"বোনের জন্মদিনের কিছু মুহূর্ত"

in Incredible India • yesterday
IMG_20261009_225901.jpg
"জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্ত"

Hello,

Everyone,

লেখার শুরুতেই আপনাদের সকলকে শুভ মহালয়ার অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আজ থেকে দেবীপক্ষের সূচনা। মা আসতে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকদিন।

যাইহোক আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, বোনের জন্মদিন পালনের কিছু মুহূর্তের গল্প। আসলে গতকাল রাতে আর পোস্ট লেখা হয়নি, তাই সকালে শুভ বেরিয়ে যাওয়ার পর, ঘরের কাজ কিছুটা এগিয়ে রেখে বসলাম পোস্ট লিখতে।

গতকালকে আপনাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার কথাও জানিয়েছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত আর ব্যাংকের কাজ করতে যাওয়া হয়নি। কারণ শাশুড়ি মাকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য গতকাল পঞ্চায়েতে যেতে বলেছিলো। তাই উনি সমস্ত ডকুমেন্টস সাথে নিয়ে আমার সাথেই বেরিয়ে ছিলেন। ওনাকে পঞ্চায়েতে নামিয়ে দিয়ে, আমি সোজা প্ল্যাটফর্মে চলে গিয়েছিলাম ট্রেন ধরতে।

IMG_20261009_114938.jpg
"স্টেশনে বসে থাকাকালীন তোলা ছবি।"

যখন স্টেশনে পৌঁছালাম তখন ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হয়ে গেছে। টিকিট কেটে ২ নম্বর স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেন চলে এসেছিলো। আমি আর দৌড়ে ট্রেন ধরার চেষ্টা করিনি, তাই চোখের সামনে দিয়ে ট্রেনটা বেরিয়ে যাওয়া ৪০ মিনিট স্টেশনে বসে, তারপরের ট্রেন ধরে হাবরায় পৌঁছালাম।

IMG_20261009_114819.jpg
"হাবরা স্টেশনে পৌঁছে তোলা ছবি।"

হাবরা স্টেশন থেকে মামা বাড়িতে টোটোতে করে যেতে হয়। তবে তারা কিছুটা পথ হেঁটে গিয়ে টোটোতে উঠতে হয়। গতকাল রোদ্দুরে ছিলো ভালোই। যাইহোক কিছুটা হেঁটে যাওয়ার পর টোটো ধরে মামার বাড়িতে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে গিয়েছিলো। দেখলাম মামীর বাকি রান্নাবান্না প্রায় হয়ে গেছে, শুধু কিছু ভাজা বাকি। আর তার সাথে পাবদা মাছের ঝাল।

IMG_20261009_133018.jpg
"পাবদা মাছ।"
IMG_20261009_132843.jpg
"কয়েক প্রকার সবজি ভাজা কখনো বাকি ছিলো।"

তাই আমিও মামীর সাথে একটু কাজে হাত লাগালাম। মামীর শরীর খারাপ থাকার কারণে এখন আর তাড়াতাড়ি কাজ করে উঠতে পারে না। বোন যদিও মামিকে অনেকটাই সাহায্য করে। তার উপর আমি গিয়ে আরেকটু হাতে হাতে করে দিলাম।

IMG_20261009_140953.jpg
"পাঁচ রকমের সবজি ভাজা"
IMG_20261009_140958.jpg
"আলু ভাজা"
IMG_20261009_133011.jpg
"মুলো দিয়ে বিউলির ডাল"
IMG_20261009_132850.jpg
"বেগুন ভাজা"
IMG_20261009_132846.jpg
"কুমড়ো ভাজা"

আমি ভাজা গুলো শেষ করতে করতে, মামীর পাবদা মাছের ঝাল রান্না হয়ে গিয়েছিলো। ততক্ষণে সকলের খিদেও পেয়ে গিয়েছিলো, তাই মামী এবং বোন স্নান করে আসলে আমরা একসাথে লাঞ্চ করে নিলাম।

রাতের জন্য আয়োজন করা হয়েছিলো মিক্সড ফ্রাইড রাইস এবং চিকেন কষা। সাথে চাটনি ও পায়েস ছিলো। মাংসের জন্য সব মসলা, তার পাশাপাশি ফ্রায়েড রাইসের জন্য সমস্ত সবজি, আগে থেকেই কাটা হয়ে গিয়েছিলো।

IMG_20261009_183713.jpg
"মিক্সড ফ্রাইড রাইসের জন্য বিন ও ক্যাপসিকাম ভাজা"
IMG_20261009_183702.jpg
"এখানে ছিলো বোনলেস চিকেন, চিংড়ি মাছ, ডিম ও গাজর ভাজা।"

তাই খাওয়া-দাওয়ার শেষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার সকলে মিলে রান্না ঘরে চলে গিয়েছিলাম। চিকেন, চিংড়ি মাছ, গাজর, বীনস্, ক্যাপসিকাম, ডিম এই সমস্ত কিছুই এক‌‌ এক করে ভিজে নিয়েছিলাম। অন্যদিকে মামী বোনের জন্য পায়েস রান্না করে নিয়েছিলো। চাটনি দুপুরেই করা হয়ে গিয়েছিলো, তাই আর চাটনি বানানোর কোনো তাড়াহুড়ো ছিলোনা।

IMG_20261009_195152.jpg
"চিকেন রান্না চলছে।"
IMG_20261009_195040.jpg
"একেবারে শেষ পর্যায়।"

এখন দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। আমি রাতে ফিরে আসবো এমনটাই কথা ছিলো। তাই একটু আগে থেকেই মামী রান্না শুরু করেছিলো, যাতে ফেরার সময় শুভ জন্য খাবার নিয়ে আসতে পারি। তবে দেখতে দেখতে রাত প্রায় আটটার বেশি বেজে গিয়েছিলো। আমি আরও কিছুক্ষণ আগেই বেরিয়ে আসবো ভেবেছিলাম।

তবে রান্না যেহেতু হয়নি তাই আমাকে অপেক্ষা করতেই হলো। শুভকে ফোন করে জানিয়েছিলাম আমার একটু দেরি হচ্ছে, কারণ রান্না হয়নি তখনও। শেষ পর্যন্ত রান্না হয়ে যাওয়ার পর সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়ে, প্লাটফর্মে পৌঁছাতে আমার রাত নটা বেজে গিয়েছিলো।

IMG_20261009_120454.jpg
"শ্বেতার জন্মদিনের জন্য আনা‌ কেক। এই ছবিটাও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলো।"

বোনের জন্মদিনের কেক কাটিং এর জন্য আর অপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আর তখনও ওর বান্ধবী ও বন্ধুরা আসেনি। তাই আমি আর ওই দুজনে মিলে কেক কাটলে কোনো আনন্দ পেতো না। আর আমারও বাড়ি ফেরার তাড়া ছিলো বলে, ওকে বললাম বান্ধবীদের সাথে কেক কাটার পর যেন ছবি আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠায়। সেটাই পাঠিয়েছিলো, যেটা আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি।

IMG_20261009_204800.jpg
"রাতের দিকে ট্রেন বেশ ফাঁকাই থাকে।"

যাইহোক ট্রেনে উঠে শুভকে ফোন করাতে ও স্টেশনে এসে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলো। বেচারার ততক্ষণে বেশ খিদে পেয়ে গিয়েছিলো। তাই বাড়িতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে ফ্রেশ হয়ে, আগে ডিনার করে নিয়েছিলাম। রান্না করার সাথে সাথেই খাবার গুলো টিফিন বক্সে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম, তাই সব খাবারই গরম ছিলো।

বাড়িতে শাশুড়ি মা কয়েকটা পাঁপড় ভেজে দিয়েছিলেন চাটনীর সাথে খাওয়ার জন্য। গতকাল ইন্ডিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ ছিলো, সেই খেলা দেখতে দেখতে শুভর সাথে ডিনার করলাম। তবে দুঃখের বিষয় শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়া হেরে গিয়েছিলো। আর ইন্ডিয়া হেরে গেলে খারাপ লাগাটা খুব স্বাভাবিক।

IMG_20261009_213517.jpg
"ডিনার করতে বসে তোলা ছবি।"

যাইহোক এরপর কিছুক্ষণ শাশুড়ি মায়ের সাথে কথা হলো। আসলে পঞ্চায়েতে ওনাকে ডেকেছিল আয়ুষ্মান কার্ড করার জন্য, যেটা করার জন্য কয়েকদিন আগে আমিও গ্রামে‌ দিদি বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেই সমস্ত কাগজপত্রই একটু দেখছিলাম। তারপর সবকিছু ফাইলে‌ গুছিয়ে রাখলাম।

এরপর আর পোস্ট লেখা হয়নি। তাই কয়েকটা পোস্ট ভেরিফাই করে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েছিলাম। এইভাবে গতকাল বোনের জন্মদিনটা কেটেছে। বড় হয়ে যাওয়ার পর আর তেমন আয়োজন না হলেও, প্রিয় মানুষের উপস্থিতিতে এই ছোট্ট ছোট্ট মুহূর্তগুলোই অনেক বড় পাওনা হয়।

ভালো থাকবেন সকলে। ভালো কাটুক আপনাদের দিনটা।

Sort:  
Loading...

Beautifully written! The little moments spent with family make life truly special. Belated birthday wishes to your sister! 🎂🌸

image.png