"বিষন্নতার মাঝেই কাটলো এই বছরের লক্ষ্মীপুজোর দিনটা"
|
|---|
Hello,
Everyone,
এমন বিষন্ন লক্ষ্মী পূজো শেষ কোন বছর কেটেছে তা মনে নেই। গত বছর বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো করা সম্ভব হয়নি, কারণ শুভর জ্যেঠিমা মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু তবুও যেন এমন বিষন্ন ভাবে দিনটি কাটেনি, যেভাবে এই বছর লক্ষ্মী পুজোর দিনটা কাটলো।
গত বছর শুভর জেঠিমা মারা যাওয়ার কারণে পূজা করা সম্ভব হবে না এটা যেমন জানতাম। ঠিক তেমনই এই বছরও আমার শ্বশুর মশাই মারা গিয়েছেন, তাই পূজা করা সম্ভব হবে না এটাও আগে থেকেই জানতাম।
তাই দিনটিকে নিয়ে তেমন কোনো খারাপ লাগা মনের মধ্যে ছিলো না। তবে পুজো করতে না পারলে একটু তো মন খারাপ হবেই। তবে দিনটি যে এমন ভাবে কাটবে সেটা সত্যিই আশা করিনি।
দিনের শুরুটা ভালোই ছিলো। আমার গত বেশ কয়েকদিন যাবতই প্রচন্ড সর্দি কাশি হয়েছে। গত দুদিন যাবৎও ওষুধ খাচ্ছি। কাশির সিরাপ খেলে এমনিতেই ঘুম পায়, তার উপর গতকাল রাতে আবার প্রচন্ড হাঁচি হচ্ছিলো বলে, এলার্জির ওষুধ খেয়ে নিয়েছিলাম। সেটা খেলেও ঘুম হয়। তবে আজ রবিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠার তাড়া ছিলো না বলেই দুটো ওষুধই খেয়েছিলাম।
|
|---|
যেহেতু আজ দুপুর বেলা থেকে পূর্ণিমা শুরু হবে, তাই সকাল থেকে আমি উপোস ছিলাম। অন্তত ঘরের ঠাকুরের পূজাটা উপোস থেকে দিতে চেয়েছিলাম। শুভ সকালে গিয়ে একটু ফল ও মিষ্টি এনে দিয়েছিলো। সেটা দিয়েই ঘরে পুজো দিয়ে, লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়ে নিয়েছিলাম।
এই পর্যন্ত সবটাই ঠিক ছিলো। দুপুর বেলা থেকে হঠাৎ করে শাশুড়ি মায়ের বুকে ব্যথা হতে শুরু করলো। বাথরুম থেকে স্নান সেরে কোনো রকমে ঘরে এসে শুয়ে পড়লেন। প্রতিদিন সকালবলায় উনি একটা গ্যাসের ওষুধ খান, যেটা উনি আজ খেতে ভুলে গিয়েছিলেন। ফলোত গ্যাসের কারণে বুকে ব্যথা শুরু হয়েছে।
কারন গতকাল রাতে মিষ্টি দই খেয়েছেন, যেটা একেবারেই ওনার হজম হয় না। এটা জানা সত্ত্বেও উনি আমাকে আড়াল করেই দই খেয়েছেন। আবার সকালে গ্যাসের ওষুধটাও খেতে ভুলে গেছেন। যদি এমন ভাবে শরীর খারাপ না হতো, আমি হয়তো জানতেই পারতাম না যে, উনি গতকাল রাতে দই খেয়েছিলেন। যাইহোক এর কিছুক্ষণ বাদেই শুরু হলো পেটে ব্যাথাও।
তার সাথে সাথে বমি ও পেটের সমস্যা সবটা শুরু হলো। ওষুধ খাওয়ানোর সাথে সাথেই সবটা বমি করে ফেলে দিলেন। সেই থেকে ব্যথায় কাতরাতে শুরু করলেন। আর এইরকম ভাবে পাশে কেউ অসুস্থ থাকলে তখন এমনিতেই মনটা খারাপ হয়ে যায়।
সত্যি কথা বলতে আমাদের বাড়িতে খাবার খাওয়ার যা চল, তাতে গ্যাসের সমস্যা হওয়াটা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। ভবিষ্যতে এই সমস্যা আমারও যে হবে এ বিষয়েও নিশ্চিত। তবে কি জানেন তো, যে ব্যক্তি জেগে ঘুমানোর ভান করে তাকে ঘুম থেকে তোলা অসম্ভব। আমাদের এই বাড়ির প্রতিটি সদস্যরে এই সমস্যা। তারা সবটা জানে, সবটাই বুঝতে পারে, কিন্তু মেনে চলতে পারে না।
আমি যথেষ্ট চেষ্টা করি, কিন্তু মানুষের স্বভাব বদলানো বোধহয় পৃথিবীর সবথেকে কঠিন কাজ। যাইহোক নিজে যতটুকু সাবধানতা অবলম্বন করা যায়, ততটুকু চেষ্টা করি। যার কারণে অনেক আমার অনেক কথা শুনতেও হয়।একেতেই বেশ কয়েকদিন ধরে নিজে শরীরটা ভালো নেই, তার ওপর আজ আমার শাশুড়ি মায়ের এই অবস্থা।
এই কিছুক্ষণ আগেই সামলাতে না পেরে ঘরের মধ্যে বমি করে দিয়েছেন। সেই সমস্ত কিছু পরিষ্কার করতে গিয়ে আমারও অবস্থা খারাপ হয়ে গেলো। তারপর বাকিটা শুভই সামলালো।
আমার একটাই কথা, সুস্থ থাকার জন্য যদি কোনো কিছু ত্যাগ করতে হয়, তাহলে সেটা সহজেই করা উচিত। যে খবরটা খেলে আমার জন্য সমস্যা হতে পারে, সেটা না খাওয়াই বোধহয় উচিত। তবে সেটা খেয়ে নিজে শারীরিক অসুস্থতার সাথে সাথে, বাড়ির বাকি মানুষগুলোকে ব্যস্ত করে তোলার পক্ষপাতী আমি নই।
তবে এই কথা গুলোই যখন আমি বলতে যাই, তখন কেমন যেন শত্রু পক্ষ হয়ে যাই। সেই কারণে আমি এখন চুপচাপ থাকতে শিখছি। কারণ কিছু বিষয়ে উত্তর দিতে গেলে তাতে অপ্রিয়ই হতে হয়। তাই এখন মনে হয়, সেই সকল মানুষের ভালো চাইতে নেই, যারা ভালোর গুরুত্ব বোঝেনা।
|
|---|
যাইহোক সন্ধ্যা বেলায় চারপাশের বাড়িতে উলুধ্বনি, শাঁখের আওয়াজ জানান দিচ্ছিলো লক্ষ্মীপূজো হচ্ছে। কিন্তু সেই মুহূর্তে আমি বাড়িতে একা বসে আছি, আর শাশুড়ি মা ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। এর থেকে খারাপ লক্ষ্মীপুজো বোধহয় এর আগে আমার আর কাটেনি।
আদেও পরিস্থিতি কি হতে চলেছে জানিনা। সারারাত যদি এই রকম ভাবে চলতে থাকে, তাহলে আজ আর রাত জাগা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। যাইহোক আপনাদের সকলের লক্ষ্মী পূজার নিশ্চয় ভালো কাটছে। ভালো কাটুক এইটুকুই প্রার্থনা। তাছাড়া পরেরবার নিশ্চয়ই আমিও মা লক্ষ্মীর আরাধনার আয়োজন করতে পারবো, এই আশায় রইলাম।
যাইহোক সকলকে লক্ষ্মীপুজোর অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে, আজকের লেখা শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।