"শাশুড়ি মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি"
|
|---|
Hello,
Everyone,
ঘড়িতে ভারতীয় সময় রাত ১ টা বেজে ১৭ মিনিট। গতকাল সন্ধ্যা থেকে এখনও পর্যন্ত দু চোখের পাতা এক হয়নি। এই মুহূর্তে পোস্ট লেখা শুরু করছি, তার মানে বুঝতেই এখনও ঘুম নেই চোখে।
গতকাল থেকে শাশুড়ি মায়ের শরীর খারাপ। তার কিছুটা আভাস হয়তো গতকালের পোস্ট পড়ে পেয়েছেন। তবে আজ শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তাই শুভ আজ অফিসে যায় নি, বাড়িতেই ছিলো।
আসলে শাশুড়ি মা শারীরিক জোড় একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন। ফলতো ওনাকে উঠিয়ে বসিয়ে জল, ওষুধ বা খাবার কোনো কিছুই খাওয়ানো আমার একার পক্ষে অসম্ভব। এটা ভেবেই শুভকে বাড়িতে থাকতে বলেছিলাম।
কিন্তু পরবর্তীতে ওনার শারীরিক অবস্থার এতোটাই অবনতি হলে যে, তখন মনে হচ্ছিলো ভাগ্যিস শুভকে বাড়িতে থাকতে বলেছিলাম। না হলে আজ একটা বড় কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারতো।
কারণ বাথরুমে গিয়ে শাশুড়ি মা আর একটু হলেই একেবারেই মেঝেতে পড়ে যেতেন। তখন পরিস্থিতি কি হতো, সেটা ভেবেই আমার ভয় লাগছিলো। কারণ ওনাকে তোলা আমার একার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।
যাইহোক আজ বাড়িতে ডাক্তার ডাকতে হয়েছিলো। তিনি সন্দেহ করছেন ডায়রিয়া হয়েছে, যে কারণে অবস্থার এতোটা অবনতি। তবে সমস্যা হচ্ছে ওনার প্রেসার একেবারেই কমে গেছে, অন্যদিকে সুগারের লেভেল বেড়ে গেছে অনেকখানি।
তার সাথে সাথে তিনি বমিও করে দিচ্ছিলেন। ফলোতো ওষুধ খাওয়ানোর পরে সেটাও বমি হয়ে যাচ্ছিলো। তাই ওষুধে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে না বলেই, আজ স্যালাইনের মাধ্যমে ওষুধ দিতে হলো।
তাতেও আজ বেশ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আসলে স্যালাইন দেওয়ার জন্য চ্যানেল করার প্রয়োজন হয়। তবে শাশুড়ি মায়ের হাতের শিরা এতোটাই সরু যে, চ্যানেল করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।
যদিও বা কোনো রকমে চ্যানেল করা সম্ভব হয়েছিলো, তারপর তিনি বারংবার হাত নাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তাই শেষ পর্যন্ত হাত ধরে রাখতে হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত দুটো স্যালাইন চলেছে।
গতকাল তো রাতে একেবারেই ঘুম হয় নি। তবে সকালের দিকে শাশুড়ি মা একটু ঘুমোচ্ছিলেন, সেই ফাঁকে আমি স্নান সেরে পুজো দিয়ে নিয়েছিলাম। কারণ সারাদিন কি হতে চলেছে তা আন্দাজ করতে পারছিলাম না।
ভাগ্যিস পুজোটা দিয়েছিলাম। না হলে আজ কখন পুজো দিতাম তার কোনো ঠিক ছিলো না। কারণ আমি আর শুভ আজ সন্ধ্যায় পরে দুপুরের খাবার খেয়েছি। তাহলে বুঝতেই পারছেন সারাটা দিন ঠিক কি চলেছে।
সন্ধ্যার পর ননদ এসেছিলো। শাশুড়ি মা কে সামলানো আমার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিলো না, মূলত সেই কারণেই ননদকে আসতে বলেছিলাম। ননদ কিছুটা সামলে দিয়ে সাড়ে আটটা নাগাদ বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন। তবে তারপর আবার অবস্থা একই রকম হয়েছে। তাই সেই অবস্থায় সবটা আমাকেই আবার সামলাতে হলো।
|
|---|
জলের মধ্যে লবণ গুলে খাওয়ানোর চেষ্টা চলছে, যাতে প্রেশার একটু বাড়ে। আবার অন্যদিকে ডায়রিয়া কমানোর জন্য ওআরএসও দিতে হচ্ছে। তবে উনাকে খাওয়ানো এই মুহূর্তে সব থেকে কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উনি কোনো কিছুই গিলছেন না। ফলতো জল হোক কিংবা ওষুধ, সবটা খাওয়াতেই বেশ বেগ পেতে হচ্ছে আমাকে ও শুভকে।
যাইহোক আজ রাতেও যদি অবস্থা এমন থাকে, তাহলে কাল সকালে ওনাকে হসপিটালে ভর্তি করতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। তবে এইভাবে বাড়িতে রেখে দেওয়াটা এই মুহূর্তে বেশ রিস্কি মনে হচ্ছে।
আজ রাতে অবস্থা কেমন থাকে সেটা দেখে কাল ননদকে ফোন করতে বলেছে। যদি হসপিটালে নেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে সকালবেলাতেই নিয়ে যাবো। সবটাই নির্ভর করছে আজ রাতে শারীরিক অবস্থা কেমন থাকে তার উপরে।
যাইহোক কোনো কিছু লেখার ইচ্ছে ছিলো না একেবারেই। কিন্তু বসেই ছিলাম তাই ভাবলাম সারাদিনটা কিভাবে কাটলো তারই এক ঝলক আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
তবে একটা কথা অবশ্যই বলতে চাই, বয়সের সাথে সাথে কিছু জিনিসের প্রতি নিয়ন্ত্রণ রাখা অবশ্যই জরুরি। বিশেষ করে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে, কি খাওয়া উচিত আর কি খাওয়া উচিত নয়, এটা প্রত্যেকের ভাবা উচিত।
কারণ যে অসুস্থ হয় সে কোনো কিছুই বুঝতে পারে না। কিন্তু যে মানুষগুলো তাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তারাই শুধুমাত্র উপলব্ধি করতে পারে সেই মুহূর্তে মানুষের মানসিক পরিস্থিতি কেমন থাকে।
তাই সকলেই নিজেদের শরীরের যত্ন নেবেন। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।