"আমার জন্মদিন: জীবন থেকে হারিয়ে গেলো আরও একটা বছর""
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
শুভ জন্মদিন সোনা(Sona)। এই প্ল্যাটফর্মে আমার পরিচিতি সম্পা(Sampa) নামে হলেও, বাড়িতে আমার নাম "সোনা(Sona)"। নামটা আমার মায়ের দেওয়া। আদর করে মা আমাকে এই নামেই ডাকতো।
জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মায়ের অনুপস্থিতির কষ্ট অনুভব করলেও, বছরের দুটো দিন মাকে ভীষণ মিস করি। প্রথমত মাকে যেদিন হারিয়েছিলাম, আর নিজের জন্মদিনে। দেখতে দেখতে জীবনের অনেকগুলো বছর পার হয়ে গেছে। আর সেই হিসেবের খাতায় যোগ হলো আরও একটা বছর।
জীবনের একটা পর্যায় এসে বোধহয় আমরা কেউই জন্মদিনটাকে আর শুধু জন্মদিন বলে ভাবতে পারিনা। মনে হয় কেমন যেন জীবন থেকে আরও একটা বছর চলে গেলো এবং একটু একটু করে আমরা জীবনের শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলেছি।
ছোটোবেলা থেকেই আমার জন্মদিনের আড়ম্বর কোনোদিনই তেমন ভাবে ছিলো না। সেই সময়ের সব থেকে বড় বাধা ছিলো আমাদের আর্থিক অবস্থা, একথা সত্যি। তবে আরও একটা বিষয় ছিলো, তখনকার দিনে জন্মদিনে এতো আয়োজন বেশি খুব বেশি লক্ষ্যিত হতো না।
সম্পূর্ণ গ্রামের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা পরিবার ছিলো, যাদেরকে সেই সময় আমাদের গ্রামের ধনী পরিবার বলা হতো। আর সেই বাড়ির বাচ্চাদেরই জন্মদিনের আয়োজন করা হতো ধুমধাম করে। প্রতিবছর আমাদের নিমন্ত্রণ থাকতো সেখানে। তবে আমাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে সেই আয়োজন শুধুমাত্র স্বপ্ন ছিলো।
![]()
|
|---|
তবে এই বিষয়টি নিয়ে যে কখনো মনের ভীষণ খুব ক্ষোভ জন্মেছে এমনটা নয়। কারণ ছোটো থেকেই কিভাবে জানিনা মা এমন ভাবেই বড় করেছিলো যে, জীবনে না পাওয়ার হিসেবের তুলনা করার থেকেও, পাওয়ার হিসেব করতে শিখেছি অনেক বেশি।
এটা হয়তো মায়েদের পক্ষে সম্ভব। কিংবা হয়তো তখনকার দিন বলেই এমন ভাবে আমাদেরকে মানুষ করতে পেরেছিলেন। কারণ যুগের সাথে সাথে সমস্ত কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। তাই আজকালকার দিনে বাচ্চাদেরকে এই বিষয়গুলো বোঝানো সত্যিই ততটা সহজ নয়।
সকলেই আজকাল প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসী। কোনো বন্ধু-বান্ধবের জন্মদিনের আয়োজন দেখে এলে, নিজের জন্মদিনেও যেন তেমন আয়োজন করা হয়, এই বায়না করে প্রত্যেকটি বাচ্চাই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সব বাবা মায়েদেরও দেখছি নিজের বাচ্চাদের আবদার পূরণের জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে তারা চেষ্টা করে চলেছেন।
![]()
|
|---|
যাইহোক বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে আমার জন্মদিনের আয়োজন কমবেশি সকলেই করে থাকেন। শাশুড়ি মা আমার পছন্দের রান্না করেন, শশুর মশাই নতুন জামা কেনার জন্য টাকা দেন। শুভ আমার পছন্দের কেক আনে। আর রাতের বেলায় বাইরে থেকে আমার পছন্দের খাবারও। তার সাথে চকলেট আনতে কোনো বছরই ভুল করে না।
অন্যদিকে ননদ, ননদের হাজব্যান্ড এবং ওনাদের দুই ছেলে ওনরাও অন্যান্য বছর আসে। তবে এবছরের জন্মদিনে আর আসা সম্ভব হয়নি। কারন চাকরি সূত্রে ননদের হাজব্যান্ড এবং ওনার বড় ছেলে বাড়ির থেকে একটু দূরেই থাকেন। ফলতো ননদের একার পক্ষে রাতে আসা অসম্ভব ছিলো, যেহেতু বাড়িতে অসুস্থ শাশুড়ি মা ও রয়েছেন।
গতকাল আপনাদের জানিয়েছিলাম আমার শরীরটা বেশি ভালো নেই। তার উপর আগামীকাল একাদশীর উপবাস রয়েছে। তাই আজ আমি নিরামিষ খাই। সুতরাং আজ বাড়িতে রান্নার আয়োজন যেমন হয়নি, ঠিক তেমনি সন্ধ্যা বেলার শুভর সাথে বাইরে বেরোনোও সম্ভব হয়নি। তবে শাশুড়ি মা নিজের হাতে পায়েস রান্না করেছেন দুপুরে। আর নিজেকেই পছন্দ করে আমার জন্য একটা নতুন নাইটিও নিয়ে এসেছেন।
![]()
|
|---|
আমাকে না বলেই তিনি গিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন আমাকে বলে গেলে আমি বারণ করবো। যেহেতু এই মুহূর্তে ঘরে অনেক নতুন জামা ও নাইটি রয়েছে। তাই কোনো কিছুই কিনতে দিতাম না। তাই তিনি আমাকে না বলেই বাজারে গিয়েছিলেন এবং ফেরার পথে নিয়ে এসেছেন। আমি স্নান করতে যাওয়ার আগে সেটা আমার হাতে দিয়ে বললেন, স্নান করে যেন নতুন নাইটিটাই পরি।
মিথ্যা বলবো না, বিষয়টি ভালো লেগেছে আমার। তবে শ্বশুরমশাইয়ের অনুপস্থিতি আজ অনুভব করেছি। গতকাল শুভ চকলেট নিয়ে এসেছিলো এবং বলেছিলো আজ নিরামিষ খাওয়ার দরকার নেই। রাতে বাইরে কোথাও রেস্টুরেন্টে যাবো। তবে আমি আর একটা দিনের জন্য নিয়ম ভাঙাতে রাজি হয়নি। তাই অফিস থেকে ফেরার পথে এগলেস একটা কেক নিয়ে এলো।
সারাদিন সংসারের কাজে এবং শুয়েই সময় কেটেছে, কারণ শরীরটা কেন জানি না ভালো লাগছে না। যেন সারা দিন অলসতা ঘিরে রেখেছিলো। শুভ বেরিয়ে যাওয়ার পর একটু শুয়েছিলাম। তারপর উঠে ঘরের কাজ করে, একেবারে স্নান সেরে পুজো দিয়ে নিয়েছিলাম।
দুপুরে লাঞ্চ করে আবার ঘুমিয়েছি। আর সন্ধ্যা থেকে বসে বেশ কিছুক্ষণ টিভি দেখলাম। জন্মদিনটা আজ এভাবেই কাটলো। জন্মদিনের আনন্দ তেমন ভাবে অনুভব না করলেও, মনে মনে ভাবলাম জীবন থেকে একটা বছর পার হয়ে গেলো। এই বছরে কত কিছুর সম্মুখীন হতে হলো আমাকে।
শশুর মশাইয়ের অসুস্থতা, হসপিটালে কতগুলো দিন কাটানো, ওনার মৃত্যু, সমস্ত নিয়ম পালন। এই একটা বছরে যেন আরও অনেকখানি বড় হয়ে গেলাম। এই সমস্ত অভিজ্ঞতাই তো আমাদেরকে জীবন সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। দিনে দিনে বয়স যত বাড়ছে নিজের ভবিষ্যতের চিন্তা না চাইলেও মাঝে মধ্যেই মনে উঁকি দিচ্ছে।
জীবনে আরও কতগুলো বছর পার করবো তা জানিনা। কারণ জীবন অনিশ্চিত। তাই মৃত্যু কখন এসে কড়া নাড়বে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। তাই প্রতিটা দিন যেমন উপভোগ করা উচিত, তেমনি সমস্ত রকম পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করা উচিত।
আগামী বছর আমার জন্য আর কি কি অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে জানিনা। তবে ঈশ্বরের কাছে একটাই প্রার্থনা করি, তিনি আমার ভাগ্যে যা লিখেছেন, সেই সমস্ত কিছু সহ্য করার ক্ষমতা যেন তিনি আমাকে দেন। কারণ ভাগ্যের লিখন পরিবর্তন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু তা সহ্য করার মতন ক্ষমতাটুকু ঈশ্বরের থেকে চাওয়া আমার সাধ্যের মধ্যে, তাই ততটুকুই চাইতে পারি।
![]()
|
|---|
গতবারের জন্মদিনটা বেশ ভালো কাটিয়েছিলাম। সকালে দিদিদের সাথে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে মা ভবতারিণীর দর্শন করে, সেখানে পূজো দিয়ে দিনটা শুরু হয়েছিলো। আর সন্ধ্যাবেলায় তিতলি ও তাতানের সাথে কেক কেটে, দিদির হাতে তৈরি পায়েস খেয়ে, রাতে বাড়িতে ফিরেছিলাম। এই বছরও দিদি এমনটাই করার কথা বলেছিলো, কিন্তু এ বছর আর থাকা সম্ভব হয়নি।
যাইহোক তাতে মন খারাপ হয়নি, কারণ প্রতিটা বছর যে একই রকম কাটবে এমন আশা করাটাই বোকামি। তবে জীবন থেকে আরও একটা বছর হারিয়ে গেলেও এ বছর বেশ কিছু নতুন জায়গা পরিদর্শন করতে পেরেছি। কিছু ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। জীবন মানেই তাতে শুধু কঠিন পরিস্থিতি থাকে এমন নয়, ভালো কিছু মুহূর্তও এই জীবনে আমাদেরকে উপহার দেয়।
তাই আগামী বছর পথচলা কঠিন হলেও তার ভিতরেই কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ তিনি নিশ্চয়ই দেবেন। এই বিশ্বাস নিয়ে জীবনের আরও একটা নতুন বছরে পা রাখতে চলেছি। আপনাদের সকলের শুভকামনা প্রার্থনা।
![]()
|
|---|
আজকাল নিজের জন্য তেমন কিছু প্ল্যান করিনা। জীবন থেকে কি পাইনি, সেটা নিয়ে আফসোস করে আর সময় নষ্ট করি না। কারণ এখন বুঝতে পারি সময়ের সাথে এগিয়ে চলাই, ভালো থাকার শ্রেষ্ঠ উপায়।
খারাপ লাগা, কষ্ট, এগুলো জীবনের এই অঙ্গ। তাই সেগুলো মেনে নিয়ে এগিয়ে চলতে হয়। কোনো কষ্টকে আঁকড়ে ধরে রাখার থেকে, সেগুলো পিছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাগ জীবনের আসল মানে।
তাই এই জন্মদিনে নিজেই নিজেকে প্রমিস করেছি, যেহেতু বয়স বেড়ে চলেছে তাই আর আফসোস নিয়ে নয়, বরং নিজেকে ভালোবেসে আগামী দিনগুলো কাটাবো। কারণ অন্যকে ভালো রাখতে গেলে নিজেকে ভালোবাসাটা সত্যিই প্রয়োজন।
ভালো থাকবেন সকলে। আমার জন্মদিনে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ঈশ্বর যেন আপনাদের সকলকে জীবনের কঠিন লড়াই লড়ার সাহস ও শক্তি দেন। পাশাপাশি জীবনকে উপভোগ করার মতন সুন্দর কিছু মুহূর্তও উপহার দেন।
সকলের সুস্থতা প্রার্থনা করে আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন।





