"বেকন বাংলো: সুন্দরবনের এক ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
কেমন আছেন আপনারা সকলে?
আশাকরি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি ভালো কেটেছে।
যদিও শারীরিকভাবে আমি এই মুহূর্তে একটু অসুস্থ হয়ে পরেছি, তবে আমার আজকের দিনটা মোটামুটি ভালোই কেটেছে। গতকাল রাতে বাড়িতে ফিরেছি।
তবে এই মুহূর্তে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে। ভোরের দিকে আবহাওয়া অনেকটাই ঠান্ডা হয়ে যায়। এরই মধ্যে অন্য জায়গা ঘুরতে গিয়ে জল বদলানো হয়েছে, তাছাড়া সারাদিন নদীর মধ্যেই লঞ্চেঘোরাঘুরি করাতে সর্দি-কাশি শুরু হয়েছে।
|
|---|
যাইহোক সুন্দরবন ট্যুরের পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে বেকন বাংলো ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য, আজ উপস্থিত হয়েছি। চলুন তাহলে লেখার মাধ্যমে ও কয়েকটি ছবির মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাই এই বেকন বাংলোটি দেখে আমাদের কেমন লাগলো।
![]()
|
|---|
বেকন বাংলো সুন্দরবনের গোসাবায় অবস্থিত, যাকে এক কথায় সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারও বলা হয়। এই বাংলোটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনও বলা যায়। কারণ স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের স্মৃতি বিজড়িত কাঠের তৈরি এই সুদৃশ্য বাংলোটি, সুন্দরবন ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য এক অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
![]()
|
|---|
বাঙালিদের কাছে এই বাংলোটি বিখ্যাত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমন। কথিত আছে স্যার ড্যানিয়েল হ্যামিল্টনের আমন্ত্রণে, তাঁর গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় আন্দোলন দেখতে ১৯৩২ কবিগুরু এখানে এসেছিলেন।
![]() |
|---|
|
|---|
আর সেই সময় কবিগুরু এই কাঠের তৈরি সুদৃশ্য বেকন বাংলোতেই দু'দিন কাটিয়েছিলেন। আর তখনই গোসাবা ও সুন্দরবন কবিগুরুকে ভীষণভাবে আকর্ষিত করেছিলো। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক বাংলোটির সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে, তবে বর্তমানে তা খুব একটা চোখে পড়ে না।
![]()
|
|---|
বাংলোর সামনে একটি ছোট্ট পার্ক ও পুকুর তৈরি করা আছে। পার্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ ও আদিবাসীদের মূর্তি বসানো হয়েছে, যা এখানকার পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষিত করে। এছাড়াও সেখানে গৌতম বুদ্ধের খুব সুন্দর একটা মূর্তি ও স্থাপন করা আছে।
এই বাংলোটি সুন্দরবনের দত্ত ও বিদ্যাধরী নদীর একেবারে তীরে শান্ত ও নির্জন পরিবেশে অবস্থিত। যদিও এখন পর্যটকদের কারণে এই জায়গা গুলো বেশ জাঁকজমক হয়েছে এবং আশেপাশে বেশ কতগুলো দোকানও বসেছে, যেখান থেকে পর্যটকরা নিজেদের পছন্দ মতো কিছু জিনিস কিনতেও পারেন।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
**সাধারণত সকাল ১০:০০ টা থেকে বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত এই পার্ক খোলা থাকে।ভ্রমণের সেরা সময় নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ শীতকাল। যদি এই বাংলাটির ভেতরে কিছু জিনিস সংরক্ষিত থাকতো, তাহলে তার আরও মানুষকে আকৃষ্ট করতো। তবে দুঃখের বিষয় তেমন কিছুই ছিলো না।
![]()
|
|---|
এই বাংলোটি বর্তমানে আরও অনেক বেশি সংস্করণের প্রয়োজন রয়েছে বলে আমার ব্যক্তিগত অভিমত। চারিদিক থেকে কাঠগুলো ভেঙে যেতে শুরু করেছে, সেই রকমই একটা জায়গা থেকে ফোনটা ভেতরের দিকে ঢুকিয়ে একটা ছবি তোলার চেষ্টা করেছি।
![]()
|
|---|
তবে হ্যাঁ বহু পুরাতন সেই কাঠের বাংলোটি আজও একই রকম ভাবে রয়েছে। এমনকি বাংলোটিতে প্রবেশের জন্য যে সিঁড়ি রয়েছে সেটাও কাঠ দিয়ে তৈরি। কাঠের উপরে টিন দিয়ে তৈরি যে চালা করা ছিলো, সেটাও তেমনি রয়েছে, কোনো কিছুই পরিবর্তন করা হয়নি।
এরকম একটা ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করতে প্রত্যেকেরই ভালো লাগবে। তবে আরও একটু ভালোভাবে যখন এটাকে মেনটেন করা হবে, বোধহয় পর্যটকেরা গিয়ে আরও অনেক বেশি খুশি হবে। আমরা সেখানে বেশ অনেকটা সময় কাটিয়েছি।
সমস্ত জায়গাটা ঘুরে দেখেছি এবং মাঝেমধ্যে বসে একটু বিশ্রামও করেছি। পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে এইরকম ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা সত্যিই ভালো।
![]()
|
|---|
আগের দিন রাত থেকে জেগে থাকা, পর দিন ভোরে উঠে জার্নি করা এবং অনেকটা পথ পেরিয়ে আমরা পৌঁছেছিলাম এই বেকন বাংলোতে। তাছাড়া যে ঘাটে আমাদের লঞ্চ থেমেছিলো, সেখান থেকে অনেকটাই হেঁটে যেতে হয়েছিলো। এখানে প্রবেশের টিকিট মূল্য ছিলো, জন প্রতি ১০ টাকা।
সেখানে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করার পর আমরা আবার হেঁটে লঞ্চ ঘাটে ফিরে এসেছিলাম। তবে যে লঞ্চঘাটে আমাদেরকে নামানো হয়েছিলো, সেই একই ঘাট থেকে আমাদের লঞ্চে উঠানো হয়নি। আমরা তার পাশের অন্য একটা লঞ্চ ঘাট থেকে লঞ্চে উঠেছিলাম।
![]()
|
|---|
আমাদের সাথে একজন গাইড নেমেছিলো লঞ্চ থেকে। তিনি সকলকে লঞ্চের নাম ও ট্রাভেল এজেন্সের নাম ধরে চিৎকার করে ডাকছিলেন, আর তার ডাক অনুসরণ করেই লঞ্চে যে সকল মানুষ ছিলো প্রত্যেকে গিয়ে লঞ্চে বসেছিলো।
![]()
|
|---|
অবশ্য শুধু আমাদের ট্রাভেল এজেন্সি নয়, প্রত্যেকটি ট্রাভেল এজেন্সির থেকেই এইরকম ভাবেই যাত্রীদেরকে ডেকে লঞ্চে তোলা হচ্ছিলো। লঞ্চঘাটে দাঁড়িয়ে এই বিষয়টি দেখতে বেশ অন্যরকমই লাগছিলো।
এরপর আমরা গিয়েছিলাম আমাদের পরবর্তী ডেস্টিনেশনে, সেখানে আমাদের ঘোরার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো, তা পরবর্তী পর্বে অবশ্যই শেয়ার করবো। আপাতত বেকন বাংলোতে ঘোরার অভিজ্ঞতার এই পর্ব এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন সকলে।






















Hello @sampabiswas , I am so sad to hear that you are feeling a little bit ill but I'm glad that you could still wake up can take us on a trip to the "Bacon Bungalow", and I'm fascinated by your photos because this is indeed a great historical site, if I may ask what is written on the wooden Bacon Bungalow of Sir Daniel Hamilton. It happens that I really like the color of the buddha statue representing the beliefs of the Indian people, and I certainly agree that the Bungalow needs a little bit of renovation to keep it clean and organized. Thanks for giving us such a wonderful review and stay blessed, and I hope you recover soon.
Bravo amigo 👏🏿 &
Steem on!!!
#s34engagement
0.00 SBD,
10.04 STEEM,
10.04 SP