"হঠাৎ করেই কিছু ঘটনা, আমাদের জীবনের শূন্যতার অনুভূতি মনে করিয়ে দেয়"

in Incredible India20 days ago (edited)
IMG_20260829_120916.jpg

Hello,

Everyone,

গতকাল থেকে শুরু করে আজ সারাদিন যে হারে বৃষ্টি হলো, তাতে মনে হচ্ছে এখন বর্ষাকাল চলছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে যখন বর্ষাকাল ছিলো, তখন কিন্তু এমন বৃষ্টি হয়নি। অবশ্য নিম্নচাপের প্রভাবেই এমন বৃষ্টি শুরু হয়েছে, জানিনা কদিন চলবে।

গতকালও সারাদিন এতো বৃষ্টি ছিলো যে, সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি। তবুও গতকাল মাঝেমধ্যে বৃষ্টি কিছুটা হলেও কমেছিলো। তবে আজ সকাল থেকে এমন বৃষ্টি শুরু হয়েছে যে, কমার নাম নেই। কখনো মুষলধারায়, কখনো টিপটিপ করে, অনবরত বৃষ্টি হয়েই চলেছে।

এর মাঝে যখন বাড়ি থেকে বেরোতে হয়, কি যে অস্বস্তি কাজ করে তা বলে বোঝাতে পারবো না। কিন্তু উপায় নেই, আজ বেরোতে হতো। তাই সকাল থেকেই সেই রকম ভাবে তৈরি হয়েছিলাম। সকালের কাজ মোটামুটি গুছিয়ে নিয়ে, স্নান সেরে পুজো দিয়ে নিলাম। খুব ভোরে বেড়োতে না হলে আমি চেষ্টা করি অন্তত পুজো দিয়ে বেরোতে।

তাই শুভ অফিসে চলে যাওয়ার পর, পুজো দিয়ে আমিও তৈরি হয়ে নিয়েছিলাম। তবে যখন বেরোতে যাবো তখন একেবারে মুষলধারায় বৃষ্টির শুরু হলো। তবে বৃষ্টি কমার অপেক্ষা করে খুব একটা লাভ হবে না বুঝে, সেই সময়ই বেরিয়ে পড়লাম। কারণ আরও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করলে ট্রেন না পাওয়ার সম্ভাবনা ছিলো।

বাড়ির সামনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম যদি স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছানোর কোনো গাড়ি পাই। তবে তেমন কোনো সম্ভাবনা না দেখে কয়েক পা এগিয়েছি, তখনই পেছন থেকে টোটোর আওয়াজ পেলাম‌। তাই দাঁড়িয়ে গেলাম সেখানে। ভাগ্যিস একটা টোটো পেয়েছিলাম না হলে একেবারে ভিজে স্টেশন পৌঁছাতে হতো। টিকিট কাউন্টার বেশ ফাঁকাই ছিলো, তাই টিকিট কেটে দুই নম্বর প্লাটফর্মে পৌঁছালাম, যেখানে আমার ট্রেন আসার কথা।

IMG_20260901_120803.jpg

কিছু সময় গেলে ট্রেন এলো এবং ট্রেনের ভেতরে যথেষ্ট ভিড় ছিলো। ট্রেনে উঠতে গিয়ে সবার ছাতার জলে প্রায় অর্ধেক ভিজে গেলাম। তবে কাউকে কিছু বলার নেই, কারণ যে প্রচন্ড বৃষ্টি হয়েছিলো তাতে ছাতা ভিজে যাওয়া এবং ট্রেনে ওঠার সময় সেই জল পড়া খুব স্বাভাবিক।

কয়েকটা স্টেশন পার করার পরে ট্রেনের ভিতরে হঠাৎ কয়েকজনের চিৎকার শুনতে পারলাম। আসলে মহিলা কামরায় চারটে গেট থাকে। যে গেটে আমি উঠেছিলাম ঠিক তার পাশের গেটেই হইচই শুরু হয়েছিলো।সাধারণত ট্রেনের ভিতরে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লেই এমন হইচই শুরু হয়। আমি যদিও অন্য গেটে ছিলাম, তবে যতখানি আন্দাজ করতে পারলাম কেউ বোধহয় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

কেউ বলছে জল দিতে, কেউ আবার বলছে ওনাকে সিটে বসান। তাতেই আন্দাজ করলাম হয়তো কারোর শরীর বেশি খারাপ লাগছে। এমনটা মাঝেমধ্যেই হয়‌ ট্রেনে। দেখলাম কয়েকজন নিজেদের জলের বোতল বের করে সেই মহিলার মাথায় দিচ্ছে, কেউ আবার ওনাকে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করছেন।

IMG_20260901_120721.jpg

এরপরেই খুব জোরে তার কান্নার আওয়াজ পেলাম এবং বুঝলাম সকলেই তাকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মহিলাটি চিৎকার করে কান্না করছিলো আর বলছিলো, মা এভাবে তুমি কেন চলে‌ গেলে? তোমায় শেষ দেখাও দেখতে পেলাম না। তুমি কেন চলে‌ গেলে?

বুঝলাম ওনার মা মারা গেছেন। আর শেষ সময়ে মায়ের কাছে থাকতে না‌ পারার কষ্ট আর আফসোস, ওনার আর্তনাদে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিলো। অদ্ভুত একটা কষ্ট যেন আমিও অনুভব করলাম। নিজের অতীতের কষ্টের দিনগুলো যেন চোখের সামনে এক মুহূর্তে ভেসে উঠলো। এমন কষ্ট, এমন আফসোস তো আমিও অনুভব করেছি একসময়। সেগুলো ভাবতে ভাবতেই ট্রেন এসে পৌঁছালো আমার গন্তব্য স্টেশনে।

আমাকে নামতে হলো। বাইরে তখনও মুষলধারায় বৃষ্টি হয়ে চলেছে। আমার যেন মনে হলো, আজ প্রকৃতিও কাঁদছে কোনো স্বজন হারানোর কষ্টে। এখন আমি হয়তো ঐ অচেনা মহিলাটির কথা লিখছি। কিন্তু উনি এখন মা কে হারানোর কষ্টে আকুল হয়ে আছেন। এই আকুলতা শুধু আজকের নয়, এ সারা জীবনের।

যাইহোক পৃথিবীতে কেউই চিরস্থায়ী নয়। সবাইকে যেতে হবে একদিন। তবুও এই সত্যটা মেনে নেওয়া বড্ড ভয়ংকর একটা অভিজ্ঞতা। যা একদিন সবার হবে।

ভালো থাকবেন সকলে। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...

@sampabiswas Thank you for sharing such an emotional and touching diary. Reading about the heavy rain and the heartbreaking incident of the stranger on the train truly brings tears to the eyes. It reminds us all of the bitter truth of life and the immense pain of losing a mother. A deeply moving and reflective write-up.