"গত দুদিনের ব্যস্ততার গল্প"

in Incredible India • yesterday (edited)
IMG_20261002_091442.jpg
"আমাদের বাড়িতে বসে দুজনের ড্রয়িং করার মুহূর্ত।"

##Hello,
Everyone,

এখন ঘড়িতে রাত ১০.৩৮ মিনিট। সবেমাত্র ফ্রেশ হয়ে এসে দিদিদের রুমে শুলাম। ভাবলাম পোস্ট লেখা শুরু করি। এরপর শরীর কতটুকু দেবে জানিনা। ভীষণ ক্লান্ত বোধ করছি আজ। আসলে গত দুইদিন ধরে যেন মনে হচ্ছে চরকির মতন ঘুরে চলেছি।

গতকালের পোস্টেই আপনাদের জানিয়েছিলাম, পরশুদিন রাতে দিদি বাড়িতে এসেছিলাম। পুজোর শপিং সেরে, গতকাল সকালে তিতলি এবং তাতানকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাড়িতে পৌঁছে সকলের রান্না করে ব্রেকফাস্ট সেরে আবার দুপুরের রান্নার আয়োজন করলাম।

এই সমস্ত কিছু সেরে স্নান করে তিতলি ও তাতানকে আগে লাঞ্চ করিয়ে দিলাম। শাশুড়ি মা তারপর খেলেন। সবশেষে আমি ও শুভ খাওয়া দাওয়া করলাম। দুপুরবেলার খাওয়া-দাওয়ার পর্ব শেষ করার পর, সন্ধ্যা বেলায় পুজো দিয়ে আবার ননদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে নিলাম।

সেখানে ননদের ছোটো ছেলের সাথে তিতলি ও তাতান দুজন মিলে অনেক মজা করেছে, খেলা করেছে। গতকাল রাতে ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় দুটো বেজে গিয়েছিলো। আবার সকাল ন'টা নাগাদ ঘুম থেকে উঠে, ওদেরকে নিয়েই ব্যস্ততার মাঝে দিনটি পার হয়েছে।

IMG_20261002_073452.jpg
"গতকাল সকালে আমাদের বাড়িতে যাওয়ার সময় স্টেশনে বসে তোলা ছবি।"

যদিও ওরা বলেছিলো আজ বাড়িতে আসবে না। তবে আগামীকাল যেহেতু রবিবার, আর দিনের বেলায় ট্রেনে আজকাল ভালোই ভিড় হচ্ছে। যেহেতু এখন পুজোর শপিং করতে বেরোচ্ছেন সকলে, বিশেষত ছুটির দিন গুলোতে। রবিবারে বেশকিছু ট্রেন ক্যান্সেল থাকে, সুতরাং বাকি ট্রেনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

আর আমি যেহেতু তিতলি এবং তাতান দুজনকে নিয়ে ফিরবো, তাই ভিড় ট্রেনে আসার রিস্ক নিতে চাইছিলাম না বলেই, সন্ধ্যার পর ননদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আমাদের বাড়িতে এলাম। আমাদের বাড়িতেই তিতলিদের ব্যাগ রাখা ছিলো, সেখান থেকে ব্যাগপত্র সব গুছিয়ে নিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বাদে আবার স্টেশনে এসে পৌঁছলাম।

IMG_20261003_200626.jpg
"আজকে ফেরার সময় ট্রেনের জানালার পাশে বসে তোলা ছবি।"

রাত ৮ টা ১৫ মিনিটে দত্তপুকুর লোকাল ছিলো যেটা আমাদের স্টেশন থেকেই ছেড়ে আসবে, সুতরাং ওই ট্রেনে ওদের দুজনকে নিয়ে আসাই সব থেকে সুবিধা জনক বলে, নিজের শারীরিক ক্লান্তিকে উপেক্ষা করে সেই ট্রেন ধরলাম। ট্রেনে আসার সময় একেবারে জানালার পাশের সিটে বসেছিলাম।

জানলা দিয়ে সুন্দর ঠান্ডা হাওয়া আসছিলো। ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছিলো বারবার। তবে কিছুক্ষণ পরেই দেখলাম তাতান ঘুমিয়ে পড়েছে আমার কাঁধে মাথা দিয়ে। সকাল থেকে খেলায় মত্ত ছিলো। তাই দিনের বেলায় ঘুমানো হয়নি।‌ এইজন্য ট্রেনে ওঠার সাথে সাথেই সুন্দর হাওয়া এবং হালকা ঝাঁকুনিতে ঘুমিয়ে পড়েছে তাতান।

IMG_20261003_235534.jpg
"ট্রেন ছাড়ার আগে দুজনে ছবি তুললাম।"

তিতলির চোখেও ঘুম ছিলো কিন্তু ও ঘুমায়নি। কয়েকটা স্টেশন পর্যন্ত তাতানকে ঘুমাতে দিলাম, একটু বাদে যখন আমাদের নামার সময় এলো, তখন ওকে ডাকলাম। আসলে তাতান এখন যথেষ্ট বড় হয়েছে, তাই ওকে কোলে নিয়ে, আর এক কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ট্রেন থেকে নামাও অসম্ভব।

তিতলি একাই ট্রেন থেকে নামতে পারে, তবে তাতানকে নিয়ে একটু সাবধানেই নামতে হতো। তাই কিছুক্ষণ আগে থেকে ওকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে, জল খাইয়ে নিলাম। যাতে ঘুমটা ভেঙে যায়।

IMG_20261003_200622.jpg
"ট্রেনটা বেশ ফাঁকা ছিলো।"

ভাগ্যিস ট্রেনে খুব বেশি ভিড় হয়নি, তাই ট্রেন থেকে নামতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। ট্রেন থেকে ফ্ল্যাট দু মিনিটের হাঁটা পথ, তাই আর কষ্ট হয়নি। ফ্ল্যাটে এসে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হলাম, তারপর কিছুক্ষণ দিদির সাথে কথা বললাম। ফ্রেশ হওয়ার পরে ফ্যানের তলায় বসাতেই ঘুমে চোখ বুঝে আসছিলো।

বুঝলাম আজ রাতে আর বেশিক্ষণ জেগে থাকতে পারবো না‌। সেই কারণে পোস্ট লেখার শুরু করলাম। আগামীকাল আবার আমাকে ফিরতে হবে। তবে বাড়িতে যাওয়ার আগে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে আমাকে।

IMG_20261003_202301.jpg
"ট্রেন যখন বামন গাছি স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিলো, তখনকার তোলা ছবি।"

ইতিমধ্যে তিন সপ্তাহ অতিক্রম হয়েছে আমি হোমিওপ্যাথি ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। তিন সপ্তাহের ওষুধ দিয়েছিলেন। সেগুলো আগামীকালই শেষ হবে। তাই ভাবলাম গতকাল গিয়ে একেবারে ডাক্তার দেখিয়ে তারপর বাড়িতে ফিরবো। মাঝখানে আর যাতে বাড়ি থেকে বেরোতে না হয়।

গত তিনদিন ধরে এতো পরিমানে বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে যে, আর ভালো লাগছে না। শাশুড়ি মা না থাকায় দীর্ঘ অনেকগুলো দিন বাড়িতেই ছিলাম। খুব প্রয়োজন ছাড়া কোথাও বেরোয়নি।

আর গত দুদিনে বাড়ি থেকে এতোবার বেরিয়েছি যে, আমার আজকে বিরক্ত লাগছে। তবে অনেক সময় বাচ্চাদের আবদার আমাদের বিরক্তির থেকেও অনেক বেশি মূল্যবান হয়। অনেকদিন ধরেই তিতলি তাতান বায়না করছিলো, আমাদের বাড়িতে যাবে।

IMG_20261003_201207.jpg
"দিদিদের ফ্ল্যাটে ঢোকার মূহুর্তে তোলা ছবি।"

হয়তো আমার একটু শারীরিক কষ্ট হলো, তবে ওরা যে এই দুটো দিন আমাদের বাড়িতে এবং ননদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আনন্দ পেয়েছে, সেই অনেক বড় প্রাপ্তি। যাইহোক আবার কবে এমন সুযোগ আসবে জানি না। তবে গত দুদিন এইরকমই ব্যস্ততার মাঝে সময় পার হয়েছে আমার। আগামীকাল বাড়িতে ফিরে গেলে আবার সেই পুরনো রুটিন শুরু হবে।

যাইহোক গত দুদিনের কিছু কিছু মুহূর্ত আজকের পোস্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করলাম। আশাকরি আজকের লেখা পড়লে গত দুদিন কিভাবে সময় পার হয়েছে আমার, আপনারা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারবেন।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...