"কল্যানী থেকে ফেরার পথের কিছু মুহূর্ত"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
গতকালকের পোস্টে আপনাদের শাশুড়ি মায়ের অপারেশনের কথা জানিয়েছিলাম এবং তার কারণে আমরা গিয়েছিলাম কল্যাণী। রাতটা শুভর মামাবাড়িতেই ছিলাম।
পরদিন সকালে আমাদের বাড়িতে ফেরার কথা ছিলো, তবে শাশুড়ি মায়ের চোখের সেলাই কাটার জন্য পুনরায় আবার ওনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। তাই শুভ বললো একটু বেলা করে বেরোবে, একেবারে শাশুড়ি মা কে ডাক্তার দেখিয়ে আনবে।
আমিও আর আপত্তি করিনি। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রথমেই আমি স্নান করে নিয়েছিলাম। সেদিনও আকাশটা মেঘলা ছিলো। স্নান সেরে মামীদের জানালায় দাঁড়িয়ে বাইরেটা দেখছিলাম। কল্যাণী একেবারেই শহরের মতো, বিশেষ করে মামারা যেখানে থাকে সেই এলাকাটা বড্ড বেশি শহুরে।
![]()
|
|---|
কল্যানীর ভিতরের দিকের পরিবেশটা তাও কিছুটা গ্রাম্য এবং আশেপাশে সবুজ গাছপালা চোখে পড়ে। তবে মামা বাড়ির সামনের রাস্তায় বেশ কিছু বড় গাছ থাকলেও, আশপাশে তেমন কোনো বাগান চোখে পড়ে না।
যাইহোক আগের দিন যেহেতু একাদশী ব্রত করেছিলাম, তাই পরদিন সকালে আমার পারণ করার ছিলো তাই, সকাল সকাল স্নান সেরে নিলাম।
মামা বাড়িতে মামা, মামি ও ভাই প্রত্যেকেই আমার হাতের লুচি খেতে পছন্দ করে। আর এদিনও আমি নিরামিষ খাই। তাই সকাল বেলার ব্রেকফাস্টে লুচি আর আলুর তরকারি হবে এমনটাই ঠিক হয়েছিলো।
![]()
|
|---|
তাই শাশুড়ি মাকে নিয়ে শুভ এবং মামা বেরিয়ে যাওয়ার পর, চট জলদি করে আমি আর মামি রান্না ঘরে গিয়ে লুচি আর ছোলার ডাল করে নিয়েছিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম আলু আর পেঁপের তরকারি করবো। তবে মামির ফ্রিজে পেঁপে ছিলো না। আর মামা যেহেতু সকালে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার ব্যস্ততায় বেরিয়ে গিয়েছিলো, তাই বাজার থেকে আর কিনে আনার সময় পায়নি।
অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সেলাই কাটিয়ে নিয়ে বাড়িতে ফিরেছিলো। সবকিছুই ঠিক আছে। ডাক্তার ব্যান্ডেজ খুলে দিয়েছিলো। সারাদিন কালো চশমা পড়ে থাকার কথা বলেছিলেন। আর রাতের দিকে ডান চোখটার জন্য একটা কভার দিয়েছিলো। টিভি দেখা, মোবাইল দেখা একেবারেই বারণ করে দিয়েছিলেন।
![]()
|
|---|
দুপুরে খাওয়ার জন্য মামী রান্না বসিয়েছিলো। আর ততক্ষণে আমি মামির সাথে রান্নাঘরের সমস্ত কাজ একটু গুছিয়ে দিয়েছিলাম। আমি আর মামি দুপুরে নিরামিষ খেয়েছিলাম, বাকি সকলেই মাছ খেয়েছিলো। তবে সেই মুহূর্তের কোনো ছবি আর তোলা হয়ে ওঠেনি।
খাওয়া-দাওয়ার পর আমরা খুব একটা দেরি করিনি। আকাশে মেঘ ছিলো আর মাঝে মধ্যেই মেঘের ডাক শোনা যাচ্ছিলো। তাই ভাবছিলাম হয়তো বিকেলের দিকে অনেক বেশি বৃষ্টি নামতে পারে। সেই কারণে খাওয়া-দাওয়া একটু তাড়াতাড়ি সেরে নিয়ে, আমি আর শুভ বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ি আসার জন্য।
|
|---|
কল্যাণী হাইওয়েটা আমাদের চেনা ছিলো না। মামা বলল ওই রাস্তা দিয়ে আসলে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা জাগুলিয়া পৌঁছে যাবো। তারপর থেকে অল্প কিছুটা খারাপ রাস্তা পাবো। তবে ওই রাস্তাটা ধরলে সম্পূর্ণ খারাপ রাস্তা আসতে হবে না। তাই মামা আমাদের হাইওয়ের মুখ পর্যন্ত পৌঁছে দিলো। তারপর থেকে আমি আর শুভ চলে এসেছি। পথে দেখলাম দূর্গা পুজোর প্যান্ডেলের কাজ চলছে জোড় কদমে।
সত্যিই রাস্তাটা অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো দেখতে। আর এতো ভালো রাস্তা দিয়ে বাইক চালাতেও কম কষ্ট হয়। হাইওয়েটা অনেকখানি লম্বা। প্রথমে ভাবছিলাম আমরা বোধহয় ভুল দিকে যাচ্ছি, না হলে এতক্ষণে তো জাগুলিয়া পৌঁছে যাওয়ার কথা।রাস্তায় অবশ্য কয়েকজনকে আমরা জিজ্ঞেস করে বুঝতে পারলাম যে, আমরা ঠিক রাস্তা ধরেই এগোচ্ছি।
আরও কিছুটা এগোতেই আমাদের বোর্ড চোখে পড়লো। তখনই বুঝলাম যে জাগুলিয়া পৌঁছাতে আর খুব একটা দেরি নেই। তখন শুভ আবার মজা করে বলল প্রস্তুত হও আবার কিন্তু সেই রাস্তা আসতে চলেছে। কিছু করার নেই যখন একবার গিয়েছি তখন বাড়িতে তো ফিরতেই হবে।
![]()
|
|---|
হাইওয়ে থেকে নেমে একটা ব্রীজের পাশ থেকে আমরা আবার বারাসাতের রাস্তা ধরলাম। আর সেখান থেকেই সন্তোষপুর দিয়ে বাঁদিকের গলিতে ঢুকে আমরা বাড়ির দিকে আসলাম। আমডাঙ্গা পার হওয়ার পরেই বুঝলাম, এদিকে প্রচন্ড জোরে বৃষ্টি হয়েছে।
তবে সেই বৃষ্টি কিন্তু কল্যাণীতে এক ফোঁটাও হয়নি। তবে আকাশ একেবারে কালো হয়েছিলো। মেঘে দেখে মনে হচ্ছিলো তখনই বৃষ্টি নামবে। পরে বুঝলাম বৃষ্টিটা এই দিকে হয়েছ, ওইদিকে মেঘ ছিলো এবং মাঝেমধ্যে বেশ জোরে মেঘ ডাকছিলো। তবে বৃষ্টি হয়নি।
কিছুক্ষণের মধ্যে আমি আর শুভ বাড়িতে পৌঁছালাম। বাড়িতে ফিরে একটু ফ্রেশ হয়ে আমি কমিউনিটির কাজ নিয়ে বসলাম। কারন এই দিন কমিউনিটিতে একটি কনটেস্ট শেষ হয়েছিলো, যার ডিটেইলস অ্যাডমিন ম্যামকে মেল করে পাঠানোর দায়িত্ব ছিলো আমার। তাই সবার প্রথমে সেই কাজটাই সেরে নিলাম।
এদিকেও আকাশের মুখ বেশ ভার ছিলো। কিছুক্ষণ পরে টুপটাপ বৃষ্টিও শুরু হলো। সন্ধ্যার দিকে শরীর ভীষণ ক্লান্ত লাগছিলো, মনে হচ্ছিলো যেন তখনই ঘুমিয়ে পড়বো। তাই নিজের জন্য এক কাপ চা করলাম। শুভ অবশ্য কফি খেলো। আমি টিভি চালিয়ে চা খেতে খেতে কিছুটা সময় কাটিয়ে, তারপর পোস্ট লিখতে বসলাম।
রাতের দিকে আরও একবার ফোন করলাম মামির কাছে। শাশুড়ি মায়ের চোখের কি অবস্থা সে খবর জানার জন্য। শুনলাম সবটাই ঠিক আছে। কিছুক্ষণ বাদে দেখলাম হোয়াটসঅ্যাপে মামি শাশুড়ি মায়ের একটা ছবি পাঠিয়েছে। সেটা দেখে আমি একেবারে হেসে ফেললাম।
![]()
|
|---|
ছবিটায় ওনার চোখে ওই কভারটা বাঁধা আছে এটা দেখে আমি হাসিনি। মজা করে মামী আবার ছবিটার নিচে লিখে দিয়েছে ডাকুরানি। নামটা পড়েই আসলে হাসি পেলো। ছোটোবেলায় বেশ কিছু মজার সিরিয়ালে এই ধরনের চরিত্র দেখা যেতো, যাদের চোখে এইরকম কালো রঙের একটা কভার থাকতো। যারা একটু ভিলেনের অভিনয় করতো।
শাশুড়ি মায়ের ছবিটা দেখে এবং মামীর দেওয়া নামটা পড়ে, সেই চরিত্রগুলোর কথাই মনে আসছিলো। যাইহোক শাশুড়ি মা ভালো আছেন, চোখের কন্ডিশন ভালো আছে। শুধু নিয়মিত চোখের ড্রপ গুলো মামী দিয়ে দিচ্ছে। বাকি আর কিছু সমস্যা নেই। এটা জেনে নিশ্চিত হওয়া গেলো।
সামনের মঙ্গলবার আবার ডাক্তারবাবুর কাছে গিয়ে একবার চেকআপ করাতে হবে। তারপরেই শাশুড়ি মা বাড়িতে ফিরতে পারবেন। এই কদিন ওখানেই থাকবেন, না হলে আবার ওনাকে জার্নি করে বাড়ি আসতে হবে এবং আবার ফিরে যেতে হবে শুধু চোখের চেকআপ করানোর জন্য। যাইহোক এই পর্যন্তই কথা হয়েছে।
গতকাল বাড়ি ফিরে এসেছি এবং আজকের দিনটা মোটামুটি ভাবে কাটিয়েছি। ভাবলাম একবার আপনাদেরকেও অপারেশনের পরবর্তী দিনের এবং আমাদের বাড়ি ফেরার কিছু মুহূর্ত আজকের পোস্টের মাধ্যমে শেয়ার করি।
আশাকরি আপনাদের সকলের কালকের এবং আজকের দিনটা ভালো কেটেছে। আগামী দিনগুলোও সুন্দরভাবে কাটুক, সেই প্রার্থনা করে আজকের পোস্ট এখানেই শেষ করছি।
প্রত্যেকে ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।










I really enjoyed reading this beautiful diary about your day. It was a relief to know that your mother-in-law’s eye condition is stable after the operation and that the stitches were removed successfully. Hopefully, her next check-up will also go well and she will be able to return home soon. Wishing her a quick and complete recovery. I also loved the little details of your stay at your uncle’s house, especially the homemade luchi and cholar dal. The journey back through Kalyani Highway sounded beautiful, and your description of the cloudy sky, changing weather and the road made the trip feel very lively And the “Dakurni” part made me smile too! Sometimes a funny little nickname can turn a stressful situation into a sweet family memory. Overall, your post beautifully captures family care, travel, food, responsibilities and those small moments that make everyday life memorable.
#s34engagement.