"পুজোর আর খুব বেশি দেরি নেই,তাই আজ থেকে শুরু হলো আমাদের শপিং।"

in Incredible India • 5 days ago (edited)
IMG_20260927_201434.jpg
"মলের ঘোরার সময়, বাচ্চাদের পোশাক গুলো দেখতেই আমার সব থেকে ভালো লাগে।"

Hello,

Everyone,

কেমন আছেন আপনারা সকলে? আশা করছি প্রত্যেকে ভাল আছেন সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

কিছুক্ষণ আগে ননদের বাড়ি থেকে ফিরলাম। একেবারে ডিনার করেই ফিরেছি, তাই বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে,‌ পোস্ট লিখতে বসলাম।

বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ ননদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আজ সকালেই ননদের হাজব্যান্ড ফোন করে বলেছিলো বিকেলের দিকে একটু বারাসাত যাবে‌ পুজোর জন্য কেনাকাটা করতে।

IMG_20260927_163429.jpg
"ননদের বাড়িতে যাওয়ার সময় প্রথমে টোটোতে উঠেছিলাম।"

প্রথমে যেতে রাজি হইনি। কারণ ইচ্ছে ছিলো এবছর কোনো শপিং করবো না। প্রথমত ঘরে নতুন জামা রয়েছে অনেকগুলো। তার উপর এই বছর পূজোতে তেমন কোনো প্ল্যান নেই। অবশ্য কোনো বছর‌ই তেমনভাবে ঘোরার কোনো প্ল্যান থাকে না।

তবে অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়ার জন্য কোনো না কোনো নতুন পোশাক অবশ্যই কিনি। তবে এ বছর আর তার আবশ্যকতা নেই। কারণ এবছর আর অঞ্জলি দেওয়া হবে না। তাই ঘরে নতুন জামা যেগুলো আছে, সেগুলোই যথেষ্ট। এটা ভেবেই কেনাকাটা করবো না ভেবেছিলাম।

তবে ননদের ছেলেদের অবশ্যই কিছু কিনে দিতে হতো। তাই প্রতি বছরের মতন ননদরা কেনাকাটা করার জন্য বেরোবে এটা জানতাম। আর যাওয়ার দিন আমাকে অবশ্যই ডাকবে, এ বিষয়েও নিশ্চিত ছিলাম। তাই প্রথমদিকে না যাওয়ার কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত যেতেই হলো।

IMG_20260927_164243.jpg
"টোটো থেকে নামার পর আবার অটোতে করে যেতে হয়েছিলো।"

সকাল থেকে বাড়ির প্রচুর কাজ করেছি। আজ যেহেতু রবিবার ছিলো একটু বেলা করে ঘুম থেকে ওঠার পরে, এক এক করে সমস্ত কাজ গুছিয়েছি। আজ শুভও বাড়ির কাজে আমাকে বেশ সাহায্য করেছে। ঘরের ভেতরটা আমি পরিস্কার করেছি এবং বাইরেটা সম্পূর্ণ শুভ নিজে পরিষ্কার করেছে।

আসলে দেখতে দেখতে পুজো প্রায় চলেই এলো। শাশুড়ি মা বাড়ি আসলে এই কাজগুলো উনি করতে চাইবেন। তবে যেহেতু চোখে ইতিমধ্যে সার্জারি হয়েছে, তাই ধুলোর কাজ করাটা ঠিক হবে না। তবে উনি চুপচাপ বসে থাকতে পারেন না, কোনো না কোনো কাজ উনি করবেনই। তাই তিনি বাড়িতে ফেরার আগেই চেষ্টা করলাম ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার কাজ শেষ করার।

IMG_20260927_180027.jpg
"মলে পৌঁছাতে‌ পৌঁছাতে আমাদের সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো।"

যাইহোক এরপর দুপুরবেলার খাওয়া শেষ করে, সাড়ে চারটা নাগাদ ননদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। গিয়ে দেখলাম ননদ ও ননদের হাজব্যান্ড মোটামুটি তৈরি। কিছুক্ষণ বসার পর সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে নিলে আমরা বেরিয়ে পড়লাম বারাসাতের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতেই আমাদের প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো।

IMG_20260927_184724.jpg
IMG_20260927_184707.jpg
"এই সেকশন থেকে ননদের ছোটো ছেলের জন্য কেনাকাটা করা হয়েছিলো।"

প্রতিবার আমরা যে মলে যাই এবারও সেই মলেই গিয়েছিলাম। আর সেখানেই পছন্দসই সমস্ত কিছু আমরা পেয়ে গিয়েছিলাম। প্রথমে ননদের দুই ছেলের জন্য কেনাকাটা করা হলো, তারপর ননদ এবং ননদের হাজব্যান্ড কিছু জিনিস কিনলো। শুভর জিনিস ও অনলাইনে অর্ডার করবে, তাই মল থেকে ওর জন্য আর কিছু কেনা হয়নি।

আমি বাড়ি থেকে বারবার বলে গিয়েছিলাম কোনো কিছু কিনবো না। তবুও শেষ পর্যন্ত একটা কুর্তি আমাকে কিনেই দিলো। বাকি আমাকে টাকা দিয়ে দিয়েছে পছন্দ মতন অন্য যেকোনো জিনিস কেনার জন্য। এখনও শাশুড়ি মায়ের জন্য কেনা বাকি। তবে ননদ বললো দুটো শাড়ি কেনার জন্য আর অন্য কোনো দোকানে যেতে হবে না। পরে একদিন আমি আর ননদ দুজনে মিলে বেরিয়ে শাশুড়ি মায়ের জন্য কেনাকাটা করে নেবো।

IMG_20260927_183614.jpg
IMG_20260927_183556.jpg
"আর এই সেকশন থেকে কেনা হয়েছিলো, ননদের বড় ছেলের এবং ননদের হাজব্যান্ডের জামা‌প্যান্ট।"

যাইহোক মলের মধ্যে অনেকক্ষণ ঘুরলাম। বেশ কিছু জিনিস দেখলাম। তবে আমার সবচেয়ে বাচ্চাদের পোশাক গুলো দেখতে ভালো লাগে। সেগুলোর রং যেমন সুন্দর হয়, ততটাই সুন্দর হয় ডিজাইনগুলো। যাইহোক সেখান থেকে ননদ আবার ওনাদের একজন রিলেটিভের বাচ্চা ছেলের জন্য জামা কিনেছে।

কেনাকাটা সম্পন্ন করতে করতে আমাদের প্রায় সাড়ে আটটা বেজে গেলো। তারপর বিলিং সেকশনে দাঁড়িয়ে বিল করার পর আমরা মল থেকে বেরোলাম। কিছুটা দূরে এগিয়ে এসে অটো স্ট্যান্ডে গিয়ে, অটোতে উঠলাম এবং কিছুক্ষণ বাদে অটো ছেড়ে দিলো।

IMG_20260927_201425.jpg
IMG_20260927_201423.jpg
"এই সেকশন থেকে আমার এবং ননদের জন্য কেনাকাটা করেছিলাম।"

আমরা আর সাড়ে নটার মধ্যে বাড়িতে চলে এসেছিলাম। ফোন করে শুভকে বললাম যাতে আমাকে ননদের বাড়ি থেকে গিয়ে নিয়ে আসে। ও আপত্তি করেনি। ননদ বললো বাড়িতে ফিরে আর রান্নাবান্না ঝামেলা করতে হবে না, একেবারে যেন ওখান থেকেই খেয়ে আসি। শুভ ও রাজী হলো।

IMG_20260927_233447.jpg
"ননদের বাড়িতে ডিনারে খেলাম চিকেন বিরিয়ানি।"

তাই তেমনটাই করলাম। রাতের খাবার আজ ননদের বাড়ি থেকে খেয়ে এলাম। আজকে ননদ চিকেন বিরিয়ানি রান্না করেছিলো। বিরিয়ানি খেতে ননদের দুই ছেলেই ভীষণ পছন্দ করে, তাই প্রায়শই রবিবার দিন বাড়িতে বিরিয়ানি রান্না হয়। সেখান থেকে আমি আর শুভ অল্প করে বিরিয়ানি খেয়ে, তারপর বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা করলাম।

IMG_20260927_233726.jpg
"কোন কিছু কিনব না বলার পরেও শেষ পর্যন্ত এই কুর্তিটা কিনতেই হলো।"

যদিও সারাদিন বাড়িতে কাজ করার পরে, মলে গিয়ে প্রচুর হাঁটতে হয়েছে। তারপরেও আজকের বিকেলটা একটু অন্যরকম ভাবে কাটাতে বেশ ভালোই লাগলো। পাশাপাশি কোনো কিছু কিনবো না ভাবার পরেও, যে কুর্তিটা কিনেছি, সেটাও আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।

কারণ বেশিরভাগ মেয়ের মতো পিঙ্ক কালারটা আমারও বেশ পছন্দের। আর এই পিঙ্কটা একটু অন্যরকমই। আপনাদের কেমন লাগলো আমার কুর্তি টা, মন্তব্যের মাধ্যমে সকলে জানাবেন। আর আপনাদের পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়েছে কিনা, সেটাও জানাতে ভুলবেন না।

সকলে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
Loading...
 4 days ago 

It sounds like you had such a lovely and busy Sunday! Even though you planned not to buy anything, that pink kurti seems to have found its way into your shopping bag anyway. I also loved how you shared all the little details, from the travel and shopping to ending the day with homemade chicken biryani. Sometimes these simple family outings become the most memorable moments. And yes, the kurti looks like a lovely choice for Puja!

#s34engagement.