আমাদেরকে ঘাট পর্যন্ত পৌঁছে দেবে, যেখান থেকে আমরা লঞ্চে উঠবো।
|
|---|
|
|---|
বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির বোর্ড নিয়ে এজেন্সির পক্ষ থেকে লোকেরা সেখানে অপেক্ষা করছিলো। আমাদের ট্রাভেল এজেন্সির নাম ছিলো "দ্যা রয়াল ভিউ ট্রাভেলস "। যেহেতু ননদের হাজব্যান্ড সবটা ঠিক করেছিলেন, তাই ওনার পিছন পিছন গিয়ে আমরা এজেন্সির পক্ষ থেকে বলে দেওয়া অটোতে বসলাম।
|
|---|
|
|---|
তবে অটোতে যে এতক্ষণ লাগে আমরা ভাবি নি। প্রায় ৪০ মিনিট মতো জার্নি করে এসে আমরা লঞ্চঘাটে পৌঁছালাম এবং ট্রাভেল এজেন্সি পক্ষ থেকে আমাদের একটা লঞ্চের নাম বলে দেওয়া হয়েছিলো। তাই আমরাও সেই লঞ্চে উঠে বসলাম।
শুধু আমাদের লঞ্চ নয়, এরকম অন্যান্য বিভিন্ন এজেন্সির পক্ষ থেকে অনেক লঞ্চ রয়েছে সেখানে। সকলেই আমাদের মতো নির্দিষ্ট লঞ্চে গিয়ে বসলো।
|
|---|
|
|---|
বুঝতে পারলাম, পুজোর ছুটিতে শুধুমাত্র আমরা নয়, আমাদের মতোই অনেকেই আছে যারা সুন্দরবনে আসার প্ল্যান করেছিলো। যাইহোক লঞ্চে ওঠার পর সকলে নিজেদের পছন্দ মতন জায়গায় বসলাম। তবে বেশ কিছুটা সময় লাগছিলো লঞ্চ ছাড়তে।
|
|---|
|
|---|
লঞ্চে বসে বসে আমরা চারপাশের দৃশ্য দেখছিলাম। যেহেতু এইরকম ভাবে লঞ্চে চড়ার এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা, তাই অন্যরকমের একটা অনুভূতি হচ্ছিলো। দলে দলে আসা মানুষের ভিড় যেমন চোখে পড়ছিলো, তেমনি লঞ্চে কর্মরত সকলের ব্যস্ততাও চোখে পড়ছিলো সমানভাবে।
কেউ নিজেদের প্রয়োজন মতন জল লঞ্চে তুলছে, কেউ আবার চাহিদা অনুযায়ী মাছ, সবজি, সমস্ত কিছু স্টোর করছেন। কারণ এখানে সকল রান্না-বান্না লঞ্চের ভিতরেই হয়, তাই সমস্ত কিছু ওনাদের কাছে মজুত রাখতেই হয়।
|
|---|
যাইহোক এই সমস্ত দৃশ্য দেখছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তেই আমাদের সকলকে ব্রেকফাস্ট দিয়ে দিলো। লুচি, আলুর দম এবং একটা করে রসগোল্লা। লুচি গুলো গরম গরম ভেজেই দিয়েছিলো, তার সাথে ছিলো আলুর দম।
আলুর দমটা খেতে বেশ সুস্বাদু হয়েছিলো। যদিও রসগোল্লা আমি খাই না, ওটা আমার ননদের ছেলেকে দিয়ে দিয়েছিলাম। তবে অনেক ভোরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর, ট্রেনে টুকটাক খাওয়া হলেও, খিদে পেয়েছিলো ভালোই। তাই ব্রেকফাস্টটা সকলে মিলে বেশ এনজয় করলাম।
|
|---|
|
|---|
একটু পরেই আমাদের লঞ্চ ছাড়লো। প্রথম দিন আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিলো "বেকন বাংলো।" এই জায়গায় পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা পর্যন্ত আপনাদের সাথে আজ এই পোস্টে শেয়ার করলাম। তবে এই বাংলোটি ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের কেমন ছিলো, সেটা পরবর্তী লেখায় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। আপনারা সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, এই প্রার্থনা করেই।
curated by wirngo